অনলাইন ডেস্ক
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্যের দামে লাগাম টানতে এখনই প্রশাসনের কড়া নজরদারি দরকার। তা না হলে রমজানজুড়ে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভোক্তাদের ভোগাবে।খাতুনগঞ্জের ডাল জাতীয় ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী মেসার্স আমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আমান উল্লাহ বলেন, গত ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই ডালজাতীয় প্রায় সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। নির্বাচনের পর এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে, যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোগ্যপণ্য আমদানির ঋণপত্র খুলছে না। ফলে ভোগ্যপণ্য আমদানির বিষয়টি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ কারণে চাহিদা স্বাভাবিক থাকলেও আমদানিকারকদের বাড়তি মুনাফা করার প্রবণতায় এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে।বেড়েছে আমদানি: রমজান উপলক্ষে এবার গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি আমদানি হয়েছে ছোলা। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, মিয়ানমার, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে গত ডিসেম্বরে এই পণ্যটি এসেছে ৫ হাজার ৬৪০ মেট্রিক টন। জানুয়ারিতে এসেছে ৬৬ হাজার ৩০ মেট্রিক টন। আর চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই এখন পর্যন্ত এসেছে ১৭ হাজার ৩৯৫ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছোলা আসে ২ লাখ ৩ ২৮৩ মেট্রিক টন।
গত কয়েক বছরের তুলনায় দু-তিন গুণ বেড়েছে ডাল আমদানি। এর মধ্যে মসুর ডাল, মুগডাল, মাষকলাই ও মটর ডালের আমদানি বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয় ১৯ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন মসুর ডাল। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন মসুর ডাল। এর মধ্যে গত জানুয়ারি মাসেই এসেছে ৪৯ হাজার ১৪৭ মেট্রিক টন। আর চলতি ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত এসেছে ১৭ হাজার ৯৯ মেট্রিক টন। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসেছে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন মসুর ডাল।
ভোজনরসিক বাঙালিদের খাবারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ মটর ডাল। কানাডা ও রাশিয়া থেকে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই ডালটি আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসেছে ৫০২ মেট্রিক টন। শুধু চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই এসেছে ২৪ হাজার ২১০ মেট্রিক টন।
খাবারের স্বাদে ভিন্নতা আনে মাষকলাই ডাল। রমজানে এ পণ্যটির চাহিদাও বাড়ে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই ডালটি আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৬২৫ মেট্রিক টন। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসেছে ৫ হাজার ৫৮১ মেট্রিক টন।
লাগামহীন দাম: দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের বাজার হলো চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসের পর তা সরাসরি আসে খাতুনগঞ্জে। এরপর এসব পণ্য বিভিন্ন হাত হয়ে যায় সারা দেশে। এই কারণেই বলা চলে, সারা দেশের পণ্য বাজার নিয়ন্ত্রণ করে খাতুনগঞ্জ। খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, ডাল জাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মুগের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি মুগডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, যা এক-দুমাস আগেও বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়। অর্থাৎ এই সময়ের ব্যবধানে প্রতি কেজি মুগডালের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। একই সময়ে কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে মটর ডালের দামও। এক মাস আগে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি মটর ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।
বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা মসুর (অস্ট্রেলিয়ান) ১০২ এবং চিকন মসুর (দেশি ও ভারতীয়) ১৩৪-১৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রতি কেজি মোটা মসুর ৯০ এবং চিকন মসুর ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগে প্রতি কেজি ছোলা ৯০ টাকার নিচে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সব ধরনের ডালের দাম বেড়ে বর্তমানে চিকন বা দেশি মসুর ডালের কেজি ১৫০ থেকে ১৫৫, মোটা মসুর ১১০, মুগডাল ১৮০, মটর ডাল ৯০ এবং ছোলা ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন কালবেলাকে বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাগবে ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা সমন্বিত বাজার তদারকির কার্যক্রম শুরু হলে তা অকার্যকর করতে নানা চক্রান্ত চলে। প্রশাসন অভিযান চালালেই ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠানো হয়। পরে সেই অভিযান বন্ধে চালানো হয় নানা অপতৎপরতা। গুটি কয়েক অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ভরা মৌসুমে একদিকে চালের ঊর্ধ্বমূল্য, অন্যদিকে শীতকালীন শাকসবজির ভালো উৎপাদনের মধ্যে এসবের মূল্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতাকে সদম্ভে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। আইন প্রয়োগে শিথিলতা ও স্থানীয় প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বারবার পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজারে কারসাজি, মজুত, অতি মুনাফাসহ নানা অপকর্ম করছে।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা