অনলাইন ডেস্ক
রাজধানী মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার একটি মোবাইল ফোনের দোকানের তালা কেটে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। আশপাশ থেকে উদ্ধার করা সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন যুবককে দোকানের তালা কেটে মালামাল নিয়ে যেতে দেখা গেছে।করোনাভাইরাসের এ সময়ে সব হারিয়ে দিশেহারা দোকান মালিক আফতাব উদ্দিন সুমন। চুরির ঘটনায় রামপুরা থানায় একটি মামলা করেছেন তিনি।
রামপুরা থানার ওসি মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘গত বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায় একটি মোবাইলের দোকানের তালা কেটে মালামাল চুরি হয়। ওই দোকানের মালিক সুমন বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ঘটনার সত্যতার ভিত্তিতে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দোকানের আশপাশ থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। এছাড়া আশপাশের এটিএম বুথ ও নৈশপ্রহরীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন রাতে দোকানের চারটি সিকিউরিটি তালা কেটে ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্রান্ডের মোবাইল ফোনসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। ৪ জুন সকাল ৯টার দিকে দোকান খুলতে গিয়ে মালিক সুমন দেখতে পান, সবকটি তালা কাটা। দোকানের ভেতরে ঢুকে দেখেন কোনো মালামাল নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আফতাব উদ্দিন তালুকদার সুমন বলেন, ‘ওইদিন বিকেলে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যাই। আমার দোকানটি ঠিক মালিবাগ চৌধুরীপাড়া উত্তরা ব্যাংক এবং যমুনা ব্যাংকের মাঝখানে। মেইন রাস্তার সঙ্গে দোকান। আশপাশে ইসলামী ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকও রয়েছে। সব জায়গায় সিসি ক্যামেরা আর নৈশপ্রহরী থাকে। এরপরও দোকানটি চুরি হলো। পথে বসে গেছি।’
তিনি বলেন, ‘গত জানুয়ারিতে দোকানটা দিয়েছি। ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি। এক মাস পরই লকডাউন শুরু হলে দোকান বন্ধ হয়। দু’মাস পর দোকান খুলেছি মাত্র। এর মধ্যেই চুরি, যা ছিল সব নিয়ে গেছে। এখন কি করব বুঝতে পারছি না।’
সুমন বলেন, ‘মামলার পর আজ সকালে পুলিশ কিছু সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সেখানে দেখলাম রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বেশ কয়েকজন যুবক তালা কেটে চুরি সম্পাদন করে। তখনও রাস্তা ও ফুটপাত দিয়ে লোকজন চলাচল করছে। এ সময় কেউ বাইরে দাঁড়িয়ে গল্প করছে আর কেউ চুরির কাজটি করছে।’