অনলাইন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) শহীদ শেখ জামালের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে তার সমাধিতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল প্রতিদিনই বলেন, আওয়ামী লীগ দেশ ধ্বংস করছে, অর্থনীতি ধ্বংস করছে। তার মুখে শুধু ধ্বংসের বাণী। তিনি শুধু ধ্বংসের কথাই জানেন।
‘কারণ তারা ক্ষমতায় থাকতে শুধু ধ্বংসই করে গেছেন। এখনো ধ্বংসই চান। আসলে নেতিবাচক রাজনীতির কারণে বিএনপি নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করছে।’
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট থেকে এখনো হত্যা রাজনীতির ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশে এত বছর পরও হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বন্ধ হয়নি।
‘এখনো ২১ আগস্টে যেদিন প্রাইম টার্গেট ছিলো শেখ হাসিনা, আজও টার্গেট। শেখ হাসিনার উন্নয়ন অর্জনে আজকে ইর্ষান্বিত হয়ে অনেকেই আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে আজকে হত্যা করার জন্য ষড়যন্ত্র করচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র এবং প্রগতির পথে বাধাই হচ্ছে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে সেখানে জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা। পরবর্তীতে এই সংশ্লিষ্টতা থেকে আমাদের দেশে রাজনীতি কর্ম সম্পর্কে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল উঠলো, সেই অলঙ্ঘনীয় দেয়াল আজও বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
শেখ জামালের স্মৃতিচারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জন্মদিন আনন্দের হলেও রক্তাক্ত বিরহের স্মৃতি এত বিষাদের যে আজ জন্মদিনে আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। শেখ জামালের যে মেধা, এর সঙ্গে এই প্রজন্মের অনেকে পরিচিত না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, দিনরাত পড়াশোনায় ডুবে থাকতো। তিনি একজন ক্রিকেটারও ছিলেন।
‘মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ অন্য সন্তানদের সঙ্গে শেখ জামালও হানাদারদের বন্দিত্ব বরন করেন। কিন্তু শেখ জামাল আগস্ট মাসে হানাদারদের পাকিস্তানিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে চলে যান ভারতের আগরতলায়। সেখানে গিয়ে তিনি ট্রেনিং নেন মুক্তিযুদ্ধের এবং নয় নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বিজয়ের পর তিনি ফিরে আসেন।’
দেশ মাতৃকার প্রয়োজনে শেখ জামালের যে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ছিলেন সেই কথা উল্লেখ করে কাদের বলেন, সেনাবাহিনীতেও তার আচরণে, শৃঙ্খলায়, তার প্রতিভায় অফিসাররা সবাই মুগ্ধ ছিলেন। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিরবারের সঙ্গে দেশ মাতৃকার এই সম্ভাবনাময় মেধাবী সন্তানকে ঘাতকেরা হত্যা করেছিলো।
‘সেদিন যদি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা দেশে থাকতেন তাদেরও বেঁচে থাকার কথা ছিলো না। একটা পরিবারকে সেদিন ধ্বংস করার জন্য যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিলো ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে; সেই নৃশংসতম, মানবজাতির ইতিহাসে যেখানে নারী, অবুঝ শিশু রেহাই পাননি।”
হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বাংলার মাটি থেকে চিরতরে শেষ করতে মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষের সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা