বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিন বুধবার (১৩ নভেম্বর)। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্ম নেন তিনি।
বেঁচে থাকতে জন্মদিনটি ঘিরে পুরো দেশে হুমায়ূনভক্তদের মধ্যে সৃষ্টি হতো বিপুল উন্মাদনা। নানা আয়োজনে দিনভর মুখরিত থাকতো দখিন হাওয়া, নুহাশপল্লীতে।
আজ হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে তার ধানমণ্ডির বাসায় কেক কেটে দিনটি পালন করা হবে। এছাড়া নুহাশ পল্লীতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন হুমায়ূন আহমেদের স্বজনরা।
অন্যদিকে আজ টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও রয়েছে নানা আয়োজন। চ্যানেল আইতে রয়েছে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে শুরু হবে হুমায়ূন মেলা। এতে লেখকের ঘনিষ্ঠজনরা উপস্থিত থাকবেন। দিনব্যাপী এই মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই, নাটকের সিডিসহ অন্যান্য অনেক কিছু পাওয়া যাবে।
গতকাল মঙ্গলবার হুমায়ূন আহমেদের নামে সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করে অন্যদিন পত্রিকা। ১১ নভেম্বর প্রয়াত এ লেখকের জন্মস্থান নেত্রকোনার কেন্দুয়ার কুতুবপুরে তার প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি স্কুলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জন্মদিন পালিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখকের ছোট ভাই অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন।
‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯’ পাচ্ছেন রাবেয়া খাতুন ও সাদাত হোসাইন
স্বাধীনতার পর পর লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন হুমায়ূন আহমেদ। ‘নন্দিত নরকে’ এবং ‘শঙ্খনীল কারাগার’ উপন্যাস দুটি দিয়ে তার যাত্রা শুরু সাহিত্য জগতে। উপন্যাস দুটি পাঠকপ্রিয়তা পেয়ে যায় দ্রুত। বাংলাদেশের সাহিত্যজগতে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো আগমন ঘটে তার। মধ্যবিত্ত ঘরে তিনি লেখক হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান।
‘জোছনা ও জননীর গল্প’ নামে মুক্তিযুদ্ধের বড় ক্যানভাসের উপন্যাস রয়েছে হুমায়ূনের। এটি দিয়েছে ব্যাপক খ্যাতি।
জীবদ্দশায় দুই শতাধিক উপন্যাস লিখে গেছেন হুমায়ূন আহমেদ। তার নতুন উপন্যাস মানেই ছিলো বিক্রির তালিকায় সেরার অবস্থানে। হিমুবিষয়ক বই মানেই পাঠকের হুমড়ি খেয়ে পড়ার মতো অবস্থা। মিসির আলী ছিলো তার সৃষ্ট আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র।
‘কোথাও কেউ নেই’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কবি’, ‘বাদশা নামদার’ ইত্যাদি কতো কতো উপন্যাস, যা পাঠকদের মনকে ছুঁয়ে গেছে।
তাকে বলা হতো কথার জাদুকর। গল্প-উপন্যাস ছাড়াও হুমায়ূন আহমেদ নাট্যকার হিসেবেও ছিলেন প্রবল জনপ্রিয়।
এদেশে কেবলমাত্র হুমায়ূন আহমেদের লেখা নাটকের জন্যই রাজপথে মিছিল হয়েছে। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে বাকের ভাইকে যখন ফাঁসি দেওয়া হবে তখনই ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় মিছিল হয়েছিলো বাকের ভাইয়ের ফাঁসি যেনো না দেওয়া হয়।
টেলিভিশনে মানুষকে নাটকমুখি করার ক্ষেত্রে হুমায়ূন আহমেদের তুলনা তিনি নিজেই। একইভাবে দেশি লেখকের বইয়ের পাঠক সৃষ্টিতেও বিশাল অবদান রয়েছে তার।
নন্দিত লেখক এবং জনপ্রিয় এই নাট্যকার২০১২ সালের ১৯ জুলাই চলে যান অদেখা ভুবনে।
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা