রাজনৈতিকভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান সংকট দূর করতে হবে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২২ বছরপূর্তি উপলক্ষে এএলআরডি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের যৌথ উদ্যোগেআয়োজিত ‘পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন বনাম পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিত’ ’শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলকে অন্ধকারে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভূমি সমস্যার সমাধান, পাহাড়ী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার একমাত্র পথ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের কো-চেয়ার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাড. সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা আয়োজকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে এমন এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে যেখানে জনগণের বাক-স্বাধীনতা ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। সেখানে নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীদের এলাকায় থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। এর অবসান না হলে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হবেনা। এই সবই গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সদস্য ও নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশীকবির। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন-বিচারপতি নিজামুল হক, ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা ও নিরূপা দেওয়ান প্রমুখ।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, পাহাড়ে বাঙালিদের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এতে করে যেন পাহাড়ীরা তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ স্বত্ত্বা ও স্বকীয়তাকে সংরক্ষণ করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, পাহাড়ে কি ধরণের বৈষম্য চলছে তা দেশবাসী জানে না। তিনি অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইনের বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। পরে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের একটি পরিপত্রের উল্লেখ করে বলে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালীদের ভূমি সুরক্ষায় প্রশাসনিক ব্যবস্থাসহ তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অথচ সেখানে পাহাড়ীদের জন্য কি ব্যবস্থা নেয়া হবে তার উল্লেখ নেই। লিখিতভাবে এ ধরণের বৈষম্যমূলক পরিপত্র যদি হতে পারে তা হলে অলিখিতভাবে আরো কি ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার পাহাড়ী জনগণ হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন ক্যালকুলেটরে হিসেবের বিষয় নয় যে শতকরা কত ভাগ বাস্তবায়িত হলো। মৌলিক বিষয় ভূমি সমস্যার না করে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, চুক্তির বাস্তবায়ন করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটা করা না হলে তার দায় সরকারের উপর বর্তায়। সরকারি হিসেবে যে ৪৮টা দফা বাস্তবায়িত হয়েছে তাতে চুক্তির মূল বিষয়বস্তু উপেক্ষিত রয়েছে। যা চুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি মনে করেন পাহাড়িদের ভূমি মালিকানা ফিরিয়ে দিলে অন্যান্য বিষয়গুলো এমনিই বাস্তবায়ন হবে। ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, শান্তি চুক্তি বিষয়ে রাষ্ট্রকে জবাবদিহি করতে হবে। এক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি সরকারের রয়েছে তার সাথে পার্বত্য চুক্তিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে অ্যাড. সুলতানা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী চুক্তি করার জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই, কিন্তু সেই আন্তরিকতা দৃশ্যমান করতে হবে। এতে মুক্ত আলোচনায় বান্দরবানের আদিবাসী নেতা জুমলিয়ান আমলাই এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক কমিটির নেতা গৌতম দেওয়ান ও বক্তব্য রাখেন।
আরও পড়ুন : নারী নির্যাতনের ঘটনার বিচারের ঘটনার শিকার নারীর স্বীকারোক্তিই যথেষ্ট : ফওজিয়া মোসলেম
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা