অনলাইন ডেস্ক
এ সময় স্থানীয় মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘শিক্ষার্থীরা গ্রামবাসীর ওপর হামলা করেছে। যে যেখানে আছেন না কেন সকলেই লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় চলে আসেন।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নিরাপত্তাকর্মীসহ ৮ শিক্ষার্থী আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। গ্রামবাসীসহ আহত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান নামে এক শিক্ষার্থীকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে পোস্ট অপারেটিভ রুমে রাখা হয়েছে।
রোববার (৫ নভেম্বর) আশুলিয়ার খাগান এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস সংলগ্ন চানগাঁও গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে পাশের চানগাঁও এলাকার স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে ট্রেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং দুই বিভাগে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ছাত্ররা এগিয়ে আসলে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরে তারা ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে স্থানীয় চানগাঁও মসজিদের মাইকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘোষণা দেয়। এ সময় সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ৮ জন শিক্ষার্থী। পরে শিক্ষার্থীরা বাইরে বেরিয়ে বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে ও সড়কে টায়ারে আগুন জালিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তবে এখনো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ বদরুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, আমরা সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তখন হঠাৎ খবর আসে যে পার্শ্ববর্তী চাঁনগাও এলাকা থেকে লোকজন এসে ক্যাম্পাসে হামলা করেছে। এতে আমাদের ৭-৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১ জনকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
এদিকে আশুলিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার বেলায়েত হোসেন বলেন, আজ সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই আগে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করেছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে না পেরে একপর্যায়ে মসজিদে মাইকিং করে লোকজনকে জড়ো করে।
আশুলিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরাফাত উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধারণা করছি পূর্বের হত্যাকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনার জের ধরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে, গত ২৭ অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাবিবুল হাসান অন্তর নামে এক শিক্ষার্থী স্থানীয় কয়েক তরুণের হাতে মারধরের শিকার হয়ে ২ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে স্থানীয় একটি বাজারের প্রায় দুই শতাধিক দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়। তবে এ ঘটনায় মূল আসামি রাহাত নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে ৩ নভেম্বর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা