অনলাইন ডেস্ক
উশাকভ বলেছেন, আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের আগে ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য শনিবার দুই নেতার মধ্যে প্রায় ৯০ মিনিটের ফোনালাপ হয়েছে। আলাপকালে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানের উপায় খুঁজতে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সহায়তার প্রস্তাব দেন ট্রাম্প।
রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উশাকভ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্রুত যুদ্ধ অবসান এবং এই সংকট কাটিয়ে ওঠার সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য আবারও তার প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
এই ফোনালাপকে ‘পেশাদার ও বেশ গঠনমূলক’ হিসেবে অভিহিত করে উশাকভ বলেন, রাশিয়া নিজেদের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় নিয়ে এই সংঘাতের একটি রাজনৈতিক-কূটনৈতিক সমাধান চেয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, শনিবার তিনিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি এবং ট্রাম্প ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সম্মুখযুদ্ধক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লিখেছেন, এই যুদ্ধ শেষ করার একটি বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে আমেরিকার সংকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করবে। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে এই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা।
আগামী ৭ ও ৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় ওই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পসহ ৩২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মঙ্গলবার থেকে আঙ্কারায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিবেচনায় গত কয়েক মাসে রাশিয়া-ইউক্রেনের কোনও পক্ষই তেমন অগ্রগতি করতে পারেনি। এর বড় কারণ ড্রোন ব্যবহার; যা ভারী সামরিক যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি এবং উভয় পক্ষকেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলছে।
ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত ও তীব্র করার এবং বেসামরিক নাগরিকের ওপর সন্ত্রাসবাদের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ করেছেন উশাকভ কিয়েভ। রাশিয়ার তেল শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলার দিকে ইঙ্গিত করে ওই অভিযোগ করেন তিনি। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
উশাকভ বলেন, পুতিন ট্রাম্পের কাছে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছেন, যেখানে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে এবং একের পর এক এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে।
এর আগে, রুশ কমান্ডাররা শুক্রবার পুতিনকে জানিয়েছিলেন, মস্কোর সৈন্যরা পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কোস্তিয়ান্তিনিভকা শহর দখল করেছে। তবে শনিবার জেলেনস্কি এবং ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, শহরটি এখনও কিয়েভের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
গত মাসে পুতিনকে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তবে ক্রেমলিন প্রধান তা প্রত্যাখ্যান করেন।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা