অনলাইন ডেস্ক
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ ও জাপানের পররাষ্ট্র সচিবেরা বৈঠক করবেন। বৈঠকে ঢাকার পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। টোকিওর পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ডেপুটি মিনিস্টার নামাজু হিরোইউকি।
গত মাসের (জুলাই) শুরুতে ঢাকা সফরে এসেছিল জাপানের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে শিমাদা তোমাকি তাঁকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর জুনে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের চীন সফরের পর জাপান সফরকে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করার পর ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে জাপান সফর। জাপান প্রধানমন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তারা সফর নিয়ে আগ্রহী। দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবেরা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আলোচনা করবেন। আশা করি, এই বৈঠক থেকে জাপান সফর নিয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা আসবে।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ২১-২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সফর করার কথা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের পর টোকিও সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিবদের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির (ইপিএ) অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন- মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এমআরটি বা মেট্রোরেল সহযোগিতা, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি, বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগিতায় (ওডিএ) প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়, এমপ্লয়মেন্ট স্কিল, ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় সহযোগিতা-বিশেষ করে জাপানে কাজ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং জাপানি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া, মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা ইস্যু, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু বিশেষ করে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে একে অপরকে সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করেছেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রায় ছয় মাস হয়েছে। এই সময়ে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে গত কয়েক মাসে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের মনোভাব বুঝতে চাইতে পারে জাপান। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের যৌথ বিবৃতির কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে জাপানের, সেগুলো বৈঠকে তুলতে পারে জাপান।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা