সৈয়দ রাশিদুল হাসান
তারুণ্যটা ছিলো ভাষার আর যৌবনটা ছিলো মানচিত্রের। গড়েছেন ভাষার জন্য শহিদ মিনার,লড়েছেন বাংগালীর মুক্তিযুদ্ধ। এই লড়াকু মানুষটি জীবনের বাজি ধরেছেন ছিনিয়ে এনেছেন স্বাধীনতা, মুক্ত আকাশ।তিনি ডাঃ আ আ ম মেসবাহুল হক বাচ্চু। আজ দেশ তাকে মরোত্তর একুশে পদক দিয়ে সম্মাননা দিচ্ছে। তবে নিজ হাতে যদি সেই সম্মাননা তিনি নিতে পারতেন, তাহলে গর্ব টা আরো একটু সিনা টান টান করে নিতে পারতো চাপাই নবাবগঞ্জ বাসি।
পচাত্তর পরবর্তী ইতিহাসেকে যে বালু চাপা দেয়ার চেষ্টা চলেছে, সেই ধারাবাহিকতায় ডাঃ আ আ ম মেসবাহুল হক বাচ্চুকেও ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা কম হয়নি। কিন্তু ঘাতকেরা জানে না, সত্য কে বালু চাপা দিয়ে রাখা যায় না। সময়ের ঝড় সেই বালুর আস্তরণ উড়িয়ে দিয়ে নক্ষত্রের মত উজ্জীবিত করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। তেমনি সময় নদী পাড়ি দিয়ে চাপাই নবাবগঞ্জের প্রিয় নেতা সবার আপনজন বাচ্চু ডাঃ পাচ্ছেন মরোত্তর অমর একুশে পদক । আর এ পাওয়া কে কেন্দ্র করে সাধারণ জনগণ ও দলীয় নেতা কর্মীরা কি বলছে তার খন্ড চিত্র তুলে ধরলাম।
ডাঃ মেসবাহুল হক বাচ্চুর একুশে পদক পাওয়া নিয়ে স্থানীয় এক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে আমার কথা হয় সজ্জন মহিপুরে। তিনি বলেন,চাপাই নবাবগঞ্জের উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম বাচ্চু ডাক্তার।ডাঃ ভাই হচ্ছেন জেলার ইতিহাসের শিকড়। প্রবীন নেতা কিছুটা আক্ষেপ নিয়ে বলেন, আজ হাইব্রিড আওয়ামীলীগ দিয়ে ভরে গেছে,দেশ প্রেম,বংগবন্ধুর আদর্শ,কোন টায় আজকের এই হাইব্রিড আওয়ামীলীগের নাধারী নেতাদের মাঝে পাওয়া যায় না। আজ বাচ্চু ভাই আমাদের মাঝে থাকলে আমাদের তৃণমূল নেতা কর্মীদের এমন দিন দেখতে হত না,তবে আশার কথা হলো একুশে পদক নতুন প্রজন্মের মাঝে নতুন করে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস তথা চাপাই নবাবগঞ্জের আওয়ামীলীগের ইতিহাস জানার আগ্রহ তৈরি করবে।
পৌর আওয়ামী লীগর এক তরুণ নেতা বর্তমান পরিস্থিতিতে খুবই ক্ষুব্ধ-বিরক্ত। স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে আসীন করেছেন হাইব্রিড ও ভোল পাল্টানোরা । ফলে মূল আওয়ামী লীগাররা কোণঠাসা। তাই স্থানীয় আওয়ামী লীগে পোড় খাওয়া ত্যাগি নেতারা মনে করে বাচ্চু ডাক্তারের এমন প্রাপ্তি বা সম্মান, সততা ও দলের প্রতি নিষ্ঠা থাকতে উৎসাহ জোগাবে তরুণ নেতা কর্মীদের।
তরুন নেতার কথার রেশ ধরে আর এক জন ছাত্র নেতা বললেন,দল এখন তরুণ মেধাবী শিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের নেতা কর্মীদের প্রাধান্য দিচ্ছে,সুতরাং আগামীতে রাজনীতি করতে হলে আবশ্যয় নুন্যতম যোগ্যতা থাকতে হবে। কারণ শুধু নেতা হলেই চলবে সাথে সাথে টেকনোলজিক্যাল জ্ঞান থাকতে হবে। সৎ ও নিষ্ঠাবান হতে হবে।
কথা চালিয়ে যাচ্ছিলাম, আর সেই সাথে আমাদের আলাপের সংগে যুক্ত হলেন আরো কয়েকজন নেতা কর্মী,
তার কথার রেশ ধরে একজন যুবলীগ নেতা বললেন, জেলার নেতৃত্ব রয়েছে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত। আগামীতে কে বা কার হাতে জেলার নেতৃত্ব থাকবে এ নিয়ে আমরা মাঠের কর্মী সমর্থককেরা বেশ দোটায় আছি,সামনে আমাদের জেলা কাউন্সিল, এমন কথা বলতেই একজন কর্মী বলে উঠলেন, এবার আর আমরা ভুল করবো না, আমাদের নেতৃত্ব এবার তরুন, বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত, ক্লিন ইমেজ, তার হাতে এবার আমাদের নেতৃত্ব দিতে চাই।
প্রশ্ন করলাম তিনি কে, এমন কেউ আছে কি, উত্তরে বললেন, এতোক্ষণ যাকে নিয়ে আলোচনা করছিলেন, একুশে পদক প্রাপ্ত ডাঃ বাচ্চু এর রক্ত যার শরীরে বইছে,তিনি আমাদের সকলের প্রিয় জ্যোতি ভাই। আমরা তরুনেরা এবার শাকের জ্যোতি ভাইয়ের হাতে চাপাই নবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চাই। তিনি নেতৃত্বে আসলে ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতা কর্মীরা সঠিক মূল্যায়ন পাবে।
এদিকে, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি(২০২০) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ডাঃ আ আ ম মেসবাহুল হক বাচ্চু এর মেয়ে চাপাই নবাবগঞ্জের সংরক্ষিত আসনের এম পি ফেরদৌসী ইসলাম জেসি ও ছেলে চাপাই নবাবগঞ্জের জেলাআওয়ামীলীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাকের জ্যোতি হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন।
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা