অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২৩তম দিনে অধিবেশন কার্যক্রম শুরু হয়। তবে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ সদস্যদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়। তারপর বিল উত্থাপন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দেওয়া শুরু হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বক্তব্যে দেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দেওয়া শুরু করলেই সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা হট্টগোল করেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে বলেছেন, সামান্য কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি করা ঠিক নয়, এতে জাতীয় সংসদের প্রতি মানুষের সম্মান থাকবে না। পরবর্তীতে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। এরপরে সরকারি দল, বিরোধীদল ও বিজেপির সংসদ সদস্য এই প্রসঙ্গে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না, কোনো শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করতেই পারে না, করলে এটা ডাবল অপরাধ। ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য ঘিরে দেখা দেয় উত্তেজনা। বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই শুরু করলে সরকারি দলের সদস্যরাও প্রতিবাদ জানান।
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের তুলনার বিরোধিতা করে ফজলুর রহমান বলেন, আমি বলব, এই কথাটা বলাই অন্যায়। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে কুয়ার তুলনা করা।
তিনি বিরোধীদলের উদ্দেশে বলেন, তারা বলেছিল, কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। সেইদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলেছিলাম, এই আল বদরের বাচ্চারা, এখনও কিন্তু ফজলুর রহমান জীবিত আছে। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধই সত্য। ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে, এটাও সত্য। আমরা সেদিন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলাম।
ফজলুর রহমান বলেন, অনেক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে ইলেকশন হয়েছে। সেই ইলেকশনে তারা কী করেছে? আজকে যারা আমার ডান দিকে (বিরোধী দল) বসে আছে, তারা কী করেছে? তারা যা করেছে, সেটা কল্পনা করার মতো না। সেই চক্রান্তের ভেতর দিয়ে যখন তারা প্রচার করতে শুরু করল, দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে তারা পাস করবে। আমি ফজলুর রহমান বলেছিলাম, জামায়াত জোট যদি দুই-তৃতীয়াংশ পায়, তাহলে আমি বিষ খাব। তারা কখনো যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে না, রাজনৈতিক যুদ্ধে। তাদের পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশ চায় নাই। যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার বেঁচে থাকবে, ততদিন রাজাকার এদেশে কখনো জয়লাভ করতে পারবে না।
এ সময় বিরোধীদলের সদস্যরা হইচই শুরু করলে ফজলুর রহমান স্পিকারের কাছে আরও পাঁচ মিনিট সময় চান। স্পিকার ৩ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, আমার বক্তব্যের পরে বলবে, আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? যেমন বিরোধী দলের নেতা বলেন, উনাকে আমি অসম্মান করি না, সব সময় মাননীয় বলে কথা বলি। কিন্তু উনার দলের লোকজন এখানে বসে আছে, তারা আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে কথা বলে। তারা নাকি সভ্য, তারা ইসলাম।
এ সময় অধিবেশন কক্ষের সবাই হেসে ওঠেন। এক পর্যায়ে স্পিকার বলেন, আপনাকে কেউ ‘ফজা পাগলা’ এই ধরনের উক্তি করেছে? এ রকম সংসদে কেউ বলে নাই তো।
সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, আমি যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম, বিরোধীদলের নেতা বলেছেন, উনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলাম করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না।
এসময় ব্যাপক হইচই শুরু করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। স্পিকার তখন সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সবাইর প্রতি আহ্বান জানান।
এরপর ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি আবারও বলে রাখলাম, শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করছেন।’
এ বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে একযোগে হইচই ও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ পর্যায়ে ফজলুর রহমান বক্তব্য চালিয়ে যেতে চাইলে বিরোধীদলের সদস্যরা তাদের কণ্ঠ আরো চড়া করে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। এ সময় ফজলুর রহমান বলেন, আমি ওনাদের কিন্তু খারাপ কিছু বলি নাই। তখন স্পিকার ফজলুর রহমানকে বসার এবং একটু অপেক্ষা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। ফজলুর রহমানের বক্তব্যের সময় জামায়াত এবং তাদের মোর্চার শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশের এমপিদের দাঁড়িয়ে হইচই করতে দেখা যায়। সরকারি দলের সদস্যরাও পাল্টা হইচই করেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে সরকারদলীয় এমপিদের দাঁড়াতে ইশারা করলে অনেকেই দাঁড়িয়ে যান।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সবাইকে বসার অনুরোধ করতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সবাইকে বসার অনুরোধ করেন। এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ), আব্দুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান মোজাহিদ নিজ আসনে বসে ছিলেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন। পরে তিনিও বসে পড়েন।
এসময় বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইলে স্পিকার তাকে বলেন, মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা বসুন। আমি বললে তারপর আপনি বলুন। পরে স্পিকার ফজলুর রহমানকে তিন মিনিট সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করার অনুরোধ করেন। তবে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা হইচই করতে থাকলে স্পিকার বলেন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাউকে নির্বৃত্ত করতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে তিনি দাঁড়িয়ে যান। পরিস্থিতি শান্ত হলে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, সারা জাতি দেখছে। লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। সবাই আপনারা নির্বাচিত সদস্য, এখানে সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সদস্য। আমি প্রতিদিনই বলি যে রুলস অফ প্রসিডিউর বইটা একটু পড়েন। সংসদ যদি বিধি মোতাবেক না চলে, তাহলে এই সংসদ আর থাকবে না। সদস্যদের কর্মকাণ্ডে শিশুরাও লজ্জা পাবে।
ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সবকিছু বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি বলে থাকি আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। বলেই তিনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করছেন। দুই নম্বর উনি বলেছেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে উনাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে? আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই।
পরে ফজলুর রহমান আবার বক্তব্য দিতে চাইলে স্পিকার তাকে ফ্লোর না দিয়ে বলেন, এখন আর তো না বললেও চলে। আমরা সংসদ উত্তপ্ত হোক এরকম চাই না। স্পিকার আরো বলেন, ফজলুর রহমানের বক্তব্যে যদি অসংসদীয় কোনো কিছু থাকে, সেটা এক্সপাঞ্জ করা হবে। বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যেও যদি অসংসদীয় কিছু থাকে, সেটিও এক্সপাঞ্জ করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিত্তিতে জাতিকে আর বিভক্ত না করি
পরে ফ্লোর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মুক্তিযুদ্ধ ইস্যু নিয়ে বিভক্তি সৃষ্টি না করার অনুরোধ জানান। সংসদ সদস্য ফজরুল রহমানের বক্তব্যের জের ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য অত্যন্ত বয়স্ক এবং ইতিহাসে সমৃদ্ধ কিন্তু আমরা এখন ভূগোলে আছি, আমরা বেশি ইতিহাস চর্চা করতে গেলে মাঝেমধ্যে কিছু ব্যত্যয় হবে। আর আপনি স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বটবৃক্ষ তিনিও একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মাঝেমধ্যে শুনতে ভালো লাগে যখন বিরোধী নেতা বলেন যে, তিনি শহীদ পরিবারের সন্তান। আমরা এটাকে ধারণ করি। কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী দলে আছে আপনি নিজেই স্বীকৃতি দিয়েছেন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আছে। নতুন করে আমার মনে হয় যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিত্তিতে জাতিকে আর বিভক্ত না করি।
এরপরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য শাজাহান চৌধুরী বলেছেন, আজকে কথা উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে, স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই এই মহান সংসদে মেহেরবানি করে, দয়া করে অতীতের ইতিহাস নিয়ে বর্তমান এই জামাত ইসলামীকে বিশ্লেষণ করে জামায়াত ইসলামীকে দোষারোপ করার চেষ্টা করা আমার মনে হয় মোটেই ঠিক হবে না।
মুক্তিযুদ্ধকে রিপ্লেস করা যায় না
এরপরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ একদিকে আর সবকিছু আরেকদিকে। মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধই। মুক্তিযুদ্ধকে রিপ্লেস করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ একদিকে, আর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যত আন্দোলন হবে সবগুলো অন্যদিকে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু বট বাহিনী দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে মানুষকে ছোট করে আজেবাজে কথা বলে ভাইরাল হয়ে রাজনীতি হয় না। যদি ৭১ সালে ফেসবুক থাকতো, যদি ৭১ সালে সোশ্যাল মিডিয়া থাকতো তাহলে হয়ত দেশ স্বাধীন হতো নাকি আমরা জানি না। এরপরে বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও তার জোটের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি একে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জিয়া পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করা কিংবা রাজপথে আন্দোলনের ডাক দিয়ে আবার সংসদে ভিন্ন সুরে কথা বলা রাজনৈতিক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়। ব্যারিস্টার পার্থের এমন তীব্র আক্রমণের মুখে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান দ্রুত প্রতিবাদ জানান। তিনি পার্থের বক্তব্যের তথ্যের উৎস এবং রেফারেন্স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শফিকুর রহমান স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে যখন কোনো ডকুমেন্ট হাতে নিয়ে আমরা কোনো রেফারেন্স দেব, তা শুড বি ক্লিয়ার অ্যান্ড অ্যাপ্রোপ্রিয়েট। কনফিউজিং ওয়েতে রেফারেন্স প্রেজেন্ট করলে প্রবলেম ক্রিয়েট হয়। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমি এই ধরনের রেকলেস কথা কারো নামেই বলি না। ব্যারিস্টার পার্থ সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য এবং সংসদকে উত্তপ্ত করার উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনছেন বলে দাবি জানান। সংসদ অধিবেশনের এই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সময় স্পিকার উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।
দুর্নীতির প্রমাণ চাইলেন নাহিদ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে নিজের দুর্নীতির প্রমাণ চেয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য উনার বক্তব্যে বললেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগ এবং এই সময় এই জায়গায় তো অন্তর্বর্তী সরকারের আমি ছিলাম। কিছু সময়ের জন্য উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলাম। আরও দুই-একজন ছিলেন। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তো আমি তো নির্বাচনের বহু আগেই পদত্যাগ করে চলে এসেছি। উনাদেরকে এই প্রমাণ দিতে হবে নাহিদ ইসলামের নামে কি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, নাহিদ ইসলাম কোথায় দুর্নীতি করেছেন? আমি সেই প্রমাণ ওনাদের কাছে চাচ্ছি।
‘সাংবাদিকরা বাঁচলে বাংলাদেশের রাজনীতি বাঁচবে’
জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, সাংবাদিকরা বাঁচলে বাংলাদেশের রাজনীতি বাঁচবে। সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ওয়েজ বোর্ড হওয়া দরকার। এখন নবম ওয়েজ বোর্ড চলছে কিন্তু মালিকদের কারণে সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। সাংবাদিকরা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব।
‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পর চাঁদাবাজি হ্রাস পেয়েছে
‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার ফলে এ সকল অপরাধ অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘৃণ্য অপরাধ, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একটি দেশের উন্নয়নে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ মুক্ত সমাজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার একটানা দীর্ঘ ১৫ বছরের অধিক সময় ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনী ভূমি দখল, জল, বালু মহাল দখল, বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বর্তমান সরকার এ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার ফলে এ সকল অপরাধ অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে।
দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে
দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা সেবা যাতে আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেন, বর্তমানে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তথাপি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা সেবা যাতে আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।
জাল নোট নির্মূলে আসছে কঠোর আইন
দেশে জাল নোটের বিস্তার রোধে সরকার একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরির কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই আইনে জাল নোট তৈরি বা আসল মুদ্রার আদলে কিছু তৈরির সঙ্গে জড়িতদের জন্য অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এবং সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের সমন্বয়ে এই অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, জাল নোটের প্রচলন রোধে বর্তমানে খসড়া আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে এবং এটি কার্যকর হলে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। সরকার কেবল নীতিগত নয়, বরং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই সমস্যার সমাধানে সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ভারতীয় ভিসা নিয়ে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা প্রাপ্তি সহজতর হওয়া এবং বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে শিগগিরই তা স্বাভাবিক হওয়ার সুখবর দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করেন, আল্লাহর ভয় তাদের মধ্যে থাকা উচিত
বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশ্য করে শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেছেন, যারা এদেশে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করেন, আল্লাহর ভয় তাদের মধ্যে থাকা উচিত। কারণ আমার মাথায় যদি টুপি আর দাড়ি থাকে, তাহলে অবশ্যই আমার মধ্যে আল্লাহর ভয় থাকতে হবে। মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, আপনাদের পাঁচ নেতাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিস্টকে যদি এই দেশে ডাকেন তাহলে পরবর্তী পালা কিন্তু আপনাদের সন্তানদের।
গণভোটের বৈধতা নিয়ে মুখোমুখি আখতার ও জুনায়েদ সাকি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জাতীয় ঐকমত্য, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের প্রশ্নমালার বৈধতা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অধিবেশনে এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং গণসংহতি আন্দোলনের নেতা ও সংসদ সদস্য জোনায়েদ সাকি একে অপরের বক্তব্যের পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা