বন্ধু, স্বজন, সতীর্থদের শ্রদ্ধা, ভালবাসা এবং চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষক, কবি, স্থপতি এবং দেশের মরণোত্তর দেহ ও অংগদানে সহায়ক সংগঠন ‘মৃত্যুঞ্জয়’ এর প্রতিষ্ঠাতা-সংগঠক রবিউল হুসাইন।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাকে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। এসময় তার কফিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
তার সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, রবিউল নিজেকে কখনোই বড় ভাবেনি। সবসময় কাজ করে গেছে। সে অনেক রসিক একজন মানুষ ছিল।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারোয়ার আলী বলেন, তিনি কবি হিসেবে বিশিষ্ট ছিলেন। তার ক্ষেত্র ছিল স্থাপত্যবিদ্যা। সেখানে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেছেন আজীবন। তিনি এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন ভাবতে পারিনি।
সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু বলেন, আমি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়েই যে কয়েকজনকে স্থপতি হিসেবে পাই, তার মধ্যে তিনি অন্যতম। স্থাপত্যকলা, শিল্প সকল অঙ্গনে তিনি তার অবিস্মরণীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ছিলেন সংস্কৃতিবান, রুচিবান এবং মৃদুভাষী। তিনি জীবনকে উদযাপন করতে চেয়েছেন। জীবনকে উল্লাস হিসেবে গ্রহণ করেই তিনি চলে গেলেন। আমরা যেন তার মতো উল্লাস করেই জীবন থেকে বিদায় নিতে পারি।
তার পারিবারিক বন্ধু রোকেয়া খাতুন বলেন, উনার সঙ্গে আমরা পারিবারিকভাবে ভীষণ ঘনিষ্ট ছিলাম।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, রবিউল ভাইকে কেউ কেউ আদর করে রবীদা বলে ডাকতেন। বহু মানুষের অন্তর তিনি ছূঁয়ে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে তিনি একজন জ্যোতির্ময়ের মতো ছিলেন। তিনি যেসব কাজ করে গেছেন সেগুলো বর্ণনা করে শেষ করা যাবেনা। ব্যক্তিজীবনে অনেক দু:খ কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন কিন্তু তিনি কর্মজীবনে সাফল্যকে অর্জন করে নিয়েছেন।
রবিউল হুসাইনের ছোট ভাই টি আই এম তারিক হোসেন বলেন, উনি বড় ভাই হলেও বাবার মতোই ছিলেন। আমরা ছোটবেলা থেকেই তাকে সব ধরণের সমস্যার কথা বলতে পারতাম। তিনি থাকাতে আমরা কখনোই বাবার অভাব অনুভব করিনি। তিনি আমরা ছোট হওয়ার পরও যে শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন তা বলার বাইরে। তার জীবনে যে এত ভক্ত ছিল সেটা আমরা চিন্তা করিনি। এখানে আপনারা সবাই তাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন দেখে আমাদের খুব ভাল লাগছে। আমরা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, তিনি চলে যাওয়ায় তার কাজের ক্ষেত্রগুলোতে বড় ধরণের শূন্যতা তৈরি হলো। তার একটা কবিতার লাইন ছিল এমন – মানুষের অপমান হলে রাষ্ট্রের অপমান হয়। সেই অপমান যেন কখনো রাষ্ট্রকে হতে না হয় আমরা সেটাই চাইব।
তার শিক্ষার্থী পুতুল বলেন, স্যার যেখানেই থাকুন ভাল থাকুন এই প্রত্যাশা সবসময়।
এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, ঝিনাইদহ জেলা সমিতি, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠন। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বুবলবুল মহলাবনবীশ, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক শামিমা চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব- বিশিষ্ট সাংবাদিক কামাল লোহানী এবং আবেদ খান, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস এর প্রেসিডেন্ট জালাল আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ও অধ্যাপক-কবি হারিসুল হক, কবি আসলাম সানী, কবি কামালা পাশা চৌধুরী, কবি নাজমা আক্তার, নাট্যকর্মী অলোক বসু, পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ সামাদ এবং সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত প্রমুখ।
দুপুরে জোহর নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিউল হুসাইনের মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান ও কার্ডিওলজির অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক বলেন, তার মৃত্যু একলাস্টিক এনিমিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি রক্তের প্ল্যাটিলেট কমে যাওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আরও পড়ুন : কবি, স্থপতি রবিউল হুসাইনের মৃত্যুর কারণ বর্ণনা করলেন ডা. হারিসুল হক
ফেসবুক পেজ :
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, লাল সবুজের কথা ডটকম।
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা