অনলাইন ডেস্ক
শ্রমিকদের প্রধান দাবি, মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। পাশাপাশি বকেয়া বেতন পরিশোধ, যথেচ্ছ ছাঁটাই বন্ধ, কালো তালিকাভুক্তির চর্চা বন্ধ এবং কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে। আন্দোলনের মুখে আজ ১ নভেম্বর নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। তবে বোর্ড গঠনের ঘোষণার পরও শ্রমিকদের বিক্ষোভ থামেনি। ফলে বোর্ড গঠনের মধ্য দিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের অবসান কতটা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শ্রমিকদের অন্যান্য দাবি-দাওয়াও এখন দর কষাকষিতে শক্ত অবস্থান নিতে পারে।
বর্তমানে দেশের পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা কার্যকর হয় ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে। এরপর খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান মজুরিতে পরিবার নিয়ে শহরে বসবাস এবং ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শ্রমিক নেতারা বর্তমান মজুরিকে অপর্যাপ্ত মনে করছেন। এ ছাড়া শ্রম আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। ফলে নতুন মজুরি পর্যালোচনার বিষয়টি এমনিতেই সরকারকে বিবেচনা করতে হতো।
গতমাসের (অক্টোবর) শুরুতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ থেকে প্রথম ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জানানো হয়। ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। না হলে দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এর মধ্যেই শ্রমিক সংগঠনগুলো এ বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। শ্রম আইনের সংশোধনের পর তিন বছর মেয়াদে মজুরি পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এ দাবি আরও জোরালো হয়। কিন্তু বোর্ড গঠনের চূড়ান্ত ঘোষণা না আসায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। তখন শ্রম অধিদপ্তর মজুরি বোর্ডের প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছে চিঠি পাঠায়।
সড়কে শ্রমিক, বন্ধ কারখানা
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন রোববার (১ নভেম্বর) ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরে। এর আগের দিন ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।প্রথম দিন ৩১ অক্টোবর মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকেরা বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সেসব জায়গায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিন আশুলিয়া ও গাজীপুরে প্রায় ৫০টি কারখানা এবং মিরপুরের প্রায় সব পোশাক কারখানায় কাজ বন্ধ ছিল। আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ শ্রমিক ও পথচারীদের কয়েকজন আহত হন। অন্যদিকে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকেরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
২য় দিন আজ সকাল আটটার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। পরে মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। পরে দুপুরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে একই সময়ে সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম, টাউজার লাইন ও নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অন্য কারখানার শ্রমিকেরাও আন্দোলনে যোগ দেন। দুপুর ১২টার দিকে নরসিংহপুরে অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিলে তাদের সরানোর চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। বিকেল পাঁচটার দিকে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে গাজীপুরের পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকে আন্দোলন করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে সড়কে কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন দেওয়া হয়। যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের পাশাপাশি পুলিশ বক্স ও একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ অবস্থায় নিরাপত্তার কারণে ১০০টি কারখানা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা