অনিন্দ্য বড়ুয়া
বৌদ্ধধর্মীয় এক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে কথা বলেছিলাম বৌদ্ধদের মাংস খাওয়া-না খাওয়া নিয়ে। বিয়েতে মাংস দেওয়া- না দেওয়া নিয়ে প্রসঙ্গ ওঠার প্রেক্ষিতেই বলেছিলাম—বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হতে হলে যে কোন কাজ বোধ আর বুদ্ধির প্রয়োগে করাই ভালো। বলেছিলাম—মাংস না খেয়ে পারলে ভালো, পুষ্টিবিদদের মতে বিশ বছর বয়েসের পরে মাংস আহারের আর তেমন প্রয়োজন থাকে না। তারপরও খেতে হলে, বিয়েতে গরুর মাংস পরিবেশন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ; বোধ-বুদ্ধির কাজ।
বলাটা অবশ্যই আমার পঠন-মননের ফল ছিলো। গোমাংস না খাওয়াটা ব্যক্তিগত রুচি বা স্বাস্থ্যচিন্তার বিষয় হলে বলার কিছু থাকে না কিন্তু বৌদ্ধধর্মের প্রেক্ষিতে হলে আলোচনার অনেক কিছু থেকে যায়। প্রথমত আসা যাক ধর্মীয় বিবেচনায় মাংস খাওয়া বা না খাওয়ার প্রসঙ্গে। সঙ্গত কারণে একটু বিস্তারিত লিখলে আশাকরি সহৃদয় পাঠকের ধৈযচ্যুতি ঘটবে না- ‘বিনয়পিটকের চুল্লবগ্গের সংঘভেদক স্কন্ধে এই ঘটনাটির উল্লেখ করা হয়েছে—দেবদত্ত একবার বুদ্ধের কাছে গিয়ে পাঁচটা নিয়মকে সামনে রাখল—“(১)ভিক্ষু সারা জীবন বনবাসী হবে, যে গ্রামে থাকবে সে দোষী (২) তারা সারাজীবন মাধুকরী করে খাবে, যদি কেউ নিমন্ত্রণ রক্ষা করে সেখানে আহার করে—সে দোষী (৩) ভিক্ষু সারা জীবন পরিত্যাক্ত ছেঁড়া কাঁথা পরে লজ্জা নিবারণ করবে। যদি কেউ গৃহস্থের দান করা নতুন বস্ত্র গায়ে দেয়—সে দোষী। (৪)সারাজীবন সে বৃক্ষতলে বাস করবে। যদি কেউ ছাদের তলায় আশ্রয় নেয়—সে দোষী এবং (৫) সারাজীবনেও সে আমিষ আহার করতে পারবে না—যদি কোনদিন মাছ বা মাংস খায় তাহলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে।”
বুদ্ধ সব কথা শুনে বললেন—“দেখ দেবদত্ত,…আমি…অদৃষ্ট, অশ্রুত এবং অপরিশঙ্কিত—তিন ধরণের পরিশুদ্ধ মাংস খাবার অনুমতি দিয়েছি। ‘অদৃষ্ট’ মানে আমার জন্য মারা হয়েছে’ এটা সে দেখেনি। ‘অশ্রুত’ মানে আমার জন্য মারা হয়েছে’ এটা সে শোনেনি। ‘অপরিশঙ্কিত’ মানে হচ্ছে আমার জন্য মারা হয়েছে’—এ বিষয়ে তার মনে কোনো সন্দেহ নেই।…ভিক্ষার জন্য দ্বারে দ্বারে যাওয়া ভিক্ষুর জানা সম্ভব নয় যে, আজ কার ঘরে কী রান্না হয়েছে। আবার দ্বারে ভিক্ষার জন্যে এসে দাঁড়ানো ভিক্ষুর জন্যই সেই মাংস তৈরী হয়েছে—এটাও জানা সম্ভব নয়। তাই তিনপ্রকারে পরিশুদ্ধ মাংসকে আমি নিজের বা সংঘের ক্ষেত্রে অভক্ষ্য বস্তু বলে পরিত্যাগ করার কথা বলিনি।’১
বু্দ্ধ বা বুদ্ধের সংঘে মাংস ভক্ষণের প্রমাণতো উপাসিকা সুপ্রিয়ার নিজ মাংসের জুস দানের মধ্যেই উল্লেখ আছে। একদিন সুপ্রিয়া বিহারে বিহারে গিয়ে জানতে চাইছিলেন, কোনো অসুস্থ ভিক্ষু আছেন কি না? কারও কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে কি না? একজন ভিক্ষু বলেছিলেন– ‘ “ভগ্নি! আমি বিরেচক(জোলাপ) সেবন করিয়াছি, আমার প্রতিচ্ছাদনীয়ের(মাংসের যূষের) প্রয়োজন।” “আর্য্য! আনয়ন করা যাইবে।” এই বলিয়া তিনি গৃহে যাইয়া কর্ম্মচারীকে আদেশকরিলেনঃ “ভনে! নিহতপশুর মাংস পাওয়া যায় কি-না দেখ।”“তথাস্তু” বলিয়া সেই ব্যক্তি উপাসিকা সুপ্রিয়াকে প্রত্যুত্তরে সম্মতি দিয়া সমস্ত বারাণসীতে অনুসন্ধান করিয়াও নিহত পশুর মাংস দেখিতে পাইল না। …সুপ্রিয়া উপাসিকার মনে এই চিন্তা উদিত হইলঃ “সেই রুগ্ন ভিক্ষু মাংসের যূষ(জুস) না পাইলে তাঁহার রোগ বাড়িতেও পারে অথবা মৃত্যুও হইতে পারে। প্রতিশ্রুতি দিয়া প্রদান না করা আমার পক্ষে উচিত হইবে না।” এই ভাবিয়া তীক্ষ্ণ ছুরিকা দ্বারা স্বীয় ঊরু-মাংস ছেদন করিয়া দাসীকে প্রদান করিয়া কহিলেনঃ—“দাসি! এই মাংস পাক করিয়া অমুক বিহারে অবস্থিত রুগ্ন ভিক্ষুকে দিয়া আসিবে।’২
বুদ্ধ পরে এটা জানতে পরে সেই ভিক্ষুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ভিক্ষু বিচার করে মাংস আহার করেছিলেন কি না? ভিক্ষু বিচার করেননি শুনে– ‘বুদ্ধ ভগবান তাহা নিতান্তু গর্হিত বলিয়া প্রকাশ করিলেনঃ “মূর্খ! তুমি কেন বিচার না করিয়া মাংস আহার করিয়াছ? তুমি যে মনুষ্য মাংসই আহার করিয়াছ! তোমার এই কার্যে যে অপ্রসন্নদিগের মধ্যে প্রসন্নতা উৎপন্ন হইবে না ” ’৩
তিন প্রকারে পরিশুদ্ধ মাংসকে ভক্ষ্য ঘোষণার পর আবার বিচার করে আহারের প্রয়োজন কেন মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে। কারণ হচ্ছে, পরবর্তীতে হাতি আর ঘোড়া রাজার অংশ বলে জনসাধারণের সমালোচনার প্রেক্ষিতে; কুকুর আর সাপ *জুগুপ্সিত ও ঘৃণার্হ বলে জনসাধারণের সমালোচনার প্রেক্ষিতে এবং সাপের মাংসের ক্ষেত্রে নাগরাজ (সম্ভবত, কোনো অনার্য রাজা-যাদের টোটেম সাপ) সুস্পর্সের অনুরোধের প্রেক্ষিতে; সিংহ, বাঘ, চিতা, ভল্লুক নেকড়ে ভক্ষণের পর ভিক্ষুদের শরীরের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে সেই সেই প্রাণিরা ভিক্ষুদের নিহত করার প্রেক্ষিতে উল্লিখিত প্রাণীকুলের মাংস ভক্ষণ বুদ্ধ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো।৪
বুদ্ধ এবং ভিক্ষু-সংঘ কর্তৃক মাংস ভক্ষণের এতো এতো প্রমাণ থাকার পরও, প্রমাণ হিসেবেবুদ্ধের অন্তিমকালে স্বর্ণকার চুন্দ পরিবেশিত *“সূকরমদ্দব”/“শূকরমার্দ্দব” শব্দের দিকে আঙুল তোলা বেশ লেখক-গবেষকপ্রিয় বিষয়। স্বয়ং রাহুল সাংকৃত্যায়নের লিখাতে দেখা যায়– ‘বুদ্ধ এবং তাঁর সংঘের জন্যে কী উপাদেয় খাদ্য চুন্দ পরিবেশন করবেন—সেই নিয়ে তিনি চিন্তায় ছিলেন এবং সেই সময় প্রচলিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপাদেয় খাদ্য শূকরের সুস্বাদু মাংসা (মাংস)রান্না করে সবাইকে খেতে দিয়েছিলেন। শূকরের মাংস— ‘একেবারে ছানাও নয়, একেবারে বুড়োও নয়—মোটামুটি এক বছর বয়স যেটির—তা খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু’।…বুদ্ধের জন্য এটি তাঁর বৃদ্ধ, দুর্বল শরীরের পক্ষে অত্যন্ত গুরুপাক খাদ্য ছিল। কিন্তু চুন্দের আন্তরিকতাকে বুদ্ধ উপেক্ষা করে দুঃখ দিতে চাননি তাই অম্লানবদনে তিনি সেই গুরুপাক খাদ্য গ্রহণ করলেন।’৪বিষয়টি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার যথেষ্ট অবকাশ আছে। চুন্দ- ‘স্বর্ণকার বংশীয় জনৈক ধন কুবের(শ্রেষ্ঠী) ছিলেন। তিনি ভগবানের প্রথম দর্শনেই স্রোতাপন্ন আর্য্য-শ্রাবক হইয়া স্বীয় আম্রকাননে বিহার নির্ম্মাণ পূর্ব্বক ভগবান্কে দান করিয়াছিলেন। …সাধারণ লোকে প্রাণীহত্যাদি করিয়া বুদ্ধ প্রমুখ ভিক্ষুসঙ্ঘের জন্য খাদ্য ভোজ্য প্রস্তুত করিতে পারে বটে, কিন্তু স্রোতাপন্ন আর্য্য-শ্রাবকেরা জীবনান্তেও প্রাণী হত্যা করেন না। এবং অধর্ম্ম উপায়ে খাদ্য ভোজ্য প্রস্তুত করান না।’৫ সূকরমদ্দব/শূকরমার্দ্দব মূলত কী প্রকারের খাবার তা নিয়ে যথেষ্ট বির্তক থাকলেও স্রোতাপন্ন চুন্দশ্রেষ্ঠী কর্তৃক প্রাণী হত্যা বা হত্যার নির্দেশ দানের সম্ভাবন প্রায় শূন্য।
প্রশ্ন আসে, রাহুলের মতো পণ্ডিত কেন সরাসরি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন যে—শূকরের মাংসই চুন্দ পরিবেশন করেছিলো। এর উত্তর আছে তাঁর জীবনীতেই– ‘বৌদ্ধ দর্শনে বুৎপত্তি লাভ করার পরই তিনি একান্ত নিষ্ঠার সঙ্গে মার্কসীয় দর্শন অধ্যয়ন করেন এবং মার্কসবাদকেই গ্রহণ করেন তাঁর জীবনদর্শন রূপে। আমৃত্যু সেই দর্শনের অনুসারী ছিলেন,মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই জীবন ও জগতের সকল কিছুর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে চলছিলেন।’৭
মাংস ভক্ষণের আলোচনার পর এবার আমরা আলোকপাত করতে পারি উপমহাদেশের গোমাংস ভক্ষণের প্রমাণের দিকে। ঋগ্বেদ সংহিতার ১০/৮৬/১৪ সূক্তে দেখা যায়— ‘বৃষাকপিবনিতে।…তুমি ধনশালিনী ও উৎকৃষ্ট পুত্রযুক্তা এবং আমার সুন্দরী পুত্রবধু। তোমার বৃষদের ইন্দ্র ভক্ষণ করুন। আমার জন্য পঞ্চদশ এমন কি বিংশ বৃষ পাক করে দাও (২) আমি খেয়ে শরীরে স্থুলতা সম্পাদন করি, আমার উদরের দু পার্শ্ব পূর্ণ হয়।’৮
রামায়ণেও পাওয়া যায় গোমাংস পরিবেশনের সংবাদ— ‘কিছুদূর যাবার পর তাঁরা ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে উপস্থিত হলেন। শিষ্যপরিবৃত্ত ভরদ্বাজকে প্রণাম ক’রে রাম নিজের পরিচয় দিলেন। ভরদ্বাজ তাঁদের স্বাগত জানিয়ে অর্ঘ্য, বৃষ, জল ও বন্য ফলমূল প্রভৃতি নানাবিধ আহার্য দিয়ে বললেন,কাকুৎস্থ,বহুদিন পরে তোমাকে এখানে দেখছি।’৯
বৌদ্ধ ধর্ম-সাহিত্যেও পাওয়া যায় গোমাংস ভক্ষণের একাধিক প্রমাণ— ‘কুটদন্ত নামক এক ব্রাহ্মণ মগধের রাজা বিম্বিসারের কাছ থেকে ব্রহ্মোত্তর জমি পেয়ে বড়োই সুখে দিন কাটাচ্ছিল। একবার সে এক বিশাল যজ্ঞের আয়োজন করে। যজ্ঞে বলি দেওয়ার জন্য সাতশো ষাঁড়, সাতশো বাছুর, সাতশো ছাগল এবং সাতশোটি ভেড়া হাড়িকাঠের কাছে থামের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল।’১০ বুদ্ধ পরিব্রাজনেএসে তাঁকে নিবৃত্ত করেছিলেন এই হত্যাযজ্ঞ থেকে।
উল্লিখিত তিনটি ক্ষেত্রেই গোমাংস প্রসঙ্গ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে, দুটি ক্ষেত্রে শুধু ষাঁড় এবং একটি ক্ষেত্রে ষাঁড়ের সাথে বাছুরের উল্লেখ আছে। সম্ভবত কচি এঁড়েবাছুরের মাংসের পৃথক স্বাদের রান্নারও বেশ কদর ছিলো। বেদ-পুরানের আরো কিছু পঠন থেকে আমারা জানতে পারি, মূলত পশু-পালক আর্য জনগোষ্ঠীতে গাভী হত্যার প্রচলন ছিলো না এবং এটাকে তারা প্রবল পাপ হিসেবে গণ্য করতো। ঋগ্বেদ সংহিতার ১০/৮৭/১৬ সূক্তে দেখা যায়- ‘যে *রাক্ষস…হত্যা করার অযোগ্য গাভীর দুগ্ধ হরণ করে, হে অগ্নি! নিজ বলে তাদের মস্তক ছেদন করে দাও।’১১
রাহুল সাংকৃত্যায়ণ তাঁর ভোল্গা থেকে গঙ্গা গ্রন্থে বনপর্ব ও শান্তিপর্ব থেকে উদাহরণ টেনে দেখিয়েছে— ‘এই দশপুর রন্তিদেবের রাজধানী ছিল। আর চর্মণবতী নাম কি(কী) করে হল সে এক আশ্চয কাহিনী। ব্রাহ্মণ সংস্কৃতির পুত্র, কিন্তু নিজে ক্ষত্রিয় রাজা রন্তিদেব অতিথিসেবার জন্য খুব প্রসিদ্ধ ছিল। সত্যযুগের ষোল জন মহান্ রাজার মধ্যে একজন রন্তিদেবের ভোজনশালার জন্য প্রতিদিন দু’হাজার করে গরু মারা হত। তাদের চামড়া রসুইখানায় রাখা হতে। তা থেকে যে রস গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ত তাতে এক নদীর সৃষ্টি হয়। চর্ম থেকে উৎপত্তি বলে তার নাম চর্মণবতী।(রাজ্ঞে মহানসে পূর্ব রন্তিদেবস্য বৈ দ্বিজ/অহন্যহনি বধ্যেতে দ্বে সহস্রে গবাং তথা—বনপর্ব ২০৮/৮ ও মহানদী চর্মারাশরূৎক্লেদাত সংসৃজে যতঃ/ ততশ্চর্ম ন্বতীত্যেবং বিখ্যাতা সা মহানদী—শান্তিপর্ব ১৯/২৩) ’১২
অনুমান করা যায় পশু-পালক আর্যরা গাভীকে উৎপাদিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনায় রেখেই গাভী হত্যা করতো না তবে উপমহাদেশের মূল জনগোষ্ঠী কৃষিজীবী বা শিকারজীবী অনার্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে এসব বাছবিচার ছিলো না বোঝা যায়— ‘হে ইন্দ্র! যে অস্ত্র ক্ষেপন করে পাপাত্মা রাক্ষসকে বিদীর্ণ করলে, তোমার সে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র কোথায় রইল? যেরূপ গোহত্যাস্থানে গাভীগণ হত হয়(২) সেরূপ তোমার ঐ অস্ত্রদ্ধারা নিহত হয়ে বন্ধুদ্বেষী রাক্ষসগণ পৃথিবীতে পতিত হয়ে শয়ন করে।’১৩
আর্য-অনার্য ভেদে গোমাংস আহারের কারণে বৃষের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে হোক বা মহামারীতে গো-সম্পদহানি হওয়ার কারণে হোক, পরীবর্তীতে গোহত্যা কঠিন ভাবে নিষিদ্ধ হয় তা *পুরাণের প্রায়শ্চিত্ত পদ্ধতি পাঠে অনুধাবন করা যায়। তারপরও, গাভী(গোরু) হত্যা আর গো(বৃষ)হত্যার প্রায়শ্চিত্তে জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান দেখা
যায়- ‘গোরু অথবা ব্রাহ্মণকে হত্যা করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ বিসর্জন করবে অথবা অগ্নিতে আত্মাহুতি দেবে। তাহলে ব্রহ্মহত্যার পাপ মুক্ত হবে।…গোহত্যা করলে একমাস সংযত হয়ে দুধ পান করবে এবং রাতে গোয়ালে শোবে। গোরু চরালে এবং গোদান করলে শুদ্ধ হওয়া যায়।’১৪
এবার প্রশ্ন তোলা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত না হলেও উপমহাদেশের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর কাছে গোমাংস অস্পৃশ্য
অভক্ষ্য হয়ে উঠলো কী ভাবে? মোটাদাগে উপমহাদেশ বলে ফেললে অবশ্য কিছুটা ভুল বলা হয়। বাংলা-ভারত-বার্মা(মিয়ানমার) জুড়ে যে কয়েক কোটি মানুষ বাস করে, বিশেষত ইতিহাস ভূগোলের পালাবদলে বাংলা-ভারতে যারা এ সময়ে আদিবাসী অথবা উপজাতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত, তাদের খুব সামান্য কিছু মানুষ মাত্রই শুনেছে যে, বাঙালি-বৌদ্ধরা গোমাংস নিষিদ্ধ খাবার বলে জানে।
গোমাংস নিষিদ্ধ হওয়ার, আরও ভালোভাবে বলতে গেলে- স্বতঃ প্রণোদিত হয়ে নিষিদ্ধ জ্ঞান করার কারণ নিহিত রয়েছে বাঙালি বৌদ্ধদের অতীত ইতিহাসে। নিজেদের মধ্যে বিভাজন, বিনয় বিরোধী তান্ত্রিক চর্চা, ব্রাহ্মণ্যবাদের উত্থান আর মুসলিম আক্রমণের তোপের মুখে যে উপমহাদেশের বৌদ্ধ ধর্মের প্রায়বিলুপ্তি তা কম-বেশি সবার জানা আর এই প্রবন্ধে তা বিস্তারিত লিখা মানেই কলেবর বৃদ্ধি করে ধৈর্য্চ্যুতি ঘটানো হবে। তবে ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়— ‘বৌদ্ধদের স্বতন্ত্র সম্প্রদায়গঠনের দিকে আদৌ লক্ষ্য ছিল না। এই ধর্ম্ম সহজ সর্ত্তে বিশ্বশুদ্ধ লোককে গৃহী বৌদ্ধ বলিয়া গ্রহণ করিয়া ছিল। এই ধর্ম্ম যতদিন উন্নতির অভিমুখে চলিতেছিল ততদিন এই নীতি অনুসরণে সুফলই ফলিয়াছিল। কিন্তু এই ধর্ম্ম যখন অবনতির অভিমুখে যাইতেছিল তখন ইহার ফল অতি ভীষণ হইয়াছিল তখন আর সাধারণ হিন্দুর সহিত বৌদ্ধ গৃহীর স্বাতন্ত্র্যজ্ঞাপক রেখা পরিলক্ষিত হইত না।
একদিকে সাম্প্রদায়িক ক্রিয়াকর্ম্ম, আচার-অনুষ্ঠানের আবেষ্টন রচনা করিয়া বৌদ্ধধর্ম্ম আপনার স্বাতন্ত্র্য রক্ষার চেষ্টা করেন নাই; অন্যদিকে ভারতীয় আর্য সমাজ ইহার চিরন্তন প্রকৃতির প্রভাবে বৌদ্ধদিগকে ইহার বিরাট জঠরে গ্রহণ করিবার জন্য মুখ-ব্যাদান করিয়াছিল। এই দুইয়ের সমবায়ে বৌদ্ধধর্ম্ম ভারতীয় ব্রাহ্মণ্য ধর্ম্মের মধ্যে আপনাকে নিঃশেষে নিমজ্জিত করিয়াছিল। বৌদ্ধ আচার-অনুষ্ঠান হিন্দু আচারে পরিণত হইল, বৌদ্ধ মন্দির হিন্দু মন্দিরে পরিণত হইল।’১৫
এই নিমজ্জন এতো বেশি গভীর হয়েছিলো যে, পূর্ববাংলার বৌদ্ধরা ভুলেই যায় হিন্দুধর্মের সাথে তাদের ধর্ম বিশ্বাসের দূরত্ব কত বেশি। চল্লিশ বছর আগে আমাদের মা-মাসীদের দেখেছি সরস্বতী পূজা আর লক্ষ্মী পূজা গভীর নিষ্ঠায় পালন করতে। শনি পূজা, বসুমতি পূজা, হরির লুট, মনসার ডালি এখনও সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে মনে হয় না। পনর বছর আগে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে , উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি সরকার বলেছিলেন—তাঁর জন্মস্থান নোয়াখালীতে কেউ জানেই না যে, হিন্দু আর বৌদ্ধ দুটি পৃথক ধর্ম-সম্প্রদায়। ওখানকার হিন্দু-বৌদ্ধরা একই সমাজভূক্ত সদস্য হিসেবে বাস করে এবং তাদের মধ্যে বিয়ে, পূজা-পার্বণ বা যে কোন সামাজিক কাজ একই ধর্মসম্প্রদাযের মানুষ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে ফিরে মূল বিষয়টি জানানোর পর না কি তারা খুব বিস্মিত হয়।
এখনও হিন্দু আইনের অধীন বৌদ্ধরা নিজেদের স্বরূপ বোঝার ইতিহাস খুব পুরানো হয়নি।‘বিশ শতকের প্রথম দিকে ১৯০৫ সালে ভারতের ব্রিটিশ গর্ভনর জেনারেল লর্ড কার্জন চট্টগ্রাম সফরে আসলে বৌদ্ধ সমিতির নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা বৃহত্তর ক্ষেত্রে প্রায় অপরিচিত বৌদ্ধদের দাবী-দাওয়া উচ্চারণ করে লর্ড কার্জন সমীপে এক দীর্ঘ স্মারকলিপি পেশ করে।’১৬ শোভাযাত্রাটি বের হয়েছিলো ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বৌদ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণচন্দ্র চৌধুরীর নেতৃত্বে, যিনি কৃষ্ণ নাজির হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দাখিলকৃত স্মারকলিপির অন্যতম দাবিটিই ছিলো—বৌদ্ধদের পৃথক ধর্মসম্প্রদায় হিসেব স্বীকৃতি দান। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের বৌদ্ধদের স্বরূপ চেনার ইতিহাস মাত্র বছর বিশেকের।
যাই হোক, এই নিমজ্জনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বৌদ্ধদের গোমাংস ছাড়ার ইতিহাস। উপরের বেদ,পুরাণ, রামায়ণ আর বৌদ্ধ সাহিত্যের উদ্ধৃতি দিয়ে নিশ্চয় বোঝা যায়, বর্ণপরিচয়হীন অর্বাচীনের কাছে ‘ক’ অক্ষর যেমন অপরিচিত, উপমহাদেশের মানুষের কাছে গোমাংস কখনো তেমন অপরিচিত ছিলো না।
মানুষের মাংস আহারের প্রয়োজন আছে কি না সে প্রশ্ন তোলা হলে, আমার মত হচ্ছে—প্রয়োজন আছে। কারণ- ‘মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, মাংসভোজী প্রাণীতে পরিণত হওয়া। প্রথমে ছিল তৃণভোজী। ধীরে ধীরে পৃথিবীর আবহাওয়া পরিবর্তন হতে লাগল। আবহাওয়া ক্রমে হয়ে উঠলো শুকনো। গাছপালা, লতাপাতা, শাকসবজি কমতে থাকে। বেঁচে থাকার তাগিদে তখন এরা মাংসভোজী হয়।’১৭ একই সাথে ধীরে ধীরে আরও দুটি বিবর্তন সম্পাদন হয়ে যায়। প্রথমত– মানুষের শ্বদন্তপ্রায় বিবর্তিত ছেদনদন্ত প্রকট হয়, দ্বিতীয়ত—নিজের শরীরে আমিষ উৎপাদনের ক্ষমতা প্রায় শেষ হয়ে আসে। তাই খুব সহজেই সিদ্ধান্ত নেয় যায়, যতদিন মানুষের এই ছেদনদন্ত বজায় আছে ততদিন আমিষের প্রয়োজনেই মানুষকে মাংসের কাছে যেতে হবে।
যেতে যে হবে, বুদ্ধের এটা খুব ভালো করেই জানা ছিলো, আর জানা ছিলো বলেই তিনি অহিংসার চূড়ান্ত প্রবক্তা হয়েও মাংসাহার নিষিদ্ধ করেননি। দশটি বিদ্যা বুদ্ধের অধিত ছিলো বলেই তাঁর আরেক নাম– ‘দশবল’। সে দশবিদ্যার মধ্যে একটি ছিলো শরীরবিদ্যা। তাই ভৈষজ্যগুরু হিসেবেও বুদ্ধের পরিচয় পাওয়া যায়– ‘বুদ্ধের পরিচয় কেবল অহিংসার প্রচারক হিসেবে নয়, তিনি একজন মহাশক্তিধর যোগীও ছিলেন।…আমাদের এখানে বহু কম লোকই জানে যে বৌদ্ধ দেশগুলিতে বুদ্ধের অন্যতম পরিচয়—‘ভৈষজ্য-গুরু’ নামে। তিব্বত, চিন এবং জাপানে বুদ্ধের ভৈষজ্য-গুরু নামে আলাদা মূর্তি রয়েছে। এরূপ বৌদ্ধমূর্তিগুলিতে আরোগ্যের প্রতীক সংলগ্ন আছে।’১৮
তবে সবকিছুর মতো মাংসাহারেও পরিমিতিবোধের প্রয়োজন আছে। দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘মাংস কম খেলে পৃথিবী বাঁচবে’ শিরোনামের প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের এক্সিটার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে– ‘ইতিমধ্যে জাতিসংঘ জানিয়েছে, পৃথিবীতে যানবাহন থেকে যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন হয়, এর চেয়ে বেশি নির্গমন হয় মাংস উৎপাদনে।… বর্তমান হারে মাংস উৎপাদন করে গেলে ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কেবল কার্বনের পারিমাণই ৫৫ পিপিএম(পার্টস পার মিলিয়ন) দাঁড়াবে। আর যদি এখনই এর পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনা যায় তবে ওই সময়ে বায়ুমণ্ডলে কার্বনের মাত্রা নেমে আসবে ২৫ পিপিএমে। তাই মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা মাংসকম খাবে, নাকি কেবল জিহ্বার স্বাদ মেটাতে গিয়ে আপন গ্রহকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।’১৯
সম্প্রতি ভারতের এক নেতা মুনি ঋষিরা গোমাংস খেতেন বলে বিপদে পড়েছেন—‘ভারতে প্রাচীনকালে মুনি, ঋষিরাও গরুর গোশত খেতেন বলে মন্তব্য করেছেন বিহারের আরজেডি নেতা রঘুবংশ সিং। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। …রঘুবংশ প্রসাদ সিংকে আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদের করা গরুর গোশত সংক্রান্ত মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এর যথার্থতা প্রমাণ করতে বেদ, পুরাণের উদ্ধৃতি দেন।… রঘুবংশ প্রসাদ সিং বলেন, ‘বৈদিক যুগে মানুষ গরুর গোশত খেত, শাস্ত্রে তার প্রমাণ রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্ম জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পরে গরুর গোশত খাওয়া কমে যায় এবং পরে গরু জবাইয়ে লাগাম টানা হয়।’২০
তারও আগে, আমি মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় আসরে কথাটা বললেও, চুতুর্থ আর পঞ্চম আসরেও কানাঘুষা শুনতে পেলাম বলেই এই প্রবন্ধের অবতারণা। আমার বোধ বলছে, বুদ্ধ কখনো বলেননি যে– বড় আকারের প্রাণীর ব্যথা বেশি আর বড় প্রাণী হত্যা করলে পাপ বেশি, কখনও বলেননি যে- ছোট প্রাণী হননকালে কম ব্যথা পায় বলে হননে পাপ কম। বরং বলেছেন— ‘প্রত্যেক প্রাণির কাছে তাহার প্রাণ অত্যন্ত মূল্যবান, মাতা যেমন তাহার একমাত্র সন্তানকে নিজের জীবন দিয়াও রক্ষা করে সব প্রাণীর প্রতি অনুরূপ করুণা প্রদর্শন করিবে।’
আপনি যদি, আপনার সন্তানের বিয়েতে মাংস রাখতেই চান তবে ২০০ মোরগ-মুরগি হননের চেয়ে একটি গরু হনন বুদ্ধিমানের কাজ, বিশেষত কসাইখানায় প্রতিদিনই যখন জবাই করা গরু পাওয়া যায় (অদৃষ্ট-অশ্রুত-অপরিশঙ্কিত) তখন গোমাংস পরিবেশন হবে বোধের কাজ, দুইশত মুরগি (অদৃষ্ট-অশ্রুত-অপরিশঙ্কিত) আপনি বাজার থেকে তুলে নিলে যে মাংস বিক্রেতা কর্তৃক কমপক্ষে আরও একশত মুরগি গ্রাহক সন্তুষ্টির জন্য সেদিনই হনন করা হবে তা স্মরণ রাখা হচ্ছে প্রজ্ঞার কাজ।
————————————————————————————
*নিষিদ্ধ হওয়ার আগে ভিক্ষুরা জুগুপ্সিত ও ঘৃণার্হ প্রাণী আহার করার তিনটি কারণ ছিলো। প্রথমত, ভিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্ম, পেশা, ধনী-গরিব বাছাই করার নিয়ম না থাকা; দ্বিতীয়ত, দুর্ভিক্ষের কারণে জনসাধারনের অভক্ষ্য মাংস আহার(মহাবর্গ দ্রষ্টব্য) এবং তৃতীয়ত, অনার্য্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় সব প্রাণীর মাংস আহারের প্রচলন, যা এখনও কোল-মুণ্ডারী-কিরাত বংশোদ্ভূত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত।
*সূকরমদ্দব/শূকরমার্দ্দব প্রকৃতপক্ষে কী ধরণের খাদ্য তা নিয়ে নানা মত পাওয়া যায়। যদিও এখনও তা সঠিক নির্ণিত হয়নি, বহুল প্রচলিত মতটি হচ্ছে শুকরের খোয়ারের কাছে গজানো মাশরুম। বছর ত্রিশেক আগের এক ঘটনার কথা স্মরণ করলে বিষয়টি যথার্থ মনে হয়। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মহামুনি গ্রামে জাপানী ভিক্ষু রেভারেণ্ড ওয়তানবে প্রতিষ্ঠিত অনাথ আশ্রমে একবার বেড়াতে আসে কিছু জাপানী কিশোর-কিশোরী, কাছের পাহাড়ে গিয়ে তারা বিশেষ একধরণের মাশরুম তুলে আনে এবং রান্না করে খায় সবাই মিলে। খাওয়ার পরপরই বাঙালি অনাথ-শিশুরা প্রবল পেটের পীড়ায় আক্রন্ত হলেও, অভ্যস্থ জাপানী কিশোর-কিশোরীদের কোনো সমস্যাই হয়নি। উল্লেখ্য যে, চুন্দের দেওয়া খাবারটি আহার করার সাথে সাথে বুদ্ধেরও একই অবস্থা হয়েছিলো।
*আরাকান-বার্মার রাখাইনরাই মূলত রাক্ষস হিসেবে পরিচিত ছিলো। রাক্ষস শব্দ থেকে রাখাইন শব্দের উৎপত্তি বলা হলেও, মনে হয় রক্ষণশীল (যারা আর্যদের ধর্ম গ্রহণে রাজি ছিলো না) অভিধা থেকেই রাখাইন শব্দের উৎপত্তি। বলা হয়ে থাকে তারা একসময় নরমাংস ভক্ষণ করতো, তাই পরবর্তীতে রাক্ষস শব্দটি নরমাংসভোজীর প্রতিশব্দ হয়ে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি। এটাও দেখা যায় যে, তারা একসময় আগুন সংরক্ষণ করতো। সে অর্থেও তারা রক্ষণশীল ছিল।
******
কৃতজ্ঞতা স্বীকার:-
রুবিনা চৌধুরী, কানাডা। জয়া চৌধুরী, ভারত।
তথ্যসূত্র:-
১। মহামানব বুদ্ধ, রাহুল সাংকৃত্যায়ন, ভূমিকা ও সম্পাদনা-যতীন সরকার, দ্বিতীয় প্রকাশ: জানুয়ারি ২০১২, প্রকাশক: মোঃ
আমজাদ হোসেন খান(জামাল), রুক্কু শাহ্ ক্রিয়েটিভ পাবলিশার্স, ৪৫ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০, পৃষ্ঠা-৬৬-৬৭।
২। মহাবর্গ, প্রজ্ঞানন্দ স্থবির অনূদিত, যোগেন্দ্র-রূপসীবালা ত্রিপিটক ট্রাষ্ট বোর্ড হতে সেক্রেটারী শ্রীঅধরলাল বড়ুয়া প্রকাশিত,
২৪৮০ বুদ্ধাব্দ, ১৯৩৭ খৃস্টাব্দ, পৃষ্ঠা-২৮৯।
৩। প্রাগুক্ত-২, পৃষ্ঠা-২৯১। ৪। প্রাগুক্ত-১, পৃষ্ঠা-৩৫-৩৬।
৫। মহাপরিনিব্বান সুত্তং অর্থাৎ তথাগতের অন্তিমাবদান, রাজগুরু শ্রীধর্ম্মরত্ন মহাস্থবির, বিনয় বিশারদ সঙ্কলিত ও অনূদিত,
প্রকাশিকা:- শ্রীঅন্নপূর্ণা বড়ুয়া, ২৪৮৫ বুদ্ধাব্দ, ১৯৪১ খৃষ্টাব্দ, টীকা পৃষ্ঠা-৯৯।
৬। প্রাগুক্ত-১, পৃষ্ঠা-৪।
৭। বেদ, ঋগ্বেদ-সংহিতা, দ্বিতীয় খণ্ড, রমেশচন্দ্র দত্তের অনুবাদ অবলম্বনে ভূমিকাঃ শ্রীহিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক: আবদুল
আযীযআল-আমান এম. এ, হরফ প্রকাশনী, কলেজ ষ্ট্রীট মার্কেট, কলকাতা, পৃষ্ঠা-৫৬২।
৮।বাল্মীকি রামায়ণ,সারানুবাদ-রাজশেখর বসু,প্রকাশক-অশোক রায় নন্দী, নবযুগ প্রকাশনী, বাংলাবাজার,ঢাকা-১১০০, পৃষ্ঠা-
৮৯।
৯। প্রাগুক্ত-১, পৃষ্ঠা-৬৩-৬৪।
১০। প্রাগুক্ত-৮, পৃষ্ঠা-৫৬৫। ১১। ভোল্গা থেকে গঙ্গা, রাহুল সাংকৃত্যায়ন(অনুবাদিত), চিরায়ত প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ১২ বঙ্কিম চ্যাটাজরী রোড,
কলকাতা, পৃষ্ঠা-১৫৮।
১২। বেদ, ঋগ্বেদ-সংহিতা, দ্বিতীয় খণ্ড, রমেশচন্দ্র দত্তের অনুবাদ অবলম্বনে ভূমিকাঃ শ্রীহিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক: আবদুল
আযীযআল-আমান এম. এ, হরফ প্রকাশনী, কলেজ ষ্ট্রীট মার্কেট, কলকাতা, পৃষ্ঠা-৫৭০।
১৩। অগ্নি পুরাণ, প্রথম খণ্ড, সম্পাদক- ডঃ অশোক চট্টোপাধ্যায়, ভাষান্তর- নির্মলেন্দু কর্মকার, প্রকাশক- প্রসূন বসু, প্রথম
প্রকাশ- মার্চ ১৯৯০, নবপত্র প্রকাশন, বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রীট, কলিকাতা, পৃষ্ঠা-২৬৯।
১৪। বৌদ্ধ ভারত, শরৎকুমার রায়, করুণা প্রকাশনী, প্রকাশক-বামাচরণ মুখোপাধ্যায়, ১৮এ টেমার লেন, কলকাতা, দ্বিতীয়
মুদ্রণ- ১৪০৭, পৃষ্ঠা-১৩৫।
১৫। শত বর্ষের আলোকে বাঙালি বৌদ্ধ: ১৯০০-২০০০- দেবপ্রিয় বড়ুয়া,চারুলতা,সম্পাদক- উত্তমকুমার বড়ুয়া, ৯ম বর্ষ, ১ম
সংখ্যা, এপ্রিল ২০০৫, চৈত্র ১৪১২, বুদ্ধাব্দ ২৫৪৮, মিরপুর,ঢাকা, পৃষ্ঠা-১০।
১৬। প্রাচীন পৃথিবীর সেরা ৭ উদ্ভাবন, আলী ইমাম, প্রকাশক- মোশতাক রায়হান, আদিগন্ত প্রকাশন, তোপখানা রোড, সেগুন
বাগিচা, ঢাকা, পৃষ্ঠা-১১।
১৭। প্রাগুক্ত-১, পৃষ্ঠা-৬৯। ১৮। দৈনিক কালেরকণ্ঠ, ঢাকা, ২১ জুন ২০১২, ৭ আষাঢ় ১৪১৯, শেষ পৃষ্ঠা।
১৯। রেডিও তেহরান/এমএএইচ/জিএআর/১০ (THE HINDU,Online edition of India’s National Newspaper, Tuesday, August 14, 2001),গুগল থেকে।
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা