অনলাইন ডেস্ক
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী তাদের স্থল অভিযান শুরু করার পর থেকে সেখানে ৪৬ জন সেনা নিহত হওয়ার খবর মিলেছে।ইসরাইলের তিনটি প্রধান টিভি নিউজ চ্যানেল, নাম উল্লেখ না করেই বলেছে গাজায় হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্ত করার চুক্তির দিকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। নেতানিয়াহু বলেছিলেন, তিনি কোনও সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে বিশদ আলোচনা করবেন না। যুদ্ধে তিন থেকে পাঁচ দিনের বিরতির সময় ৫০ থেকে ১০০ নারী, শিশু এবং বয়স্কদের পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেয়া হবে।
নেতানিয়াহু বলেন, যখন আমাদের কিছু বলার থাকবে তখন আমরা পরিবারগুলোকে জানিয়ে দেব।ততক্ষণ পর্যন্ত নীরবতা সবচেয়ে ভাল। তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষ জিম্মি পরিবারকে সমর্থন করার জন্য একটি সমাবেশে যোগ দেয়। গাজার বাসিন্দারা বলেছেন, ইসরাইলি সৈন্যরা, যারা ৭ অক্টোবরের রক্তক্ষয়ী আন্তঃসীমান্ত হামলার পর হামাসকে নির্মূল করার জন্য যুদ্ধে গিয়েছে, গাজা শহর এবং আশেপাশে যেখানে গাজার বৃহত্তম আল শিফা হাসপাতাল অবস্থিত, সেখানে সারারাত হামাস বন্দুকধারীদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী আশরাফ আল-কিদরা বলেছেন, জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর হাসপাতালের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর ফলে ইনকিউবেটরে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেখানে মোট ৪৫টি শিশু ছিল। এই পরিস্থিতিতে ভরসা ছিল জেনারেটরের উপরই। কিন্তু জ্বালানি সংকটে এবার সেগুলোও জবাব দিচ্ছে। হাসপাতালের ইনকিউবেটরে থাকা অসহায় শিশুদের সামনে তাই কার্যতই মৃত্যুর হাতছানি। এই অবস্থায় ভরসা জোগাচ্ছে ইসরাইলি সেনার আশ্বাস। ইসরাইলের প্রধান সামরিক মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ‘ইসরাইলি সামরিক বাহিনী হাসপাতাল থেকে শিশুদের সরিয়ে নিতে সাহায্য করবে। শিফা হাসপাতালের কর্মীরা অনুরোধ করেছেন, আমরা যাতে শিশুদের একটি নিরাপদ হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহায্য করি। আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করব। ইসরাইল বলেছে যে ডাক্তার, রোগী এবং হাজার হাজার উদ্বাস্তু যারা উত্তর গাজার হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছে তাদের অবশ্যই চলে যেতে হবে যাতে তারা হামাসের মোকাবেলা করতে পারে। কারণ তারা হাসপাতালের চারপাশে কমান্ড সেন্টার স্থাপন করেছে। হামাস এইভাবে হাসপাতাল ব্যবহার করার কথা অস্বীকার করেছে। চিকিৎসাকর্মীরা বলছেন যে রোগীদের এখনই সরানো না হলে তারা মারা যেতে পারে। আল শিফার একজন সিনিয়র প্লাস্টিক সার্জন আহমেদ আল-মোখাল্লালাতি রয়টার্সকে বলেছেন, সেখানে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে একটানা বোমাবর্ষণ চলছে। তিনি বলেছিলেন, বেশিরভাগ হাসপাতালের কর্মী এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া লোকেরা চলে গেছে, তবে ৫০০ রোগী রয়ে গেছে। ইসরাইল বলেছে তারা কয়েক ঘণ্টার জন্য গুলি চালানো বন্ধ করবে যাতে গাজার বাসিন্দারা দক্ষিণে সরে যেতে পারে এবং একজন সামরিক মুখপাত্র বলেছেন যে গত তিন দিনে কমপক্ষে দেড় লক্ষ লোককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। লন্ডনে অন্তত ৩০০,০০০ ফিলিস্তিনিপন্থী বিক্ষোভকারীরা মিছিল করেছে এবং পুলিশ ১২০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করেছে । ব্রাসেলসে ফিলিস্তিনিপন্থী সমাবেশে ২০ হাজারের বেশি মানুষ যোগ দিয়েছে। সৌদি আরব, মুসলিম ও আরব দেশগুলোর বৈঠকে ইসরাইলের আত্মরক্ষার ন্যায্যতা প্রত্যাখ্যান করে গাজায় সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা