দিল মনোয়ারা মনু সাংবাদিক ছিলেন, বিশিষ্ট লেখক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বড় মাপের মানুষ ছিলেন তা আমরা অনেকেই তার জীবদ্দশায় জানতে পারিনি, তার প্রয়াণের পর উপলব্ধি করছি।
বিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন।
বিশ্ষ্টি সাংবাদিক, লেখক দিল মনোয়ারা মনু’র স্মরণে তার স্বজন ও অনুরাগীদের আয়োজিত অনুষ্ঠান ‘মনে রেখো’ শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের ‘আছে দু:খ, আছে মৃত্যু, বিরহ দহন লাগে। তবুও শান্তি, তব ুআনন্দ, তবু অনন্ত জাগে॥’ রোকাইয়া হাসিনা নীলির কন্ঠে এই গানটির মধ্য দিয়ে ভাব গম্ভীর পরিবেশে স্মরণ অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়।
কামাল লোহানী তার প্রারম্ভিক বক্তব্যে তার সমস্ত লেখা সংগ্রহ করে গ্রন্থাকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেবার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দিল মনোয়ারা মনুর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া দিল মনোয়ারা মনু সম্পর্কে দেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাঈদা খানমের ভিডিও-রেকর্ডকৃত বক্তব্য এ সভায় উপস্থাপন করা হয়, যাতে সাঈদা খানম মনুর কাজ ও অবদানের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করেন।
এরপর আলোকচিত্রী মুনিরা মোরশেদ মুন্নীর সঞ্চালনায় বিশিষ্টজনেরা দিল মনোয়ারা মনুর জীবন, কর্ম, লেখালেখি, সমাজ কর্ম, মানবাধিকার ও নারী অধিকার কর্মী হিসেবে তার বৈশিষ্ট্য ও অবদানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা-র সভাপতি খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, মুন দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে মেলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সে মেলায় নিজেকে একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দিত। সে সব ধরণের কাজ করত। নিজেকে সে কখনোই একজন মেয়ে হিসেবে মনে করত না। সে দাদা ভাইকে সবসময় বলত আমি আপনার একজন কর্মী। মনুর মৃত্যুতে অন্যদের জন্য তো বটেই মেলার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাকে আমাদের অনেক কাজেই মনে পড়বে।
দিল মনোয়ারা মনু’র ছোটভাই সোহেল ইবনে আলী বলেন, আপা ছিলেন একইসঙ্গে আমার মা এবং বাবা। আপা চলে যাবার পর শুধু তাকে নিয়েই ভাবছি। আমার ভাবনায় আর অন্য কিছু নেই।
আলোচনায় যারা অংশ নেন তাদের মধ্যে ছিলেন- নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু, কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা-র সভাপতি খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেত্রী রাখী দাশ পুরকায়স্থ, বিশিষ্ট লেখিকা ও শিশু কল্যাণ পরিষদের সভানেত্রী সেলিনা খালেক, মানবাধিকার কর্মী ও নিজেরা করির খুশী কবির, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এর রোকসানা সুলতানা শানু, আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং, ইলিরা দেওয়ান, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ড. রেনে হোলেনস্টেইন, দিল মনোয়ারা মনু’র ছোটভাই সোহেল ইবনে আলী এবং তার স্বামী এএলআরডি-র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ। সেলিনা খালেক দিল মনোয়ারা মনুর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের প্রস্তাব করেন।
অনুষ্ঠানে কচি কাঁচার মেলার মেয়েরা রবীন্দ্রনাথের ‘তোমার অসীমে প্রাণ মন লয়ে যত দূরে আমি ধাই’সহ দুটি গান পরিবেশন করেন। এছাড়া বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ঝর্ণা সরকার দিল মনোয়ারা মনু’র পছন্দের দুটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। সব শেষে দিল মনোয়ারা মনু’র লেখা একটি কবিতা ‘তুমি দৃষ্টান্ত হও নারী’ আবৃত্তি করে শোনান রফিকুল ইসলাম।
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা