অনলাইন ডেস্ক
শুরু থেকেই ইনকিলাব মঞ্চ দাবি করে আসছে দেশীয় চক্রের সহযোগিতায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে। সেই দাবি এখন আবার ডালপালা মেলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও প্রধান গণমাধ্যমগুলোতে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
ইনকিলাব মঞ্চ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য এটিই ইঙ্গিত করে যে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এমন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে, যার পরিচয় প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
সংগঠনটি বলছে, ওসমান হাদিকে কেবল আওয়ামী লীগ-বিরোধী অবস্থানের কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে ধরে নিলে ভুল হবে। এই হত্যাকাণ্ডে ভারতের কোনো ভূমিকা ছিল কি না তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তারা বলছে, হত্যাকাণ্ডের পরপর সীমান্ত সিল করার কথা থাকলেও তা করতে রহস্যজনকভাবে ব্যর্থ হয়েছে তখনকার সরকার।
ওসমান হাদি হত্যা মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করে। বর্তমানে এটি অধিকতর তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এই বক্তব্য তদন্তের জন্য কতটা প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ, তা খতিয়ে দেখবে সিআইডি। এ বিষয়ে সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান এবং নতুন যেকোনো তথ্য সামনে এলে তা আমলে নিয়ে আরও গভীরভাবে তদন্ত চালানো হবে।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, হাদি হত্যাকাণ্ডের পর মূল অভিযুক্তরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মেঘালয় হয়ে কলকাতায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) কর্তৃক গ্রেপ্তার হয় তারা। এই তিন আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অনেক অজানা তথ্য ও রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে। তাদের ফিরিয়ে আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবারও চিঠি পাঠানো হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। এজন্য প্রায় এক বছর আগে থেকে শুরু করেছিলেন অভিনব প্রচারণা। এর মধ্যেই গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলি করে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
এ বছরের ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ থেকে হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা