দুই হাজার ঊনিশ সালের আটাশে ডিসেম্বর। সকাল বেলায় তড়িঘড়ি করে চলে এলাম আমার কর্মস্থল ক্যান্সার ইন্সটিটিউটে। অনেক রাতে বাসায় ফিরেছি বুড়িগঙ্গার ওপার থেকে। আমার বড় ভাইয়ের ভায়রা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। সকাল নয়টায় জানাজা। কুমুদিনী মেডিকেল কলেজের থার্ড ইয়ারের ছাত্রীরা ফিল্ড ভিজিটে আসার কথা সকালেই। তাই অনেক রাতে আমার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মৃত আত্মীয়কে দেখে এলাম। রাতে ভালো ঘুম হয় নি।
হাসপাতালে ঢুকে দেখি ছাত্রীরা সব বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। খোঁজ নিতে গেলাম পরিচালকের রুমে। কুমুদিনীর দুইজন শিক্ষিকা অনুনয়-বিনয় করে বলছেন, একমাস আগে থেকে নির্ধারিত ক্লাশটির ব্যবস্থা করতে। সদ্য সাবেক পরিচালকের এক কথা। আজ বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় আসবেন। তাই আজ কোন ক্লাশ হবে না। আগামীকাল আসেন। শিক্ষিকা বলছেন, দুইটি বাস ভাড়া করে এসেছেন তারা। কাল আসা সম্ভব না। পরিচালক মহোদয় কিছুতেই রাজী হচ্ছেন না। তখন আমি তাকে অনুরোধ করে বললাম, মন্ত্রী মহোদয় আসবেন বিকেল চারটায়। এখন সকাল নয়টা। মন্ত্রী মহোদয়ের অনুষ্ঠান অডিটোরিয়ামে। আমি ক্লাশ নিবো আরেক বিল্ডিংয়ের কনফারেন্স হলে। কোন অসুবিধা হবে না। তাছাড়া একমাস আগে উনারা চিঠি দিয়েছেন। আপনি অনুমোদন করেছেন। মন্ত্রী মহোদয় আসছেন বলে ক্লাশ হবে না, এটা তো উনাদেরকে আগে জানানো হয় নি। পরিচালক তবু রাজী হলেন না। আমার খুব খারাপ লাগছিলো। কুমুদিনীর প্রাক্তন প্রিন্সিপাল, যিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজেরও প্রাক্তন প্রিন্সিপাল এবং আমার ও আরো অনেক সিনিয়র অধ্যাপকের সরাসরি শিক্ষক জলিল স্যার এসেছেন। তাঁকে কি করে বলি। আমি দুইজন শিক্ষিকাকে বললাম, আসেন দেখি কি করতে পারি। ভাবছিলাম, বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কিনা। একটু পরেই পরিচালকের পিএ রাজিব ফোন করে জানালো, স্যার আপনাকে আজ ক্লাশ নিতে নিষেধ করেছেন। আমি নিপসমের পরিচালক আমার মেডিকেলের ছোট ভাই বায়েজিদকে ফোন করলাম। জলিল স্যারের কথা বললাম, নিপসমে ক্লাশ নেয়া যায়? বায়েজিদ বললো, ভাই শনিবার তো নিপসম ছুটি। বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউটের পাশেই শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট। ওখানকার ডিরেক্টর ফারুক ভাইকে ফোন করলাম। দশ মিনিট পর জানালেন, মিটিং আছে।
জলিল স্যারের কাছে খুব লজ্জিত বোধ করছিলাম। স্যার খুব ক্ষুব্ধ। তিনি বলছিলেন, মন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ক্লাশ বাতিল হবে এতো দূর থেকে আসার পরে, এটা এতো বছর অধ্যাপনা করে ভাবতে পারছি না। আমি স্যারকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। পরিচালক মহোদয়ের আগামিকাল মেয়াদ শেষ। এখনো কাউকে নিয়োগ দেয়া হয় নি। একটু অস্থিরতার মধ্যে আছেন আজ। স্যার বললেন, আমার মেয়েরা রাস্তায় দাঁড়াক। তুমি লেকচার দাও। আমি বললাম, ভালো দেখা যায় না স্যার। বিকল্প ব্যবস্থা করছি।
বিকল্প ব্যবস্থা আমি করেছি। নিয়মের ব্যতিক্রম করেই। সেটা ভিন্ন কাহিনী। কিন্তু পদ-পদবী আমাদের হিতাহিত জ্ঞান কেড়ে নেয় কেন? বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে যতটা দেখেছি। উনার বিকেল বেলার প্রোগ্রামের জন্য একটা পোস্ট গ্রাজুয়েট ইন্সটিটিউটের সকাল বেলার নির্ধারিত ক্লাশ বাতিল হবে, এটাকে সমর্থন করবেন না।
ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন এর ফেসবুক থেকে.
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা