অনলাইন ডেস্ক
তিনি বলেন, আমরা ১৩ তারিখ থেকে আল্লাহ তায়ালার নিকট একটা নতুন বাংলাদেশ চাই। অভিশাপ মুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমার মায়ের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। শিশুদের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। আবাল বৃদ্ধ বনিতার জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। সেই বাংলাদেশ চাইলে এখন থেকে দুটি ভোটের ব্যাপারে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই হচ্ছে আজাদি, ‘না’ ভোট মানে হচ্ছে গোলামি। ১২ তারিখ ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে। প্রথম ভোট ‘হ্যা’। এর পরের ভোটটা হবে ইনসাফের পক্ষের।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনেকেই পুরাতন ফ্যাসিবাদের অ্যাপ্রোন গায়ে দিতে চায় উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, যুব সমাজ জানিয়ে দিয়েছে, আমরা বস্তাপচা ওই পুরাতন বন্দোবস্ত চাই না। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ সচেতন, শিক্ষিত, সুশিক্ষিত ও উচ্চ শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা তাদের রায় দিয়ে বলে দিয়েছে আমরা এখন ইনসাফের পক্ষে, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে, আমরা এখন ঐক্যের পক্ষে, বিভক্তির পক্ষে নই।
বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, আশ্চর্য বিষয় আমাদের একটা বন্ধু সংগঠন, তারা ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা করেছেন এবং এটাও বলেছেন এটা মায়ের হাতে দেবেন। তারা একদিকে দিচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড, আর একদিকে দিচ্ছেন আমার মায়ের গায়ে হাত। এই দুইটা একসাথে চলে না। আমরা অনুরোধ করবো নিজের মাকে সম্মান করুন। যদি আপনি নিজের মাকে সম্মান করতে পারেন তাহলে গোটা মায়ের জাতিকে সম্মান করতে পারবেন। আর যদি নিজের মাকে সম্মান করতে না পারেন, আপনি বাংলাদেশের একজন নারীকেও সম্মান করতে পারবেন না।
শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয়েছে, মাথা গরম হয়ে গিয়েছে। জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখুন। অতীতে জনগণের রায়ের প্রতি যারা সম্মান করেনি তাদের পরিণতি কী হয়েছে তার থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত। জনগণের গায়ে হাত দিতে পারবেন, পিঠে চাবুক মারতে পারবেন কিন্তু জনগণের হৃদয়-কলিজায় জায়গা করতে পারবেন না। হৃদয় কলিজা জয় করতে হলে সকলকে তার নিজ নিজ জায়গায় সম্মান দিতে হবে। বিশেষ করে মায়ের জাতিকে।
তিনি বলেন. আমাদের কথা একেবারে স্পষ্ট জীবন দিব, আমার মায়ের ইজ্জত দেব না। মায়ের ইজ্জতের জন্য লড়ে যাব। সুতরাং কেউ এই অপকর্ম করবেন না। যারা করেছেন, তওবা করে নেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে মাফ চেয়ে নেন। তিনি চাইলে মাফ করে দিতে পারেন। আল্লাহ আপনাকে মাফ করে দিতে পারেন। কিন্তু সেই কালো হাত আর যদি সামনে বাড়ানোর চেষ্টা করেন, আমরা গালে হাত দিয়ে বসতে পারবো না ভাই। আমরা কারও পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধাতে চাই না। কিন্তু কেউ ঝগড়া বাঁধাতে আসলে ছেড়েও দেওয়া হবে না।
জামায়াতের আমির বলেন, আমরা কর্মক্ষেত্রে মামা, খালুর হিসাব-নিকাশ নেব না। ওই টেলিফোন আমাদের কাছে অচল। আমরা ইনসাফের ভিত্তিতে যার পাওনা তার হাতে তুলে দেব। এমনকি আমরা এটাও দেখবো না, একজন উপযুক্ত নাগরিক তিনি কোন ধর্মে বিশ্বাসী। আমরা দেখবো তিনি এই কাজের জন্য উপযুক্ত কিনা। তিনি যদি উপযুক্ত ব্যক্তি হন তাকে তার সম্মানের জায়গা উপযুক্ত স্থানে বসিয়ে দেওয়া হবে।
যুবকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, যুবক বন্ধুরা তোমরা বুক চিতিয়ে লড়াই করে আমাদেরকে মুক্তি এনে দিয়েছো, তোমাদেরকে মোবারকবাদ। কিন্তু আমরা তোমাদের হাতে বেকারের ভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চাই না। আমরা তোমাদের প্রত্যেকটি যোদ্ধার হাতকে কর্মী এবং কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই। যুবক-যুবতীদের হাতে মর্যাদার সেই কাজগুলো তুলে দিতে চাই। সেদিন তুমি গর্ব করে বলবে আমি আমার নতুন বাংলাদেশের একজন গর্বিত কারিগর। আমারও অবদান আছে, আমি বসে বসে বেকার ভাতা খাই না। বরং আমি আমার জাতিকে দিতে চাই। আমরা এই ভাবেই আমাদের যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে একদিকে দেশ গড়া, আর একদিকে তাদেরকে সম্মানিত করতে চাই। যদি এটা আমরা পারি তাহলে বিপ্লবে তোমাদের ভূমিকার কিছুটা হলেও ঋণ পরিশোধ করতে পারলাম বলে সান্ত্বনা পাবো।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা