অনলাইন ডেস্ক
বুধবার সকালে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ উদ্বোধন শেষে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। ইনানীর নয়নাভিরাম সমুদ্রসৈকতে চার দিনের এই আয়োজন উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। বাংলাদেশসহ ২৮ দেশের নৌসেনারা এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো যুদ্ধই মানবজাতির জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমরা নিজেরা দেখেছি। বর্তমানে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতা, বীভৎসতা আপনারা অবলোকন করতে পারেন, অনুভব করতে পারেন। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আন্তর্জাতিক মহলেও সকলকে এই আহ্বান জানিয়েছি, যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কোনো সমস্যা থাকলে শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই নীতি মেনেই আমরা সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে এই নীতিমালা মেনে চলি। আমাদের নিকট প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক সব দেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। সংঘাত নয়, সমঝোতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব’ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করা হচ্ছে যুদ্ধ করার জন্য নয়। আমাদের লক্ষ্য শান্তি বজায় রাখা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।’
ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই সমাধান করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানার সমস্যাও সমাধান করেছি। আমাদের সমুদ্রসীমা আইন ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব করে গিয়েছিলেন। জাতিসংঘ করেছে তার অনেক পরে। আওয়ামী লীগ ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা প্রথম এই ক্লজে সই করি। আর দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর আমরা এই সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করি।’
ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি দেশ আরেকটি দেশের সঙ্গে এতটা শান্তিপূর্ণভাবে ভূমি বিনিময় করতে পারে, তার একটি বিরল দৃষ্টান্ত আমরা স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।’
শান্তি সমৃদ্ধি এনে দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমসাময়িক সময়ে ভারতীয় মহাসাগরের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববাণিজ্যের ৯০ শতাংশই এই সমুদ্র পথে চলে। অবাধ বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থেই সমুদ্রকে নিরাপদ রাখতে হবে। চলাচল নিরাপদ রাখতে হবে।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমদের সরকার সমুদ্র সম্পদের অপার সম্ভাবনা উপলব্ধি করে বাংলাদেশের সামুদ্রিকখাতের উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে, সমৃদ্ধ অর্থনীতি কেবল তখনই সম্ভব, যখন আমরা সমুদ্রে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারব। সেই লক্ষে আমরা সমুদ্র রক্ষায় পরিকল্পিত সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের নৌবাহিনীকে আধুনিকায়ন করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবাধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করার জন্য নিরাপদ সমুদ্র অপরিহার্য কারণ, বর্তমানে বিশ্বের ৯০ শতাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথ দিয়ে হয়। আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক সীমানার মাধ্যমে আমাদের সকল দেশ বিভক্ত হলেও বন্ধুত্বের সেতু বন্ধনে সমুদ্র উপকূলীয় সকল দেশের সঙ্গে আমরা একই সূত্রে গাঁথা।’
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা