অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপ পরবর্তী ফিফার প্রথম উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচটি মেসির বিদায়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে শেষ প্রীতি ম্যাচটিতে ৩-০ গোলে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির দল। যেখানে বিদায়ী মহাতারকা মেসি জোড়া অ্যাসিস্ট ও একটি গোল করে উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি ছাড়াও গোল করেছেন আরেক বিদায়ী তারকা নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজ।
বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক জানিয়েছেন, শেষ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তারা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় দলকে ঘিরে বাইরের সমালোচনা ও আক্রমণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সতীর্থদের। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে বহুল প্রতীক্ষিত বক্তব্যে আবারও নিজের বাগ্মিতা ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ রেখেছেন ক্যারিয়ারজুড়ে স্বল্পভাষী লিওনেল মেসি।
মঙ্গলবার মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে দেওয়া বক্তব্যে তাকে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক এমনকি সতীর্থদের চেয়েও বেশি সংযত মনে হয়েছে। মেসির কথা শুনতে শুনতে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন এনজো ফার্নান্দেজও। বক্তব্যে শেষ বিশ্বকাপে কী ঘটেছিল, তা নিয়েও নিজের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পাশাপাশি ভবিষ্যতের কঠিন সময় মোকাবিলায় দলকে শক্ত থাকার বার্তা দেন তিনি।
মেসি বলেন, ‘আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। তবে মনে হচ্ছে বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়। শেষ বিশ্বকাপটা আমার জন্য সত্যিই অনেক বেশি কঠিন ছিল। আমরা আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। খুব কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছি। সত্যি বলতে কিছু মানুষ যেভাবে বলছেন, তেমন অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। আমরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়েছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শারীরিক ও মানসিক– দুই দিক থেকেই আমাদের ভীষণভাবে নিঃশেষ করে দিয়েছিল। বাস্তবতা হলো, আমরা কোনোমতে সেই ধকল সামলে উঠি।’
এরপর জাতীয় দলে নিজেদের লড়াইয়ের কথা আরও বিস্তারিত জানান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, ‘এই জার্সি গায়ে আমরা সব সময় যেভাবে লড়াই করেছি, এবারও সেভাবেই লড়েছি। যেসব সতীর্থের সঙ্গে খেলেছি, লড়াই করেছি তাদের সবাইকে নিয়েই। শুধু তাদের সঙ্গে নয়, যারা আমাদের শিরোপা জয়ের সময় দলে ছিল, তাদের সঙ্গেও লড়েছি। এর আগেও আমরা লড়াই করেছি, যদিও দুর্ভাগ্যবশত তখন চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলাম। তবে আমার পাশে থাকা প্রত্যেক সতীর্থই এই জার্সির জন্য নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
বক্তব্যের শেষ দিকে বাইরের সমালোচনা ও আক্রমণের মুখে দলের ঐক্য ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সম্ভাব্য সব জয় করা মেসি, ‘এটা অনেকবার প্রমাণিত হয়েছে, আমরা যখন একসঙ্গে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকি, তখন যে কারও চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠি। যেকোনো বাধা অতিক্রম করার সামর্থ্যও আমাদের থাকে। সামনে নিশ্চিতভাবেই কঠিন সময় আসবে। কারণ এতদিন ধরে আমরা যা করেছি, তা স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। সেই কঠিন সময়ে আমাদের আরও বেশি করে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সমর্থন দিতে হবে।’সতীর্থদের সঙ্গে শেষ আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে মেসি আরও বলেন, ‘আমি তাদের সব সময় যা বলি, আমাদের শেষ আলোচনাতেও তা-ই বলেছিলাম– বড় লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হয়। কারণ এমন কিছু মানুষ আছে, যারা জাতীয় দলকে ব্যর্থ হতে দেখতে চায়। আমরা তাদের সন্তুষ্ট দিতে পারি না। কঠিন ও প্রতিকূল সময়েই একটি দলের প্রকৃত শক্তি বোঝা যায়। দলের মধ্যে দৃঢ় ঐক্য না থাকলে সাফল্য অর্জন করা খুব কঠিন। আর আমি আপনাদের বলছি, আমরা ছিলাম অসাধারণ একটি দল। সে কারণেই এত কিছু অর্জন করতে পেরেছি।’
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা