গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) সর্বশেষ (২০১৯) গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ৮৮ স্কোর নিয়ে ৮০তম স্থানে উঠে এসেছে। এর আগের (২০১৮) সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮৮ আর স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৫৭।
আর বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি), বন্দিশালা নির্মাণ, জিডিপি’র হার ক্রমাগত হ্রাসের পরিস্থিতির মধ্যেই ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)-র বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক সূচকে ১০ ধাপ পিছিয়েছে ভারত।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ এ সাময়িকীর গবেষণা শাখা ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ২০০৬ সাল থেকে এই সূচক প্রকাশ করে আসছে।
১৯৪৬ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে ইকোনমিস্ট পত্রিকার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইআইইউ। ১৬৭টি দেশের গণতন্ত্রের ওপর মোট ৬০টি ইনডিকেটরের ভিত্তিতে তৈরি করা তাদের তালিকায় সর্বোচ্চ পয়েন্ট ধরা হয় ১০।
ইআইইউর সূচক অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পরে এবারই সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭তম। বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের সূচকে পেয়েছে ৬ দশমিক ১১। রাজনৈতিক সংস্কৃতি সূচকে ৪ দশমিক ৩৮। আর বেসামরিক নাগরিকদের স্বাধীনতার সূচকে পাঁচ দশমিক শূন্য।
এবার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটির মোট পয়েন্ট ৬ দশমিক ৯০। সেই হিসাবে দেশটির সূচকে এবার পতন হয়েছে। আগের বছর ভারতের সূচক ছিল ৭ দশমিক ২৩।
ইআইইউর এই সূচকে এবারও ৯.৮৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। এরপরই আছে ৯.৫৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় আইসল্যান্ড। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন (স্কোর ৯.৩৯), চতুর্থ নিউজিল্যান্ড (স্কোর ৯.২৬), পঞ্চম ফিনল্যান্ড (স্কোর ৯.২৫)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশগুলো আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির পাশাপাশি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ট উন্নতি করছে। মহাদেশভিত্তিক গণতন্ত্র সূচকে শীর্ষে রয়েছে উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপ। তাদের মোট পয়েন্ট যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫৯ ও ৮ দশমিক ৩৫।
সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কার্যকর গণতন্ত্র রয়েছে ২২টি দেশে। আর ফ্লড ডেমোক্রেসি রয়েছে ৫৪টি দেশে। হাইব্রিড রেজিম রয়েছে ৩৭টি দেশে। আর কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে ৫৪টি দেশে।
পাঁচ মানদণ্ডে একটি দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১০ ভিত্তিক এই সূচক তৈরি করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। এগুলো হলো নির্বাচন ব্যবস্থা ও বহুদলীয় পরিস্থিতি, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার। প্রতি সূচকের পূর্ণমান ধরা হয় ২।
Like & Share our Facebook Page: Facebook
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা