অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ এবং ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির মতো বিষয়গুলোকে সামনে আনে। এর জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ভারতে শেখ হাসিনার আগের প্রকাশ্য উপস্থিতির বিষয়ে দিল্লির অবস্থান ‘‘পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই’’ এবং প্রত্যর্পণের অনুরোধ আইনগত ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবে নয়াদিল্লি সফর করবেন সে বিষয়ে নতুন করে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ভারত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে ঢাকার অংশগ্রহণ নিশ্চিত কি না, এই বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে কোনো হালনাগাদ কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত জানানো হবে।
নতুন কোনো তারিখ নির্ধারিত না হওয়ায় এই দ্বিপাক্ষিক সফর এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশে চরমপন্থী নেটওয়ার্কের সক্রিয়তা এবং এ নিয়ে উভয় দেশের আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল সন্ত্রাসবাদকে উভয় দেশের জন্য ‘সাধারণ অভিশাপ’ বলে মন্তব্য এবং এটি মোকাবিলায় অন্যদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। লাল কেল্লায় সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের দিকেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে জয়সওয়াল ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সীমান্ত অতিক্রম করে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদসহ যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ভারতের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং এই হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক তৎপরতা জোরদারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বিদ্যুৎ কিংবা জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ভারত।
জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের অতিরিক্ত জ্বালানির অনুরোধ ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ চাহিদা, শোধন ক্ষমতা এবং সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের কাছে অতিরিক্ত ৮ হাজার লিটার জ্বালানি চেয়েছে বাংলাদেশ।
সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক জারি রাখতে চায় ভারত।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পানিসংক্রান্ত যেকোনো আলোচনা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি যৌথ নদী রয়েছে এবং পানিসম্পদ সহযোগিতা ও এই সম্পর্কিত আলোচনা যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) এবং নির্ধারিত অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে বজায় থাকবে। এর মাধ্যমে তিস্তা ইস্যুকে অন্যান্য বিষয় থেকে আলাদা না করে পূর্বপ্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর ভেতরেই রাখার ইঙ্গিত দেন তিনি।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা