তাসকিনা ইয়াসমিন : স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে দেশে মোট ১০১২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০৯জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৪২ জন। ৪৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। যাদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৭ জন। সারাদেশে চলছে সাধারণ ছুটি। কোথাও কোথাও লকডাউন। সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে। এরইমধ্যে রাজধানী বাড্ডায় ত্রাণের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কিছু মানুষ। তারা অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর তাদের ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেনা। এটি মূলত দুর্নীতির কারণেই ঘটছে আর এই সংকট আরও বাড়বে বলছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফসান চৌধুরী।
তিনি বলেন, বাড্ডায় যে ত্রাণ চুরির ঘটনাটি ঘটেছে এটা ঢাকা শহরের বলে আমাদের চোখে পড়েছে। কিন্তু এই ঘটনাটি সারাদেশেই ঘটছে। আজকেও খবর এসেছে আওয়ামীলীগের একজন নেতাকে ত্রাণ চুরির দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রতিদিনই এই ধরণের খবর আমরা দেখছি। এলাকার রাজনীতির কারণে, বা ক্ষমতার কারণে এই খবরগুলো প্রকাশ হয়। তবে, এটা স্মরণ রাখা উচিত বাংলাদেশে ত্রাণ চুরির ঐতিহ্য অত্যন্ত দীর্ঘ।আমরা স্বাধীনতার পরে এটা দেখেছি। যারা মুক্তিযুদ্ধের পরে ত্রাণ চুরি করতে পারে, তারা এখন তো ত্রাণ চুরি করবেই। মানুষের এটা মজ্জাগত হয়ে গেছে। তবে, সমস্যা যেটা স্বাধীনতার পরে অবস্থা সামলানোর মতাে ছিল। এখন অবস্থা সামলানোর মতো আছে কিনা বলা যাচ্ছে না। যেহেতু এটা দীর্ঘদিনের, বিশ্বব্যাপী সংকট।
তিনি বলেন, এখন যেটা বোধা যাচ্ছে, আমাদের রাজনীতি নিম্ন মাত্রায় গেছে। যারা রাজনীতিতে প্রবেশ করেছে তাদের মধ্যে যথেষ্ট ত্রাণ চোর রয়েছে। বাংলাদেশে কিন্তু ৫ জনও যদি ত্রাণ চুরি করে এইসময় গোটা দল বা কাঠামোর উপরে আঘাত আসবে। সেটা হয়েছে এখন। আওয়ামীলীগ তো পুরোটা জুড়েই এখন ক্ষমতায় রয়েছে এবং অত্যন্ত সবলভাবে রয়েছে। সেখানে আওয়ামীলীগের একটা ছোট্ট দাগও পড়ে সেটা সবার চোখে পড়বে। গতকাল যে ৪২ জনকে এরেস্ট করল। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একজনের পা কেটে দিয়েছে। এটা দেখে বোঝা যায়, জাতীয় সংকট এবং স্থানীয় সংকট এদুটো যে এক ক্ষমতাবানদের কাছে এখনও এই বার্তা পৌঁছেনি, মাঠ পর্যায়ে তো পৌঁছায়নি।
আফসান চৌধুরী বলেন, চুরি টা কি করে হচ্ছে? ঢাকার বাইরে চেয়ারম্যান, মেম্বার চুরি করছে। ঢাকায় কাউন্সিলর পর্যায়ে হলো। কিন্তু দুর্নীতি আমাদের দেশে যে কত বড় সমস্যা এটা বোঝা যায়। যতই ত্রাণ দেয়া হোক, যতই প্রণোদনা দেয়া হোক, যদি দুর্নীতি থাকে তাহলে কোনটাই অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবে না। অতএব, কাঠামোগত সংকট হচ্ছে। সংকটটা হচ্ছে যেভাবে রাজনীতি, প্রশাসন, আমলাসহ সকল ক্ষমতাবানদের যে কাঠামো সেটাকে সাজানো হয়েছে সেটার মৌলিক গলদ রয়েছে। সেই গলদটা হচ্ছে একে অন্যের সঙ্গে ব্রাদার ব্রাদার হিসেবে থাকে এবং সম্পর্কের ভিত্তিটা অনেক মানুষের জন্যই বলব এই সম্পর্ক হয়ে যায় দুর্নীতি। দুর্নীতি একটা আঠার মতো সবাইকে ধরে রেখেছে। এইসময়ে বেশিরভাগ মানুষ কিন্তু দুর্নীতি করছে না। কিন্তু যথেষ্ট সংখ্যক দুর্নীতি করছে এই কারণে মানুষের চোখে পড়ছে। এটা ত্রানের সমস্যা না, এটা খাদ্যের অভাবের সমস্যা না। খাদ্যের অভাবে আছে পরিবহন শ্রমিকরা। এটা হচ্ছে আমাদের রাজনীতিত এবং ক্ষমতার কাঠামো রসমস্যা। এটা সহজে সারবেনা।
মানসিকভাবে আমাদের আরও দুর্নীতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ এখন তো হলো ত্রাণের সমস্যা। এটা তিনমাস থাকবে। এরপর ফ্যাক্টরি খুলবে। শহর খুলতেই হবে। এটা ঈদের আগে হওয়ার কারণে আরও মারাত্মক অসুবিধা হয়ে গেল। পরর্বতীতে যেটা হবে, বিশ্বব্যাংক এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের টাকাটা যখন এসে প্রবেশ করা শুরু করবে উন্নয়ন প্রকল্পে। তখন কিন্তু দুর্নীতি হবে এবং সেই দুর্নীতি চোখে পড়বে বেশি। সেটা কিছু করার থাকবেনা। যারা ক্ষমতায় থাকবে, যেই ক্ষমতায় থাকুক তাদের ইজ্জতের উপর আঘাত করবে। বাংলাদেশের মানুষের আস্থা বাড়ছে সংগঠিত শক্তির উপরে। অর্থাৎ পুলিশের উপরে আস্থা বাড়ছে। সেনাবাহিনীর উপরে আস্থা বাড়ছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে সিভিল এডমিনিস্ট্রেশনের উপর আস্থা ততটা নাই। যেহেতু প্রথমদিকে তারা অত্যন্ত ছ্যাড়াব্যাড়া অবস্থায় ছিল। তাছাড়া যেটা হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের যে নেতৃত্ব দেবার কথা ছিল সেই নেতৃত্ব এখনও চোখে পড়ছে না। এটা সঙ্কট।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তার অধীনস্থ যারা আছে, তাদের কাউকে আমার চোখে পড়েনা। এখন ওবায়দুল কাদের নিজে হার্ট পেসেন্ট বলে বাসায় আছেন। এটাই আমাদের কাঠামোগত সংকট। এটা আমাদের সহ্য করে অপেক্ষা করতে হবে। তবে এমনও হতে পারে, মানুষের মধ্য থেকে যে চাপটা আসছে এবং চাপটা ক্রমেই বাড়ছে সেটার কারণে হয়ত ত্রাণের দুর্নীতিটা কমতে পারে। তার মানে ত্রাণের জন্য যদি লকডাউনের মধ্যে রাস্তায় নামতে পারে তাহলে বুঝতে হবে সমস্যাটা বড়।
করোনা পরিসংখ্যান এর লাইভ আপডেট দেখুন
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা