পেঁয়াজের ঝাঁজে জ্বলে, লবণ জলে গলে নাজেহাল জনজীবন। একদিকে আড়াই থেকে তিনশ’ হাঁকানো পেঁয়াজের দর কয়েক টাকা কমে এখনও উচ্চাসনে আসীন।
দরপতনের ছোঁয়া লাগেনি সাধারণের জীবনমানে। তার সাথেই ঊর্ধ্বশ্বাসে লবণ ছুটছিলো কারো প্ররোচনায়। কিছু না বুঝে উঠার আগেই ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে।
ক্রেতাদের হন্তদন্ত ভাব দেখে দোকানীরাও বিস্মিত। তবে এক মুহূর্তেই লবণশূণ্য হয়ে যাওয়া খুশিতে ডগমগ তারাও। এরই মধ্যে শুর হয়েছে চালের বাজারেও অস্থিরতা। কোথায় তাহলে স্থিরতা? নিত্যপণ্যের বাজার কাদের হাতের ইশারায় অস্থির হয়ে উঠে??
কারা ক্রেতাদের জিম্মি করে লাভবান হতে চেয়েছে? সাথে আবার চালের বাজার অস্থিতিশীল করার কথাও শোনা যাচ্ছিল। আসলে নিত্য প্রয়োজনীয় এসব পণ্য নিয়ে ভোক্তাদের সাথে এরকম আচরণের অধিকার কে বা কারা খাটাচ্ছে?
ব্যবসায়ীদেরই বা এরকম স্বাধীনতা কে দিলো-যা ইচ্ছে, যেভাবে ইচ্ছে ব্যবসা করার?? আদৌ কি কোন উত্তর পাব?
জানা নেই। কিন্তু যারাই করুক, তাদের কি একবারও মনে হয় না যে, মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা খাদ্যপণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে এসে জনগণের সাথে কেন এ হেন বৈরী আচরণ করেন তারা? তারা কি শুধুই ব্যবসায়ী বা ব্যবসার মুনাফাভোগী?
যে দেশটার মানুষ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে সুখে-শান্তিতে বাস করার কথা, সে দেশে কেন এখন নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য নিয়ে কথা বলতে হয়?
এই ব্যবসায়ী বা ব্যবসার সাথে জড়িতরাও তো এ দেশেরই নাগরিক। নিজের দেশের মানুষের প্রতি একটা সামাজিক দায়িত্ববোধও তো থাকে মানুষের। এতটুকু দেশপ্রেম বা সততা একজন সুনাগরিকের তো থাকা জরুরি। নাকি এটা ধ্রুব সত্য হয়ে গেছে যে, আমাদের দেশের ব্যবসায়ী বা সেরকম প্রভাবশালীদের হৃদয়ে দেশপ্রেম থাকবে না, থাকবে শুধু মুখে, কাগজ-কলমে!!
আমরা চাই না, কাগজ-কলমে থাকুক, সত্যি সত্যি দেশপ্রেম জেগে উঠুক সবার মনে। আর যেন পেঁয়াজ, লবণের বা চালের দুর্মূল্যে হাহাকার না উঠে সাধারণের মনে। সত্যিকারের দেশপ্রেম জাগুক সবার প্রাণে- এই আশা জাগানিয়া গানই থাক সবার মুখে।
সিনিয়র সাংবাদিক, বাংলাভিশন।
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা