অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা-ব্রাসেলসের কূটনীতিকরা বলছেন, ইউরোপের ২৭ দেশের জোট ইইউর সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট সইয়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি করার ক্ষেত্রে আরেক দফা অগ্রসর হবে ঢাকা। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যে পিসিএ চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সম্মতিতে ঢাকা কিংবা ব্রাসেলসে শীর্ষ নেতাদের সফরে চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের উপলক্ষ্য নির্ধারণ হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তরা জানিয়েছেন, ইইউর আমন্ত্রণে পিসিএ-এর ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট সই করতে আগামী ১৯ এপ্রিল তুরস্ক থেকে ব্রাসেলস যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। আগামী ২০ এপ্রিল ব্রাসেলসে পিসিএ-এর ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট সই হবে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন এক কূটনীতিক জানান, পিসিএ নিয়ে দরকষাকষি শেষ। এখন যেটা হচ্ছে রাজনৈতিক সম্মতি। আমরা এটা করতে রাজি আছি, তারাও রাজি। এটা নিয়ে গত এক বছরে সিরিজ বৈঠক হয়েছে, টেক্সট চালাচালি হয়েছে, দরকষাকষি হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারিতে আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ চুক্তিটির খসড়া চূড়ান্ত করেছে। তখনই ইইউ প্রারম্ভিক চুক্তি করার জন্য আমাদের ইঙ্গিত দিয়েছিল। ইইউ বলছে, আমরা প্রারম্ভিক চুক্তিতে যেতে পারি, তোমরা আস; আমরাও রাজি হয়েছি। এখন যেটা হবে, এটাকে ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট।
চূড়ান্ত চুক্তি হতে আরও সময় লাগবি জানিয়ে এ কূটনীতিক বলেন, সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে চুক্তি হতে আরও সময় লাগবে। এটার আরও দাপ্তরিক অনেক কাজ বাকি আছে। বিশেষ করে ইইউ অংশে বাকি আছে, ওদের প্রতিটি দেশের মতামত লাগে। আমরাও কাজ করছি। সব কাজ শেষ হয়ে গেলে চূড়ান্ত চুক্তি সই করার ক্ষেত্রটা দু’রকম হতে পারে। একটা হতে পারে আমাদের এখান থেকে শীর্ষ কোনো নেতার সফরের মধ্য দিয়ে, অথবা তাদের ওখান থেকে শীর্ষ কারও সফরের মধ্য দিয়ে হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ব্রাসেলস সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিনসেন্ট ভ্যান পিটগিম, ইউরোপীয়ান কমিশনের কমিশনার ফর রিসার্চ একেতেরিনা জাহারিয়েভা ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ডেভিড ম্যাকালিস্টারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও বিকাশের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নতুন করে ইইউ–বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। ব্রাসেলসে ওই অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন উপস্থিত ছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির প্রথম দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় পিসিএ চুক্তির আলোচনা স্থগিত করেছিল ইইউ। পরবর্তী সময়ে ইইউ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পিসিএ সই করার সিদ্ধান্ত নিলে নভেম্বরে ঢাকায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল। এরপর ব্রাসেলসে গত বছরের এপ্রিলে (২০২৫) পিসিএ নিয়ে বাংলাদেশ ও ইইউর উচ্চপর্যায়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সবশেষ, পিসিএ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে (২০২৬) আরেক দফা ঢাকা ও সিলেটে আলোচনা হয়। সেসময় আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ চুক্তিটির খসড়া চূড়ান্ত করেছে।
সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, সম্পর্কের শুরুতে ইইউ ছিল বাংলাদেশের কাছে দাতাগোষ্ঠী (উন্নয়ন অংশীদার), যা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। ২০০১ সালে ইইউর সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করে বাংলাদেশ। সেই চুক্তিতে অর্থনীতি, উন্নয়ন, সুশাসন কিংবা মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইইউ–বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। কয়েক দাফে আলোচনা ও দরকষাকষির পরে উভয় পক্ষ একটা অবস্থানে এসেছে। এখন আমরা ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট করব। পরবর্তী সময়ে আমরা চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করব।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বৃহস্পতিবার আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে অংশ নিতে তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিন দিনব্যাপী ফোরামে অংশ নেওয়ার পর তিনি ব্রাসেলস যাবেন। সেখানে বাংলাদেশ ও ইইউর অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতাবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট সই অনুষ্ঠানে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পিসিএ হলো-আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি, যা ইইউ ও একটি অংশীদার দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি রূপরেখা প্রতিষ্ঠা করে। অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে ইইউ অংশীদার দেশগুলোতে রাজনৈতিক সংলাপ, শান্তি ও নিরাপত্তা, সুশাসন ও মানবাধিকার, বাণিজ্য, অর্থনীতি, আর্থিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয় এর মধ্যে থাকে।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা