অনলাইন ডেস্ক
রোববার সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত অর্জুন জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে।
এর আগে সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার সাইফুর রহমান সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার সোনাপুরের চান্দাইপাড়ার বাসিন্দা। তিনি অস্ত্র মামলারও আসামি।
ঘটনার দিন রাত ৩টার দিকে এমসি কলেজের হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, ৪টি রামদা ও একটি চাকু, দুটি লোহার পাইপ, প্লাসসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করে পুলিশ।
ছাত্রলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে হোস্টেল সুপারের বাংলো দখলের অভিযোগও রয়েছে।
শাহপরান থানার ওসি কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করে যাচ্ছিল। রোববার ভোর রাতে পুলিশের বিশেষ শাখার একটি দল ছাতক থেকে সাইফুরকে গ্রেফতার করে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
ছাতক থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ছাতক উপজেলার সুরমা নদীর খেয়াঘাট এলাকায় নজরদারি করছিল। সাইফুরকে ভোর ৬টা থেকে প্রায় আধা ঘণ্টা খেয়াঘাট পার হয়ে অপেক্ষা করতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। কাছে যেতেই বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া সাইফুরের ছবির সঙ্গে তাঁর মিল পাওয়া যায়। তখন তাকে নাম জিজ্ঞেস করা হয়। এতে তিনি সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। থানায় তাঁর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
সুরমা নদীর খেয়াঘাট এলাকায় থাকা দু’জন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এই খেয়া পার হয়ে সীমান্তবর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলায় যাওয়ার দুটো পথ আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বুগলা সড়কপথ। এই সড়কপথ বুগলা গেলে নিরাপদে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করার সুযোগ ছিল সাইফুরের।
হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ধর্ষণের ঘটনার পর অর্জুন পালিয়ে যায় হবিগঞ্জের মাধবপুরে। সেখানে মনতলা এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিল সে। প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্জুনের অবস্থান শনাক্ত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) ওসি সাইফুল আলমের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল রোববার সকালে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরে বেলা ১২টার দিকে তাকে সিলেট নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
এর আগে এ ঘটনায় ৬ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করে শনিবার সকালে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় মামলা করেন ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীর স্বামী।
মামলার আসামিরা হলেন, এম সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মাসুম। এদের মধ্যে ৪ জন ওই কলেজের শিক্ষার্থী।
ঘটনার পরই অভিযুক্তদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। শুক্রবার রাত ২টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি লম্বা রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার জিআই পাইপ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শাহপরাণ থানাপুলিশ বাদী হয়ে সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে অস্ত্র আইনেও একটি মামলা দায়ের করে।
এছাড়া আরও ৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তারা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রণজিৎ সরকার বলয়ের অনুসারী সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য নাজমুল ইসলাম সমর্থিত ছাত্রলীগ কর্মী।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে ঘুরতে এসেছিলেন ওই তরুণী। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রবাসে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণ করে তারা। রাত ১১টায় শাহপরাণ থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে ওই তরুণী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা