রোমেনা আফাজের জন্ম ১৯২৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর। বগুড়া জেলার শেরপুর শহরের এক মুসলিম পরিবারে। তাঁর পিতা কাজেম উদ্দিন আহম্মদ একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর ছিলেন। মাতা আছিয়া খাতুন ছিলেন সাহিত্য অনুরাগী।
বগুড়া জেলার সদর থানার ফুলকোর্ট গ্রামের ( বর্তমান শাহজাহান পুর থাকা) এক মুসলিম পরিবারের ডা. মো. আফাজ উল্লাহ সরকারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি ছিলেন বগুড়া ডেমাজানী হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশিষ্ট সমাজসেবি।
৯ বছর বয়সে থেকেই রোমেনা আফাজ তার লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রথম লেখা বাংলার চাষী ছড়া দিয়ে শুরু করেন। ছড়াটি কলকাাতর মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তারপর ছোট গল্প, কবিতা, কিশোর উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস, গোয়েন্দা সিরিজ, রহস্য সিরিজ। বর্তমানে তার লিখিত বইয়ের সংখ্যা ২৫০ টি। এরমধ্যে ৬ খানা উপন্যাস চলচ্চিত্রে রুপায়িত হয়েছে। সেগুলো হলো কাগজের নৌকা, মোমোর আলো, মায়ার সংসার, মধুমিতা, মাটির মানুষ, দস্যু বনহুর।
তার লেখার প্রশংসা করে ১৯৬৬ সালে লন্ডনে আওয়ার টাইম পত্রিকা রোমেনা আফাজের ডিটেকটিভ উপন্যাসের সমালোচনা করে তাকে পাকিস্তানের আগাথা ক্রিস্টি বলে উল্লেখ করেন।
লেখিকা বাল্য জীবন কাটিয়েছেন কলকাতা, বীরভূম, মেদিনীপুর, চন্দনপুর, লক্ষৌ, দিল্লি, আগ্রা এবং আজমীর শরীফে।
তিনি ৯ সন্তানের জননী। তার ২ মেয়ে, সাত ছেলে।
তিনি একজন প্রতিভাময়ী লেখকই নন, তিনি একাধারে লেখিক, সমাজসেবী, আদর্শ গৃহিনী এবং মমতাময়ী মা।
তিনি ৩৭ টি সামাজিক সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানেের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য পয়েছেন স্বাধীনতা পদক (২০১০)সহ মোট ২৭টি পুরস্কার।
২০০৩ সালের ১২ জুন ৭৭ বছর বয়সে গুণী এই সাহ্যিতিক, মৃত্যুবরণ করেন। ভাইপাগলা মাজার কবরস্থানে মসজিদের পার্শ্বে তার কবর রয়েছে।
তার স্মৃতি রক্ষার্থে বগুড়ার সাহিত্য প্রেমীরা রোমেনা আফাজ স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছে। রোমেনা আফাজ স্মৃতি পরিষদের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে তার স্বহস্তে লেখা বিভিন্ন পান্ডুলিপি, প্রকাশিত গ্রন্থাবলী, তার ব্যবহৃত তৈজসপত্র, বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণকালে তার চিত্রকর্ম রয়েছে। এটি বগুড়া শহরের জলেশ্বরী তলায় রোমেনা আফাজ স্মৃতি সড়কে অবস্থিত।
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা