জেন্ডার বাজেট সম্প্রতি ৪৪ মন্ত্রণালয় করেছে, এর মনিটরিং যথাযথ হতে হবে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকাল ৩ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত পরিষদের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘জেন্ডার বাজেট পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিষয়ক’ প্রাক বাজেট আলোচনায় একথা বলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনে কাজ করছে। জেন্ডার বাজেট নারী পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মানব উন্নয়নের দিক লক্ষ্য রেখে বরাদ্দ কতটুকু হলো, নারীর প্রতি বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কোন কর্মসূচী বাজেটে গৃহীত হচ্ছে কিনা সেটি মহিলা পরিষদ দেখতে চায়।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমাজে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে মহিলা পরিষদ কাজ করছে। সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে গুরুত্ব দিতে হবে। এখনো তারা অবহেলিত সামাজিক পারিবারিক ভাবে। জেন্ডার বাজেট জেন্ডার সাম্যতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর সেটি দেখতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে সহিংসতা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিতে হবে বাজেট প্রণয়ণের ক্ষেত্রে । মেডিকো লিগ্যাল কোর্সটি সকলের জন্য চালু করতে হবে। কর্মসংস্থানে নারীর অংশগ্রহন কমছে এটি জেন্ডার বাজেট প্রনয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেল্থ ইকোনোমিক্স ইউনিট হেল্থ সার্ভিসেস ডিভিশনের মহাপরিচালক ড. মোঃ শাহাদাত হোসেন মাহমুদ বলেন বাংলাদেশে বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হয়। জেন্ডার বাজেট প্রণয়ণের ক্ষেত্রে সকল ক্ষেত্রে নারী, পুরুষ তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিদের চাহিদা এবং প্রয়োজনগুলো মূল্যায়ন করতে হবে। এরজন্য বটোম আপ এ্যাপ্রোচ অনুসরণ করতে হবে। মনিটরিং ও ইভালুয়েশন ও একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ। ৫০:৫০ হলেই সমতা হবে এমন নয়। প্রত্যেককে বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দকৃত বাজেট অপ্রতুল। বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়নে সংখ্যাগত দিকের চেয়ে গুনগতমান উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রকৃত উন্নয়ন হবে না। শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে, গুণগতমান বৃদ্ধি পায় নি। নারী-পুরুষের সমতার জন্য যে বাজেট বরাদ্দ হচ্ছে তার প্রকৃত ব্যবহার হচ্ছে না।
মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। তিনি বলেন, বাজেটের উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্পদের সুষম বন্টন এবং ব্যবহার। সম্পদের সুষম বন্টন হলেই জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে এমন নয়। জেন্ডার বাজেটের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নারীর ক্ষমতায়ন। জেন্ডার রেসপনসিভ বাজেটের প্রণয়নে দেখা যায় জেন্ডার ফোকাল পারসনের অভাব রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত প্রকল্পের অভাব রয়েছে। জেন্ডার বাজেটে পরিসংখ্যান ব্যবহার করলে তা বিজ্ঞানসম্মত হওয়া উচিত। মিনিস্ট্রি অব হেলথ এর বরাদ্দে নারী ও শিশুকে একইভাবে দেখা হচ্ছে।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী বলেন, বাজেট শুধুমাত্র উপরের থেকে নির্ধারিত হওয়ার নয় জীবনমানের উপর এর প্রভাব রয়েছে। ৪৪ টি মন্ত্রণালয় জেন্ডার বাজেট পেশ করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ক্ষমতায়ন, শ্রমবাজার, সরকারী সেবা এই তিনটি বিষয নিয়ে কাজ করে। জেন্ডার বাজেট মূলত বাজেট নয় এটি একটি রিপোর্টিং প্রক্রিয়া। বরাদ্দ কার্যকর ভাবে দেয়া হচ্ছে কিনা, সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা তার জন্য টার্গেটকৃত নারীদের প্রয়োজন মূল্যায়ন করতে হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির নেত্রীবৃন্দ, ঢাকা মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সংগঠক এবং কর্মকর্তাসহ ৬০ জন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী।
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা