ন্যায্য মজুরি ও গণতান্ত্রিক শ্রম আইনসহ শ্রমিকের অধিকারসমূহ আন্দোলন সংগ্রামের পথেই আদায় করতে হবে।সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে আলোচনাসভা ও ঢাকা নগর কমিটির পরিচিতি অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলনে।
শ্রমিক ফ্রন্ট ঢাকা নগর কমিটির সভাপতি জুলফিকার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রমিকনেতা রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদশ-এর সভাপতি শ্রমিকনেতা সাইফুজ্জামান বাদশা, স্কপের যুগ্ম-সমন্বয়ক শ্রমিকনেতা নঈমুল হাসান জুয়েল জি-স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক শ্রমিকনেতা আব্দুল ওয়াহেদ, শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, সদস্য রতন মিয়া ও ঢাকা নগরের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতার ৪৯ বছরে এসে দেশের উন্নয়নের নানা বয়ান প্রতিদিন প্রচারিত হচ্ছে অথচ এই উন্নয়ন আর অগ্রগতির নিয়ামক শক্তি শ্রমিকÑতাদের ন্যায্য মজুরি এখনও নিশ্চিত হয়নি। ১০২টি প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পখাতের অন্তত ৬২টিতে ঘোষিত মজুরি কাঠামো নেই। রপ্তানি আয়ের প্রধান খাতের গার্মেন্টস শ্রমিরা ন্যূনত মজুরি ১৮ হাজার টাকা দাবি করছে দাবির অর্ধেক বেতনও তাদের দেয়া হয়নি। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে মজুরির কোন ন্যূনতম নীতিও নেই। শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক শ্রম আইনের দাবি উপেক্ষিত। যতটুকু আইন আছে তারও কার্যকারিতা নেই। শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতির জন্য নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র তাও প্রদান করা হয় না। কাজ করতে এসে প্রতিবছর হাজার হাজার শ্রমিক মৃত্যুবরণ করে কিন্তু তাদের কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা নেই, কর্মক্ষেত্রে নিহত-আহত হলে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা আর পুনর্বাসনের দাবি উপেক্ষিত।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকরা দেশের শিল্প বা কারখানা বাঁচিয়ে রাখতে সংগ্রাম করে জীবন দিচ্ছে; তারা তাদের সকল জীবনীশক্তি ক্ষয় করে উৎপানের চাকাকে সচল রাখছে, উন্নয়নের গতিকে ধরে রাখছে কিন্তু তারা মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারছেন। তাদের থাকার ঘর নেই, তিন বেলা মানসম্মত খাবার জোটে না, তাদের রেশনের দাবি উপেক্ষিত। চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নাই, তাদের সন্তানের লেখাপড়ার কোন ব্যবস্থা নেই।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট তার জন্মলগ্ন থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল খাতের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন করার সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। শ্রমিক ফ্রন্ট মনে করে আন্দোলন সংগ্রামের পথেই গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, ন্যায্য মজুরি, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার আদায় ও সুবিধাবাদী ট্রেড ইউনিয়নের বিপরীতে বিপ্লবী ধারার ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেখানে শ্রমিকদের সমস্যা সেখানেই সংগঠন এবং আন্দোলন গড়ে তুলে দাবি আদায় করতে হবে।
আলোচনা সভার শেষে গত ২০ ডিসেম্বর শ্রমিক ফ্রন্ট ঢাকা নগর শাখার অনুষ্ঠিত তৃতীয় কাউন্সিলে গঠিত ১৯ সদস্যের নতুন কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন। কাউন্সিলে গঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন রতন মিয়া, সহসভাপতি আফজাল হোসেন, শাহজালাল, পাকির আলী, সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. ফারুক হোসেন।
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা