অনলাইন ডেস্ক
এ কারণে এ বছরও বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তবে স্থানীয় প্রশাসন দাবি করেছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম চলছে।
গত বছর বরগুনা পৌর শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিটি ঘরেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সদর উপজেলার ২ নং গৌরীচন্না ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসাতলী এলাকার বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। একটিমাত্র ড্রেন রয়েছে, যা নিজেদের উদ্যোগেই পরিষ্কার করতে হয় এলাকাবাসীকে। বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন স্থানে ও অসংখ্য ডোবা-নালায় পানি জমে মশার বংশবিস্তার ঘটে। তবু এ বছর এখন পর্যন্ত এলাকায় মশক নিধন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
শহরের দক্ষিণ মনসাতলীর বাসিন্দা আব্দুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের এলাকায় দিন দিন জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বাড়েনি। ড্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হলে জলাবদ্ধতা কমত, মশার উপদ্রবও কমত এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকিও হ্রাস পেত।
আরেক বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত বছর প্রতিটি ঘরে ডেঙ্গু রোগী ছিল। এ বছর এখন পর্যন্ত জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ কেউই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দ্রুত মশক নিধনের উদ্যোগ না নিলে এ বছরও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।
শুধু ওই এলাকা নয়, বরগুনার কোথাও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই বলে জানান পৌর শহরের বাসিন্দারাও।
পৌরশহরের বাসিন্দা মোর্শেদ সুজন ঢাকা পোস্টকে বলেন, “গত বছর ৫০ জনের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। এ বছর পৌরসভার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় কোনো নজর নেই। আবারও বরগুনা ডেঙ্গু হটস্পট হয়ে উঠবে কিনা তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
আমিনুল ইসলাম নাবিল নামে আরেক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের পর থেকে নাগরিক সেবা ঠিকমতো মিলছে না। শুধু প্রশাসনিক এলাকা ও কর্মকর্তাদের বাসভবনের আশপাশে মশক নিধন হয়, অন্যত্র হয় না। সন্ধ্যার পর মশার কারণে বাইরে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, গত বছর মার্চের পর থেকে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকতেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় বরগুনাকে ডেঙ্গুর হটস্পট ঘোষণা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। জরুরি ভিত্তিতে ১০ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্স পদায়ন করা হয়। ডেঙ্গুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গত বছরের ১৫ জুন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীনের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়।
১৭ জুন সরেজমিন পরিদর্শন শেষে দলটি জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতার অভাব এবং খোলা পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে থাকাই ডেঙ্গু বিস্তারের প্রধান কারণ।
বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন ৯ হাজার ৭৪৯ জন রোগী। এর মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৭ হাজার ৪৩৫, পাথরঘাটায় ১ হাজার ৬৫, তালতলীতে ৩৩৩, আমতলীতে ১৯৪, বামনায় ৪৭৩ এবং বেতাগীতে ২৪৯ জন চিকিৎসা নেন। সরকারি হিসাবে মৃত্যু হয় ১৫ জনের। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ১২, পাথরঘাটায় ২ এবং আমতলীতে ১ জন মারা যান। এছাড়া জেলার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও অন্তত ৪৩ জন।
শনিবার (৯ মে) সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য জানায়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ২৫, পাথরঘাটায় ৪৬, বামনায় ১৪, বেতাগীতে ২ এবং আমতলীতে ৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ জন। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে ডেঙ্গুর মৌসুম শুরুর আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন চিকিৎসক ও সচেতন নাগরিকরা।
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল ঢাকা পোস্টকে বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। গত দুই-একদিনে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন। বৃষ্টি বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নয়, আরও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত বছরের ভয়াবহতা এখনো মনে আছে। এ বছর এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আবারও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা