অনলাইন ডেস্ক
সংসদকে ‘আগের কালচারে’ ফিরিয়ে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তড়িঘড়ি আলোচনা সুযোগ নেই।
রোববার (২৯ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমার পয়েন্ট অব অর্ডার হচ্ছে– প্রথমে মাননীয় স্পিকারকে অনুরোধ করেছিলাম সেদিন, যেদিন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এই একই বিষয়টা উত্থাপন করেছিলেন, যে উনাকে নোটিশ দিতে বলেন। এটার নোটিশের প্রয়োজন আছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই বিষয়ে আপনি আলোচনা করে ফয়সালা দিবেন। বিধান হচ্ছে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব। রুলস অব প্রসিডিউরের ৬২ বিধি অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে, একটি কপি সৌভাগ্যক্রমে আমি এখানে পেয়েছি। টেবিলে মুলতবি প্রস্তাবের বিষয় লিখেছে ‘সাম্প্রতিক ও জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য এই সংসদের কাজ এখন মুলতবি করা হোক’।
নোটিশের কারিগরি ত্রুটি তুলে ধরে তিনি বলেন, নোটিশ তো আপনি দিতে পারবেন জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। কিন্তু জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিতে গেলে তো আপনাকে বিধি ৬৮-তে যেতে হবে। দিস ইজ মাই পয়েন্ট অব অর্ডার। এবং সেখানে আপনি সময় পাবেন আধা ঘণ্টা আলোচনার। এখন যদি আপনি সংশোধন করতে চান, সংশোধন করতে পারেন। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে সংশোধিত নোটিশ আবার দিতেও বলতে পারেন; আপনার রাইট আছে। ইউ আর দ্য লর্ড অব দি হাউস। আপনি এই পার্লামেন্টে সবকিছু সংশোধন করতে পারবেন। সেই হিসাবে যদি আপনি এখতিয়ার প্রয়োগ করেন, তাহলে উনি আবার নোটিশ প্রদান করতে পারেন অথবা আপনি সংশোধিত আকারে নিতে পারেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি আপনার (স্পিকার) প্রটেকশন চাচ্ছি। আপনি বিরোধীদলীয় সদস্যদেরকে ফ্লোর দিবেন অসুবিধা নাই, কিন্তু লেট মি স্পিক। আমরা যেন আগের কালচারে ফেরত না যাই। আপনি যদি আমাকে সময় না দেন তাহলে আমি বসে যাব, এটাই বিধি। আমি ফর্মুলেট করছি মাননীয় স্পিকার। বিধিতে উনি যে নোটিশটা দিয়েছেন, আপনি দেখেন– আপনার সামনে তো কিতাব আছে, রুলস আছে, পার্লামেন্টের অবিসাররা আছেন। আপনি যদি ৬২ বিধিতে এই নোটিশটা গ্রহণ করেন, তাহলে আপনাকে সংশোধিত আকারে গ্রহণ করতে হবে অথবা আপনাকে বলতে হবে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, আপনি ৬২ রুলসে আবার একটা নোটিশ কারেকশন করে দেন। এটা হচ্ছে আমার ফার্স্ট পয়েন্ট অব অর্ডার।
মুলতবি প্রস্তাবের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মাই সেকেন্ড পয়েন্ট অব অর্ডার– মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এই মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। যদি ধরি উনি রাইটলি ৬২ বলছেন, তাহলে উনি শুধু উনার প্রস্তাবটা উত্থাপন করতে পারবেন। এখানে আপনি জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংস্কার আদেশ, বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫– এই পুরোটা পড়ার তো মাননীয় স্পিকার কোনো সুযোগ নেই। এটা আপনি যদি ডিবেটের জন্য দিন নির্ধারণ করেন, আগামীকাল বা পরশু করবেন, সেদিন আলোচনা হতে পারে।
আইনি বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার এনাদার পয়েন্ট অব অর্ডার হচ্ছে, বিধি ৬৩-তে আপনি দেখবেন যে, এমন কোনো প্রস্তাব নিয়ে আপনি আলোচনা আনতে পারবেন না যে প্রস্তাবে প্রতিকার কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে হতে পারে। এখানে এটার প্রতিকার তো সংবিধান সংশোধন এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই হবে। ইট ইজ নট আ সিম্পল ডিবেট অন রিসেন্ট ইস্যুজ। সাধারণত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব হয়। কিন্তু এটা তো আইন প্রণয়নের সাথে জড়িত। বিধি ৬৩-তে বলা আছে যে বিষয়গুলো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সমাধান হতে পারে, সে সমস্ত বিষয় মুলতবি প্রস্তাবের জন্য আসতে পারে না।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা