অনলাইন ডেস্ক
আজ শুক্রবার সকালে ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতা সরোয়ারজামান মনা বিশ্বাসের ফেসবুকে পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মেয়র পদে নির্বাচনে পরাজিত হওয়া ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম নয়নের উদ্যোগে এই বৃক্ষরোপণ করা হয়। এই সময় অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপি নেতা সরোয়ারজামান মনা বিশ্বাস, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জমসেদ আলীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণের সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। নিজের পোস্টে বিএনপি নেতা মনা বিশ্বাস লিখেছেন, পূর্ব টেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মৃত ও কারাগারে বন্দিদের স্মরণে বিএনপি নেতা ছোটভাই রফিকুল ইসলাম নয়নের উদ্যোগে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর সঙ্গে বৃক্ষরোপণ করা হয়। আর তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। পৌর সভার মেয়র ছিলেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে রাজনীতির নামে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে কার্যকলাপ করেছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকারী রাজাকার ও নকশাল পরিবারের ছেলেদের নিয়ে ঈশ্বরদীতে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। সরকারি-বেসরকারি অফিসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভূমি দখল, হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করে নির্যাতন চালিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মারধর করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন। পত্রিকার এক সম্পাদক হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করে নিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকের অফিস, বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে লুটপাট, ভাঙচুর ও বৃদ্ধপিতামাতাকে মারপিট করেছেন। অসংখ্য দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। পুলিশ দিয়ে তাড়িয়ে ঘর ছাড়া করেছেন। সিনিয়র নেতাদের অবমূল্যায়ণ করেছেন। অবজ্ঞা করেছেন। ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোণঠাসা করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসনের রিপোর্ট এবং দলীয় নেতাদের অভিযোগে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন আবুল কালাম আজাদ মিন্টু।
সূত্রগুলোর অভিযোগ, প্রয়াত সাবেক ভূমিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরীফ ডিলু সঙ্গে চরম খারাপ আচরণ করে তাঁকে কষ্ট দিয়েছেন। পরিবারের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে শরীফ পরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। এসব কারণে বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী শূন্য আবুল কালাম আজাদ মিন্টু স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি, জামায়াত ও নকশাল পরিবারের সন্তান নিয়ে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এসব কর্মকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতা দলীয় সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলার সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দিদের স্মরণে বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। দল থেকে বহিষ্কারের জন্য বিএনপি-জামায়াত ও নকশালপন্থী আবুল কালাম আজাদ মিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ দলীয় শীর্ষনেতাদের নিকট দাবি জানানো হবে বলেও সূত্রগুলো দাবি করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী পূর্ব টেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চত্তরে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম নয়ন, সরোয়ারজামান মনা বিশ্বাসসহ বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বৃক্ষরোপণ করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন ১৯৯৪ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর বিরোধী দলীয় নেত্রী থাকাকালীন সময়ে ট্রেন যোগে দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার পথে ঈশ্বরদীর স্টেশনে হত্যার উদ্দেশ্যে তার কামরাকে লক্ষ্য করে গুলি ও পাথর বর্ষণ এবং বোমা নিক্ষেপ করা হয়। সেই মামলায় বিএনপির ঈশ্বরদীর শীর্ষ ৪৯ নেতাকর্মী দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি রয়েছেন। তাদের অনেকেই পূর্ব টেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। সুকৌশলে তাদের স্মরণে এই বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জহুরুল হক পুরো কমেন্টে লেখেন, আওয়ামী লীগে শীর্ষ পদে থেকে মেয়র নির্বাচিত হয়ে বিএনপি-জামায়াত, রাজাকার ও নকশাল পরিবারের ছেলেদের নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং আর্থিকভাবে তাদের পরিচালনাকারী ও আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠাকারীকে প্রতিরোধ করার সময় এসেছে। তার মুখোশ উন্মুচন করা উচিত। দল থেকে তাকে বহিষ্কার করতে হবে।
এই ব্যাপারে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনি জানান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে কাজ করা আজকে নতুন কিছু নয়। মিন্টু আওয়ামী লীগে থাকা বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট। শোকের মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলার কারাবন্দি আসামিদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি খুবই ঘৃণিত। শোকের মাস শেষে জেলার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব জানান, পৌর আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বৃক্ষরোপণ করার ঘটনাটি নিন্দনীয়। আশা করি আওয়ামী লীগের উপজেলা, জেলা সিনিয়র নেতারা বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র ইছাহক আলী মালিথা জানান, বৃক্ষরোপণ করা অপরাধ নয়। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি থাকা বিএনপি নেতাদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করাটা আওয়ামী লীগের জন্য ন্যাক্কারজনক। চরম ঘৃণীত কাজ। আওয়ামী লীগের সংগঠন বিরোধী। বৃক্ষরোপণকারীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের এমপি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগা করা হলে মোবাইলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি না জেনে মন্তব্য করলে আমার ক্ষতি হবে। আপনি বৃক্ষরোপণকারী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুকেই জিজ্ঞাসা করেন বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এসব বিষয়ে জানতে মোবাইলে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর মোবাইল ফোনে রিং করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে রিং ব্যাকও করেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিএনপি নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির খবর নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চলছে তীব্র সমালোচনা। নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা