কাবেরী গায়েন : সাংবাদিকতা আরো অনেক শাস্ত্রের মতোই পুরুষের শাস্ত্র হিসেবে পথ চলা শুরু করেছিলো। দীর্ঘদিন তাই সাংবাদিক, সম্পাদক, ক্যামেরাম্যান, এরান্ডবয়, মেকআপম্যান, প্রুফরিডার সবই ছিলো পুরুষার্থক শব্দ। আজও সাংবাদিকতার অনেক বই-ই পাওয়া যাবে, বলতে দ্বিধা নেই সেসব বই এখনো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলােতে পড়ানো হয়, যেখানে এই শব্দগুলো পুরুষবাচক। নারীরা যখন এই ক্ষেত্রে পথচলা শুরু করলেন, তাঁদের সাথে জুড়ে দেয়া হলো নারী সাংবাদিক, সম্পাদিকা, মহিলা ক্যামেরাম্যান, মহিলা প্রুফরিডার, জাতীয় অভিধা-যেনো বা উনসাংবাদিক তাঁরা। এই ধারা আজও বহমান। অথচ কর্ম পরিচিতির আবার জেন্ডার প্রকাশ থাকবে কেনো এই প্রশ্ন উঠতে পাশ্চাত্যেই দীর্ঘ সময় লেগেছে। জেন্ডার নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিক, সম্পাদক, ক্যামেরাপার্সন শব্দগুলো আজও নতুন।
সাংবাদিকতায় নারীর পেশাদারি পথচলা অপেক্ষাকৃত নতুন পুরুষের তুলনায়, এবং বলাই বাহুল্য তার ঝুঁকিও ভিন্ন মাত্রার। গত এক বছরে ইউরোপিয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোর চারজন সাংবাদিক পেশাগত কারণে খুন হয়েছেন।তাঁদের দুজন পুরুষ ও দু’জন নারী। নারী দু’জনের ক্ষেত্রে খুনের আগে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অভিযােগ রয়েছে, গালফ-যুদ্ধ কভার করতে যাওয়া নারী সাংবাদিকরা তাঁদের পুরুষ সহকর্মীদের মতোই জীবন দেয়ার আগে ধর্ষণের মতো ঘটনার শিকার হয়েছেন। সারা পৃথিবী জুড়ে যে #Me Too আন্দোলন চলছে, সেখান থেকে বের হয়ে আসছে একে একে মিডিয়া হাউসগুলোতে কর্তব্যরত নারীরা কতোটা যৌন নির্যাতনের শিকার। সাংবাদিকতার মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় সাংবাদিক নারীর ঝুঁকি তাঁর পুরুষ সহকর্মীর তুলনায় তাই ভিন্ন মাত্রার। আমাদের হয়তো মনে আছে, ২০১৩ সালে কেবল নারী হয়ে হেফাজতের সমাবেশ কভার করতে গিয়ে সাংবাদিক নাদিয়া শারমিনকে কী ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়েছিলো। তবুও, এই পেশায় নারীর অংশগ্রহণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
আসলে গত ৩৫ বছরে যোগাযোগের জগতে এক ধুন্ধুমার বিস্ফোরণ ঘটে গেছে। কম্পিউটার প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট ও কেবল টেলিভিশনের অগ্রগতি এবং তথ্যে নিয়ত বেড়ে চলা বৈশ্বিক প্রবেশাধিকার যোগাযোগ জগতে এবং বিশেষত গণমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ যেমন অব্যাহতভাবে বাড়িয়ে তুলেছে, তেমনি বিস্তার ঘটিয়েছে নারী বিষয়ক তথ্যের প্রচার। দৃশ্যের অন্যদিকে, বৈশ্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে সংকীর্ণ বাণিজ্যিক এবং ভোগবাদী উদ্দেশ্যে নারীর গতানুগতিক ছাঁচে ঢালা এবং হতমানকারী ইমেজের পুনরুৎপাদন এবং বিস্তারে। এই মৌল বাস্তবতার সাথে, আমরা যদি সাংবাদিকতায় নারী বিষয় নিয়ে আগাতে চাই, তখন, সাংবাদিকতায় সংবাদের আধেয় হিসেবে নারীর উপস্থাপন এবং গণমাধ্যমে কর্মী, সৃজনশীল উৎপাদক, নীতিনির্ধারক এবং মালিক হিসাবে নারীর অবস্থানকে সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। এই প্রবন্ধে তাই বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় নারী প্রত্যয়টিকে বোঝার জন্য গণমাধ্যম ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়োজিত পূঁজি, শ্রম ও মালিকানার লৈঙ্গিক চরিত্রের সাপেক্ষে নারীর উপস্থাপন ও নারীর অবস্থান নিরুপণ এই দুই বিষয়েই আলোকপাত করা হয়েছে।
গণমাধ্যমে নারী : বৈশ্বিক অবস্থান
সাংবাদিকতায় তথা গণমাধ্যমে নারী যদিও কোন একক প্রত্যয় বা নিরঙ্কুশ অবস্থানকে নির্দেশ করে না, এবং পাশ্চাত্যের সাথে প্রাচ্যের কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যমে নারীর উপস্থাপন এবং নারীর অংশগ্রহণের মাত্রায় রয়েছে বিপুল ফারাক, তবুও মোটা দাগে সব দেশের গণমাধ্যমেই সেই দেশের পুুরুষের তুলনায় নারীর অবস্থান অধস্তনমূলক। এই অধস্তনতার স্বরূপটি উন্মোচন করেছে ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন অব ক্রিশ্চিয়ান চার্চেস নামের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন, বৈশ্বিক মিডিয়া মনিটরিং প্রকল্পের আওতায়, ২০০০ সালের ১ লা ফেব্রুয়ারি, ৭০ টি দেশের গণমাধ্যমের উপর চালানো গবেষণার আলোকে (উদ্ধৃত, খান : ২০০২)। গবেষণায় দেখা যায় :
১। বিশ্বের ৪১ % উপস্থাপক ও সাংবাদিক নারী, অথচ মাত্র ১৮ % সংবাদে নারীর উপস্থিতি দৃশ্যমান। নারীর অংশগ্রহণ যথেষ্ট হলেও সংবাদ আধেয় হিসেবে তার উপস্থিতি খুবই কম।
২। নারী বিষয়ক সংবাদের ১৯% অংশে নারী উপস্থিত হন নির্যাতনের শিকার হিসাবে, যেখানে নির্যাতনের শিকার হিসাবে পুরুষের উপস্থিতি মাত্র ৭% ক্ষেত্রে।
৩। টেলিভিশন-সাংবাদিক-উপস্থাপকদের মধ্যে নারী ৫৬%, রেডিও সাংবাদিক এবং সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের মধ্যে এই হার যথাক্রমে ২৮% এবং ২৬% টেলিভিশন দৃষ্টিনির্ভর মাধ্যম হবার কারণে নারীমুখ এখানে বেশী দেখানো হয়।
৪। টেলিভিশন-সাংবাদিক-উপস্থাপকদের মধ্যে যারা নারী, তাদের অধিকাংশের বয়সসীমা ২০-৩৪। ৫০-এর পর থেকে তারা অদৃশ্যমান হতে থাকেন।
৫। শিল্পসংস্কৃতি ও বিনোদন বিষয়ক সংবাদে নারীকে সবচেয়ে বেশী দেখা যায়, ৩৫%। তারপরই সেলিব্রেটি বিষয়ক সংবাদে, ২৬ %। কিন্তু, রাজনীতি (১২%), আন্তর্জাতিক সংকট (১১%), বা জাতীয় প্রতিরক্ষা বিষয়ে (৬%) তাকে খুব কমই দেখা যায়।
৬। সংবাদ-বিষয় হিসাবে নারীকে কম দেখা গেলেও প্রকাশিত ছবিতে তাকে (২৫%) পুরুষের (১১%) তুলনায় অনেক বেশী দেখা যায়। ‘
দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এই বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ১৯৯৫ সালে বেইজিং-এ অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে যে ক’টি বিষয়কে নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগামিতা নিশ্চিত করার জন্য অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে, গণমাধ্যমে নারীর উপস্থাপন ও অংশগ্রহণ সেগুলোর একটি। বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর এ্যাকশনের ঘোষণায় নারী এবং গণমাধ্যম বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ২৩৪ নং ধারায় ‘তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি একটি বৈশ্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের বিস্তার ঘটিয়েছে’ উল্লেখ করে এই ঘোষণায় ‘নারীর অবস্থানকে এগিয়ে নেবার ব্যাপারে গণমাধ্যমের রয়েছে বিশেষ সম্ভাবনা’- এই মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি উদ্বেগের জায়গাগুলোতেও চিন্থিত করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী ইমেজের ছাঁচে ঢালাইকরণ প্রক্রিয়া এবং যোগাযোগের সকল মাধ্যমে, বিশেষত গণমাধ্যমে প্রবেশাধিকার ও অংশগ্রহণের অসমতাকে উদ্বেগের ক্ষেত্র হিসেবে ধরা হয়েছে এবং এসব উদ্বেগ দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে সম্ভাব্য উপায় চিন্থিত করার মাধ্যমে ২৩৫, ২৩৬, ২৩৭ এবং ২৩৮ ধারায়।
এসব পর্যবেক্ষণ এবং ঘোষিত নীতির বিশেষ গুরুত্ব এখানে যে, কেবল কোন দেশ বা অঞ্চলের সমস্যা নয় এসব, বরং সারা পৃথিবীর সকল নারীর সমস্যা এবং এসব পর্যবেক্ষণ ও ঘোষিত নীতি পৃথিবীর প্রায় সকল প্রান্তের নারীর বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা। তবে শুধু পর্যবেক্ষণ ও নীতি নির্ধারণেই নয়, নীতি বাস্তবায়নের জন্য বহু পর্যায়ের সমান্তরাল কর্ম পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয় এই সনদে। কর্ম পরিকল্পনা, বলাই বাহুল্য, গণমাধ্যমে ‘নারীর উপস্থাপন’ এবং ‘নারীর অংশগ্রহণ’ দুই- এর জন্য পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমে নারীর উপস্থাপন
ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন অব ক্রিশ্চিয়ান চার্চেস (২০০০)- এর প্রকল্পে গণমাধ্যমে নারীর উপস্থাপনের যে বৈশ্বিক চিত্র পাওয়া যায়, মাত্রার হেরফের থাকলেও বাংলাদেশের গণমাধ্যমের মূল প্রবণতা একই।
ক. সংবাদপত্র
সংবাদপত্রে সংবাদ ছাড়াও ফিচার, সম্পাদকীয়, খেলাধূলা, নারীপাতা, অর্থনীতির পাতা, লাইফ স্টাইল, বিনোদন-এসব নানা আয়োজন থাকে। তবে শুরু করা যাক, সংবাদ থেকেই।
ক-১। সংবাদ : গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অবশ্যপাঠ হিসেবে সংবাদের সংজ্ঞা, সংবাদ উপাদান, সংবাদ রসায়ন সম্পর্কে যা পড়তে এবং পরীক্ষার খাতায় লিখতে হয়, তা সম্পূর্ণই পাশ্চাত্য থেকে নেয়া। ফলে পাশ্চাত্যের তাত্ত্বিক বা পেশাদার সাংবাদিকরা সেই যে মান্ধাতার আমলে শিক্ষায়তনিক বিষয় হিসাবে সাংবাদিকতা পাঠ্যক্রম শুরুর কালে যেসব সংজ্ঞা দিয়েছেন, আজও তা মুখস্থ করা হচ্ছে এবং প্রয়োগ করা হচ্ছে। সংবাদের এমনই একটি বিখ্যাত সংজ্ঞা হলো : ”Women, weapin and wrongdoing :sex, money. crime’, ১৯৩০- এর দশকে এ সংজ্ঞাটি দিয়েছিলেন নিউইয়র্ক হেরাল্ড ট্রিবিউন-এর নগর সম্পাদক স্ট্যানলি ওয়াকার। নারী, অর্থ, অপরাধ এই তিনের সাথে নারীকে জুড়ে দিলেই না কি সেটি সংবাদ হয়। বাংলাদেশের সংবাদপত্রেও তাই নারীকে দেখা যায় যৌনতা ও অপরাধের অনুষঙ্গ হিসেবে। এছাড়াও পত্রিকার পাতায় নারী তখনই সংবাদ, যখন সে নির্যাতনের (ধর্ষিত, পালাক্রমে ধর্ষিত, রাতভর ধর্ষিত) বা দুর্ঘটনার অসহায় শিকার ( নারী ও শিশুসহ ৫ জন নিহত), অথবা সরকার থেকে কোন বিশেষ কোটা বা সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে যা সমাজে প্রকৃতপক্ষে নারীর দুর্বল অবস্থানকেই নির্দেশ করে বা কোন বিখ্যাত নারীর ব্যক্তিগত জীবন (বিয়ে করলেন বন্যা মির্জা) কিংবা কোন নারীর কেচ্ছা-কেলেঙ্কারির ঘটনা চাউর হয়েছে ( প্রেমিক বদলের হ্যাট্রিক, ২৮ অক্টোবর ২০০৩, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় একটি বক্স সংবাদ)। বিশেষ করে সংবাদের ‘ত্রিমুখী পরীক্ষা’ অর্থাৎ সংবাদ কভারেজের পরিসর (breadth of coverage) , সংবাদ কভারেজের গভীরতা এবং প্রতিবেদনের লক্ষ্য (story angle ) – এই তিনটি বিষয়ের সাপেক্ষে দেখলে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।
সংবাদ কভারেজের পরিসর (breadth of coverage) বুঝতে দেখতে হবে নারীর কতগুলো প্রেক্ষিতকে সংবাদের আধেয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়? কতবার নারী মূল সংবাদে তথ্যসূত্র হিসাবে উপস্থিত? এবং সামগ্রিকভাবে নারীর স্বার্থ কতখানি প্রতিফলিত- এই তিন প্রশ্নের উত্তরে। সংবাদ কভারেজের গভীরতা (depth of coverage) বোঝা যাবে নারী বিষয়ক সংবাদকে কী ধরণের গুরুত্ব দেয়া হয় তার সাপেক্ষে অর্থাৎ কোন পাতায়, কত কলাম-ইঞ্চি ইত্যাদি থেকে। আর প্রতিবেদনের দৃষ্টিকোণ ( story angle) বলতে প্রতিবেদনটি কোন মতাদর্শ থেকে উপস্থাপিত সেটি বোঝানো হয়।
বাংলাদেশের সংবাদপত্রে নারীর রুপায়ণ নিয়ে এক গবেষণায় শারমিন ও ফেরদৌস (২০০১) কভারেজের পরিসর (breadth of coverage) এবং কভারেজের গভীরতার (depth of coverage) আটটি মৌল প্রবণতা খুঁজে পেয়েছেন।
অদৃশ্যমানতা : নারী বিষয়ক সংবাদের সংখ্যা খুবই কম এবং স্থান বরাদ্দও অত্যন্ত সীমিত। সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় কিংবা চিঠিপত্রেও একই প্রবণতা।
অতিসাধারণীকরণ : সমাজের একটি অংশের কথাকে সবার কথা বলে শনাক্ত করা। যেমন খরায় উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের সমস্যা বলার সময় শুধু পুরুষ কৃষকদের সাক্ষ্যই নেয়া হচ্ছে, নারী কৃষকদের কথা আসে না।
অধিকতর দৃশ্যমানতা : নির্যাতনমূলক এবং দুর্ঘটনার সংবাদের ক্ষেত্রে আবার শুধু সংবাদ নয়, ছবি প্রকাশের অতি আগ্রহও দৃশ্যমান। তাই নারী বিষয়ক খবর, ফিচার বা সম্পাদকীয়ের তুলনায় নারীর ছবি প্রকাশের ঝোঁক লক্ষ্য করা যায়। পুরুষ রাজনৈতিক নেতার খুন বা দিনমজুরের খুন, সব ক্ষেত্রেই বিলাপরত নারীর ছবিই পত্রিকায় স্থান পায়।
অতিবিশেষায়ণ : অর্থনীতি, রাজনীতি, আইন ইত্যাদি বিষয়ে পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে মানবসমাজের দৃষ্টিভঙ্গির অতিসাধারণীকরণ করা হলেও সৌন্দর্য্য, প্রদর্শনী, শিশু পরিচর্যা, গৃহস্থালী এসব বিষয়ে নারীকেই উপস্থাপন করা হয়। পাবলিক পরীক্ষা, মেলা, প্রদর্শনী এসব প্রতিবেদন পুরুষ ক্রেতা-বিক্রেতা, ছাত্র-শিক্ষকের সাথে কথা বল তৈরি করা হলেও এসব সংবাদের সাথে কেবল নারীর ছবিই দেখা যায়।
প্রান্তিকীকরণ : নারী বিষয়ক বাই লাইন সংবাদ থাকে না বললেই চলে। ব্যাখ্যামূলক বা অনুসন্ধানমূলক সংবাদ অনুপস্থিত। ট্রিটমেন্ট-এর দিক থেকে নারীবিষয়ক সংবাদ অবহেলিত, প্রথম পৃষ্ঠায় লিড বা কয়েক কলামব্যাপী সংবাদ ছাপা হয়না বললেই চলে। নির্যাতিত নারীকে প্রায়শই দুশ্চরিত্র প্রমাণের চেষ্টা করা হয়। নারীর রহস্যজনক মৃত্যুকে সূত্র ছাড়াই আত্মহত্যা হিসাবে প্রকাশ করে। প্রথম পৃষ্ঠার নারী বিষয়ক সংবাদ মূলত শহরকেন্দ্রিক।
গৎবাঁধা ধারণা : নারীর বাঁধা চরিত্র অসহায়, নির্যাতিত, পরনির্ভর এবং সব মিলিয়ে গুরুত্বহীন। আর নারী গ্রাহককে মনে করা হয় গৃহসজ্জা, সন্তান পালন, রূপচর্চা এবং রান্নায় আগ্রহী।
পরিবর্তন উপস্থাপনে অনীহা : সংবাদপত্র সহজে কোন পরিবর্তনকে আমলে আনে না। যদিও সংবাদপত্র ও পত্রিকায় নারী বিষয়ক সংবাদের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু ধর্ষণের সংবাদে নির্যাতনের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে এর বিকৃত বর্ণনা (রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ, রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, ‘শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে’ ইত্যাদি, অথচ মামলা হয়েছে কিনা সে’ অংশের বর্ণণা কমই থাকে)।’
এমনকি সংবাদপত্রে নারী সংবাদের কভারেজের পরিসর এবং গভীরতা যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য মাত্রায় থাকার পরও প্রতিবেদনের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে গোটা প্রতিবেদনটি হয়ে উঠতে পারে নারী-দ্বেষী। এবং ক্ষেত্র বিশেষ কতটা পুুরুষতান্ত্রিক হয় তার একটিমাত্র উদাহরণ নীচে দেয়া হলাে :
দেবর-ভাবীর ফাঁসি
লালসার আগুনে ঝলসানো দেবর-ভাবীর অবৈধ প্রেমের বলি হলো দুই অবুঝ শিশু। গতকাল বিচারকের চরম দণ্ড শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল ভাবী আয়েশা ও দেবল শহীদুল। সবাই ঘৃণার চোখে তাকিয়ে দেখছিল দ্বিচারিণী নারীর ছবি। (১৯ মার্চ ২০০৯। দৈনিক যুগান্তর)
ক-২। নারীর পাতা ও অন্যান্য পাতায় নারী
আগেই বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংবাদের উপর ফিচার কিংবা সম্পাদকীয়’র উপস্থিতি কম। সাহিত্য পাতা এখনো মূলত পুরুষ সাহিত্যিকদের দখলে এবং নারী সাহিত্যিকদের লেখা নারী পাতায় ঠেলে দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। খেলাধূলা পাতায় নারীর দৈহিক সৌষ্ঠবের ছবিই ছাপা হয় বেশী তাদের খেলাধূলার দক্ষতা বর্ণনার চেয়ে। অর্থনীতির পাতা মূলত পুরুষক্ষেত্র। লাইফ স্টাইল, বিনোদন-এসব পাতার মূল লক্ষ্য নারী ভোক্তার দৃষ্টি আকর্ষণ।
প্রায় প্রত্যেক সংবাদপত্রেই সপ্তাহে একদিন নারীপাতা প্রকাশ করা হয়। আলম (২০০৪) তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, নারীপাতায় প্রধানত শঞরের (৮৪.২০%), উচ্চ/ উচ্চ মধ্যবিত্ত (৫৩.৪৩%) এবং ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের খবর থাকে (৮২.১৬)। নারীর সমস্যা কেন্দ্রিক সংবাদ থাকে সবচেয়ে বেশি (৩৬.৯২%)। অর্থাৎ নারী পাতায়ও নারীর অসহায়ত্ব এবং গ্ল্যামারই প্রধান উপজীব্য।
মূলধারার সংবাদপত্রে নিয়মিত সম্পাদকীয় কলাম লেখেন, এমন নারীর সংখ্যাও হাতে গোান দুই একজনের বেশী নেই। মুদ্রণ মাধ্যম অনেক বেশী পুরুষতান্ত্রিক এবং নারীর ইমেজ নির্মাণে মূদ্রণমাধ্যম অনেক সূক্ষ্ম কৌশলীও বটে। মূদ্রণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন মূলত পুরুষের গল্প, তাদের দক্ষতা, সংগ্রাম, বেদনা আর সাহসের গল্প। নারীর ন্যারেটিভ গৌণ (secondary) এবং লুকানো (hidden)।
খ. টেলিভিশন
বাংলাদেশে’৯০ দশকের শেষদিক থেকে টেলিভিশন সাংবাদিকতা এবং অনুষ্ঠানে একটি গুণগত ও পরিমাণগত উল্লম্ফন ঘটেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের একচেটিয়া দাপটের পাশে স্থান করে নিয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেল এবং সংবাদ ও অনুষ্ঠানেও এসেছে বৈচিত্র্য, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য যা অপরিহার্য। টেলিভিশনের সংবাদ, টক শো, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, ফোনলাইভ কনসার্ট, নাটক, টেলিফিল্ম, সোপ অপেরা সব ক্ষেত্রেই নারীর সংবাদ, ইমেহ পুন:নির্মাণ এবং অংশগ্রহণের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারীর কাছে বিদ্যমান সমাজ চাহিদা জীইয়ে রাখা বা জোরদার করার সুযোগ। সৌন্দর্য এবং যৌনতাকে কাজে লাগানোর ব্যবসায়িক দিকটির সুযোগ যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে নারী সম্পর্কে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক মিথের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সুযোগও ।
খ-১। টেলিভিশন সংবাদ
যদিও কোন প্রতিনিধিত্বশীল গবেষণা চোখে পড়েনি, তবে পর্যবেক্ষণ থেকে বলা যায়, বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সংবাদে নারী বিষয়ক সংবাদ প্রচারের সংখ্যা, ধরণ সকলই সংবাদপত্রের অনুরুপ। নারী বিষয়ক সংবাদ উপস্থাপনের পরিসর, গভীরতা এবং দৃষ্টিকোণে কোন পরিবর্তন নেই, একটি মাত্র বিষয় ছাড়া। সংবাদপত্রে শহরের উচ্চবিত্ত/উচ্চ মধ্যবিত্ত নারীর পাশাপাশি মফস্বল বা গ্রামীণ মধ্যবিত্ত/নিম্ন মধ্যবিত্ত বা এমনকি গরীব নারীর খবরও খানিকটা হলেও জায়গা করে নিতে পারে, বেসরকারি এসব টেলিভিশনে সে স্বচ্ছতাটুকুও অনুপস্থিত। খুব কমই টেলিভিশনের ক্যামেরা ঢাকার বাইরে যায় বা যেতে পারে। আর যেসব সংবাদের কারণে এসব ক্যামেরা কালেভদ্রে মফস্বলে যায়, তার সবটুকুই পুরুষ পরিমণ্ডলের সংবাদ। গৎবাঁধা বিষয় ছাড়া যেমন নারীর সংবাদ অনুপস্থিত তেমনি নারীর গ্ল্যামার-ভিত্তিক সংবাদের উপস্থাপনও বেশ চোখে পড়ার মত। বিশেষ করে প্রদর্শনী, ফ্যাশন শো, খেলােয়াড় নারীর ছবি।
খ-২। টেলিভিশন টক শো
টেলিভিশন টক শো বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই রাজনীতি এবং সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে সরগরম থাকলেও নারী ইস্যুটি মূলত অনুপস্থিত এবং অতিথি হিসেবেও নারীর উপস্থিতি নেহাত নগণ্য, অনুপাত বড়জোর ৩:১, আসলে যা উপস্থাপককে বিবেচনায় নিলে প্রায়শই ৪:১ হয়ে ওঠে। কিছু রাজনৈতিক টক-শো’র উপস্থাপক নারী হওয়া সত্ত্বেও প্রবণতাটি একই। প্রত্যেকটি চ্যানেলে সংবাদ পর্যালোচনামূলক অনুষ্ঠানও রয়েছে। শেষোক্ত অনুষ্ঠানে নারী অতিথির উপস্থিতি নেই বললেই চলে। কোন কোন চ্যানেলে নারী বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখা যায় । কিন্তু হাতে গোনা দু’ একটি ছাড়া ( যেমন, আরটিভিতে প্রচারিত নারী ও নক্ষত্র) এসব নারী বিষয়ক টক-শো মূলত নাটক বা ফ্যাশন জগতের কোন নারী
সেলিব্রেটিকে বসিয়ে তারকাদের গালগল্প দিয়েই ভর্তি যা মূলত তাদের সৌন্দর্য ও সেলিব্রেটি ইমেজকে উপস্থাপনের মাধ্যমে নারীর প্রকৃত সমস্যা থেকে দূরে সরিয়ে তারকা জগতের মোহে নারীদের আচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা। আসল উদ্দেশ্য তাদের সাজ-পোষাক ও ঘর-সজ্জার জিনিসপত্রের বিপণন, বিপনন ওই তাবৎ সেলিব্রেটি জীবন-ব্যবস্থার।
খ-৩। টক-শো বা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানগুলোতে নারীর প্রাধান্য না থাকলেও নারীদের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি দেখা যায় রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠানে যেখানে অতিথি এবং হোস্ট দুজনেই প্রধানত নারী। এছাড়াও, নারীদের গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রবল উপস্থিতি পাওয়া যায় ফ্যাশন কিংবা সিনেমার গান বা অন্যান্য বিনোদনধর্মী অনুষ্ঠানের সংবাদে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ বলা হয়ে থাকে, নারী-ইমেজের এক চেটিয়া পুরুষ-তুষ্ট উপস্থাপন সম্ভব হচ্ছে নারীর সীমিত অংশগ্রহণের কারণে।
সাধারণ যুক্তি হলাে, পুরুষ নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে নারীর ইমেজ অধঃস্তন হবে, সেটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় সীমিত জানা কথাই, তবে কতটা সীমিত সেটি বোঝা যায় একটি পরিসংখ্যান থেকে। ঢাকা শহরে কর্মরত ১৫০০ সাংবাদিকের মধ্যে নারী সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। অর্থাৎ, মোট সাংবাদিকের চার শতাংশ নারী। (রাজী, ২০০৩)। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে এই অংশগ্রহণ কোন শতকরা হিসাবের মধ্যে পড়ে না। দেশের জাতীয় পর্যায়ের সবগুলো দৈনিক, সাপ্তাহিক ও সাময়িকী মিলিয়ে বর্তমানে বড়জোর তিন-চারজন নারী-সম্পাদক রয়েছেন। প্রাইভেট স্যাটেলাইট চ্যানেলে নারীর অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো হলেও এই হার মাত্র ১% (খান, ২০০৪: ৮৪)। আর স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে নারী সাংবাদিকদের সরব উপস্থিতি থাকলেও রিপোর্টিং-এর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় তাদের উপস্থিতি এখনো কম। ডিসেম্বর ২০০৪ পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী, এটিএন বাংলার পুরুষ-নারী সংবাদকর্মী অনুপাত হলো : রিপোর্টিং (২১:৫), সম্পাদনা (৮:১), উপস্থাপক (২:৭)। এই অনুপাত চ্যানেল আই-এর ক্ষেত্রে রিপোর্টিং (৩০:৬), সম্পাদনা (৯:১), উপস্থাপক (১৬:৫) এবং এনটিভি চ্যানেলের ক্ষেত্রে রিপোর্টিং (১৭:৩), সম্পাদনা (৮:২), উপস্থাপক (৬:১১)। এই অনুপাত অসমতার মধ্যেও আবার তাদের বিট মূলত নারী ও শিশু, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা অন্যান্য সফট বিট। রাজনীতি, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, অপরাধ বা অর্থনৈতিক বিট মুদ্রণ বা ইলেকট্রনিক নির্বিশেষে একচেটিয়া পুরুষবিট।
কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে টেলিভিশন সংবাদে নারীর ভূমিকা মূলত উপস্থাপক বা পাঠকের। তবে মূদ্রণ মাধ্যমের চেয়ে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ অনেক বেশী। বাংলাদেশ বেতারে মোট পদের সংখ্যা ২৬৮৯, অথচ মাত্র ৩২টি পদে নারীরা রয়েছেন (অর্থাৎ ১% – এরও কম)।
আশার কথা, এই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে, যদিও সেই পরিবর্তনের গতি ধীর। দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহারের দ্রুত ব্যাপ্তিতে বেশ কিছু অনলাইন পোর্টাল প্রকাশিত হচ্ছে। সরাসরি নারী বিষয়ক একটি /দু’টি পোর্টাল ছাড়া অন্য পোর্টালগুলিতে সাংবাদিক হিসেবে নারীর অংশগ্রহণ এবং আধেয় হিসাবে নারীর উপস্থাপন মূল ধারার গণমাধ্যমেরই ধারাবাহিকতা। একইসাথে, কোন ধরণের নীতিমালার আওতাধীন না হবার কারণে নারীর উপস্থাপন এবং অংশগ্রহণের অবস্থা আরও নাজুক।
সমস্যাটি কি বিনিয়ােগকৃত পুঁজির লৈঙ্গিক মতাদর্শের!
সাধারণ চিত্র এখনো পর্যন্ত যথেষ্ট হতাশাব্যঞ্জক হওয়া সত্ত্বেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের চকখড়ি মিলিয়ে নেয়া যাক। নারীরা অনেক বেশি মাত্রায় গণমাধ্যমে ঢুকছেন, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রিপোর্টার এবং অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হিসাবে।
নারী-বিষয়ক সংবাদ ক্রমশ অনেক বেশি কভারেজ পাচ্ছে, বিশেষ করে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার খবর। যদিও এসব খবরের মূল প্রবণতা এখনো পর্যন্ত নারীকে সহিংসতার অসহায় শিকার হিসাবে উপস্থাপন, তবে সচেতনতা বাড়ানোর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এসিড নিক্ষেপ বা ইভটিজিং-কে কেন্দ্র করে সকল গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক সন্দেহ নেই। গত সংসদ নির্বাচনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের বিষয়টি গণমাধ্যমে ভালো কভারেজ পেয়েছিল, যেমন পেয়েছে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রসঙ্গে বিতর্ক -কালীন সময়ে।
একটি পত্রিকা অফিস নিজস্ব নীতিমালা প্রনয়ন করেছে জেন্ডার সংবেদনশীল রিপোর্টিং নিশ্চিত করার জন্য, অন্য একটি ম্যাগাজিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের বিজ্ঞাপন না ছাপার।
কিন্তু এই বিচ্ছিন্ন ইতিবাচকতা আমাদের খুব বেশী আশান্বিত করতে পারে না, কারণ এতসব ঘটনা সত্ত্বেওগণমাধ্যমের চরিত্রটি এখনো পর্যন্ত পুরুষতান্ত্রিক- কী মালিকানার ধরণে, কী নারীর উপস্থাপনে কিংবা নারীর অংশগ্রহণে। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের পাশাপাশি প্রবল শক্তিশালী মূলধারা হিসাবে ক্রিয়াশীল রয়েছে নারীর গতানুগতিক, উত্তরোত্তর বেড়ে চলা বাণিজ্যিক এবং যৌন তায়িত উপস্থাপন। নারীর ছবি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় শোভা বর্ধনকারি হিসাবে সংবাদপত্রে কিংবা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। সেই প্রবল ও অবিচ্ছিন্ন প্রবাহের পাশে এই বিচ্ছিন্ন দু’ একটি উদাহরণ এখনো ব্যতিক্রম হিসাবেই দেখতে হবে।
নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক যে পরিবর্তনটি দৃশ্যমান সেটি হলো অনেক সংখ্যক নারীর গণমাধ্যমে কাজ করতে আসা। খেদের বিষয় যে, এই আপাত ইতিবাচক ধারাটি পিএফএ-তে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসাবে পিএফএ’র আকাঙ্খা বা সুপারিশ মেনে হয়নি বরং কর্পোরেট পুঁজির অন্তর্গত অপরিহার্য বাণিজ্যিক তাগিদ থেকে হয়েছে। বাণিজ্যিক তাগিদের কারণেই নারীরা, আরাে সুনির্দিষ্ট করে বললে তরুণ নারীরা, দৃশ্যমান সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নিচ্ছেন। কিন্তু মূদ্রণ মাধ্যম বা নয়া প্রযুক্তিক মাধ্যমে জায়গা করে নিতে পারছেন না নারীরা। এমনকি টেলিভিশন চ্যানেলগুলােতেও, শুরুটা ভালো হলেও glass ceiling effect এর কারণে একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ের পরে নারীরা আর যোগ্য পদে যেতে পারেন না। সম্পাদক/মালিকপক্ষ মনে করেন সাংবাদিকতা পেশাটি নারীর জন্য অনুকূল নয়, রয়েছে নৈশ-শিফট বা মেটারনিটি লিভের ধাক্কা, ফলে নিরাপত্তার অজুহাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নারী সাংবাদিককে না দিয়ে অনেকক্ষেত্রেই কম যোগ্য জুনিয়র পুরুষ সহকর্মীকে পাঠানো হয়, অফিসের বাইরে ট্রেনিং-এর ক্ষেত্রেও নারী সাংবাদিককে পাঠানো হয়না। এই বানানো কাঠামোর মধ্যে পড়ে গণমাধ্যম কর্মী হিসাবে নারীর যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হয়না, এমন অভিযোগ প্রায়শই পাওয়া যায়। সাংবাদিক নারীরা ফের সমস্যায় পড়ে যান সন্তান জন্মদান করার ছুটিতে গিয়ে। অনেকই এ সময়ে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন, বা ফিরে এলে দেখেন সম সাময়িক সাংবাদিকরা অনেকটাই এগিয়ে গেছেন তার চেয়ে। সেই ফাঁকটুকু ভরে ফেলার অবকাশ খুব কম গণমাধ্যম অফিসই দেয়।
২০০০ সালের বৈশ্বিক এক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ‘নারী রিপোর্টার ও উপস্থাপকের সংখ্যা ৪১ % হলেও কেবল নিউজ-আইটেম হিসাবে ১৮% স্থান বা সময় তাদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে।’ (The Global Media Monitoring Project, 2000) এই পরিসংখ্যান থেকে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, সাধারণভাবে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেই গণমাধ্যম জেন্ডার সংবেদনশীল হবে, এমন কোন নিশ্চয়তা দেয়া যায় কিনা। কারণ পশ্চিমা অনেক দেশেই গণমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ যথেষ্ট বাড়লেও সাংবাদিকতায় নারীর উপস্থাপনে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায়না। কিংবা, নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই কি গণমাধ্যমে জেন্ডার সংবেদনশীলতা নিশ্চিত হবে? ‘দৈনিক জনকণ্ঠ-র ফিচার বিভাগের দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত একজন নারী সংবাদ-কর্মীর সাথে আলাপকালে তিনি স্বীকার করেন যে, ঐ পত্রিকায় প্রেম-পরকীয়া প্রেম, র্ধষণ, রহস্যজনক মৃত্যু ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারীর যে ট্রিটমেন্ট তার পত্রিকা করে থাকে, তা নারীর জন্য খুবই অবমাননাকর। তিনি এও স্বীকার করেন যে, তার পত্রিকায় নিউজ ডেস্কের তিনজন শিফট ইন চার্জের মধ্যে দু’জনই নারী ; এরপরও তাঁদের হাত দিয়ে একই ধরণের অবমাননাকর সংবাদ বেরিয়ে যায়, কারণ পত্রিকার কেন্দ্রীয় নীতিই ওভাবে সংবাদগুলো পরিবেশন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে।’ (হক, ২০০৬: ৩১)। এখানে তাই মতাদর্শের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারীও যখন পুরুষতন্ত্রের অন্তর্গত এবং পুরুষতন্ত্রের প্রতিভূ হিসাবে কাজ করে, তখন সেও একজন পুরুষের মতো আচরণ করবে, সেটাই খুব স্বাভাবিক।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই অবস্থা থেকে তাহলে পরিত্রাণের উপায় কী? বেইজিং ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী দেশ বলেই কিন্তু কোন সংগঠন কোন রাষ্ট্রকে বাধ্য করতে পারে না এসব সুপারিশ মেনে চলতে। রাষ্ট্রকে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান এবং মানুষকেই সেই দায়িত্ব নিতে হয় সামগ্রিক শ্রেয়বোধ থেকে। বেইজিং ঘোষণার ২৪ বছর পরে নির্মোহ মূল্যায়ণ শেষে চটজলদি কতক সুপারিশ তাই আবারো করা যায়। জেন্ডার সংবেদনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে আশু যে চ্যালেঞ্জগুলােকে মোকাবেলা করতে হবে সেগুলো হলো :
ক) বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত কোন জেন্ডার সংবেদনশীল সমন্বিত গণমাধ্যম নীতিমালা নেই, যা গণমাধ্যমে জেন্ডার সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে পারতো এবং কোন প্রতিষ্ঠান এর ব্যত্যয় ঘটালে এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হতাে। কাজেই প্রথম প্রয়োজন একটি জেন্ডার সংবেদী গণমাধ্যম নীতিমালার।
খ) গণমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ বিষয়ে গবেষণা প্রয়োজন এবং কেন এতো সীমিত অংশগ্রহণ সেই বিষয়গুলো খুঁজে বের করার সাথে সাথে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ বের করা প্রয়োজন।
গ) জেন্ডার সংবেদনশীল গণমাধ্যম তৈরীর জন্য অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি মোটের উপর জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রনয়ন করা সত্ত্বেও গণমাধ্যমকে অধিকতর জেন্ডার সংবেদী করার ক্ষেত্রে কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি, যে বরাদ্দ দিয়ে জেন্ডার-সংবেদী গণমাধ্যম নীতি প্রনয়ন এবং গণমাধ্যম কর্তা-ব্যক্তিদের জেন্ডার সংবেদী প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হতো।
ঘ) নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সাংবাদিকতার সকল পর্যায়ে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন, সেটি মেয়েদের পাতাই হোক কিংবা হোক নারী-বিষয়ক সংবাদ যা মূলপাতায় এসেছে কিংবা হোক সেটি খেলার সংবাদ। নারীবিষয়ক সংবাদকে সংরক্ষিত মেয়েদের পাতার বিষয় না করে মূল সংবাদে পরিণত করা। একইভাবে ইলেকট্রনিক সাংবাদিকতায়, সব ক্ষেত্রেই নারী বিষয়টিকে আলাদা করে না দেখে মূলধঅরার সকল কাজে তার অংশগ্রহণ ও অর্জনকে তুলে ধরার জন্য নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার কাজ করা।
ঙ) নয়া প্রযুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সরকার, বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান সবার একযোগে কাজ করার বিষয়টি জেন্ডার সংবেদনশীল সমন্বিত গণমাধ্যম নীতিমালার অন্তর্ভূক্ত করা।
চ) গণমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ কিংবা উপস্থাপন – কোন ক্ষেত্রেই সঠিক ছবিটি পাবার জন্য কোন উপায় নেই। গবেষণা নেই বললেই চলে, বিচ্ছিন্ন দু’একটি যে গবেষণা দেখা যায়, যেসব গবেষণা এ’ প্রবন্ধেও উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো মূলত একাডেমিক প্রয়োজনে ব্যক্তি-উদ্যোগে চালানো গবেষণা, ফলে পরিসর অত্যন্ত সীমিত এবং কিছুতেই জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বশীল বলা চলে না। কাজেই সরকারিভাবে তো বটেই, দরকার সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়ের জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম সংস্থার সাহায্য নিয়ে গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ সেল, গণমাধ্যম গবেষনা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা এবং নিয়মিত গবেষনা পরিচালনা করা।
তাত্ত্বিকভাবে এসব কিছু নিশ্চিত হবার পরেও গণমাধ্যম সমাজের বিদ্যমান জেন্ডার বৈষম্যকে সম্পূর্ণ বিলোপ করার কাজে ব্যবহার করবে কিনা, যার দৃশ্যমান প্রভাব পড়বে সংবাদ আধেয়তে কিংবা সাংবাদিকতা পেশায় নারীর অংশগ্রহণের উপর, সেটি প্রধানত নির্ভর করবে গণমাধ্যমের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার চরিত্রের উপর, নিয়োজিত পুঁজির চরিত্রের উপর। নব্বই-এর দশকের শুরুর দিক থেকে সংবাদপত্র এবং শেষদিক থেকে আমাদের দেশে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এসব গণমাধ্যম মূলত ইন্ডাস্ট্রি অর্থে শিল্প ও তথ্যের ব্যবসায় নিয়োজিত। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক ক্ষমতার স্বার্থে এগুলোকে ব্যবহার করা। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রাণ ভোমরা হলো মূলত বহুজাতিক কর্পোরেশনের কাছ থেকে পাওয়া বিজ্ঞাপনের টাকা । তাই মুনাফা নিশ্চিত এবং সর্বোচ্চকরণ করাই এসব মাধ্যমের লক্ষ্য। কাজেই এসব বিজ্ঞাপন পুঁজির লগ্নীতে যেসব গণমাধ্যম কার্যক্রম চালায় সেসব মাধ্যম যে মুনাফা সর্বোচ্চকরণ নিশ্চিত করতে চাইবে, সেটাও অস্বাভাবিক নয়। যদি নারীর অধস্তন ইমেজ বজায় রাখা এবং নারীর সৌন্দর্য ও যৌনতাকে ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করে ব্যবসা নিশ্চিত করা যায়। তবে এসব গণমাধ্যম তাই-ই করবে। নীতিমালার মাধ্যমে সরকারে দৃঘ অবস্থান গ্রহণ ছাড়া এসব গণমাধ্যমকে জেন্ডার সংবেদী করে তোলা কঠিন হবে।
আরেক ধরণের গণমাধ্যম রয়েছে যা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে, অর্থাৎ পাবলিক প্রতিষ্ঠান। যেমন বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন। এসব প্রতিষ্ঠানের জনগণের কাছে জবাবদিহিতার দায় আছে বৈ কি! কিন্তু দু:খজনক যে এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা বোধ না করে দায়বদ্ধতা বোধ করে শুধুই ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে। যে শক্তিটি গণমাধ্যমকে এসব সংবেদী আচরণ পালনে বাধ্য করতে পারে তা হলো একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা এবং জনগণের সতর্ক পাহারা।যারা সাংবাদিকতায় আছেন, জেন্ডার সংবেদনশীল আচরণের প্রচার চান গণমাধ্যমে তাদের মধ্যে নেটওয়ার্কের প্রয়োজন রয়েছে। নেটওয়ার্কের প্রয়োজন আছে যারা সাংবাদিকতায় নারীর অব্যাহত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চান, তাঁদের মাঝে। নেটওয়ার্কের প্রয়োজন রয়েছে জেন্ডার সংবেদী মানুষদের মাঝে, অ্যাক্টিভিস্টদের মাঝে, যেনো গণমাধ্যম যেখানে ব্যত্যয় ঘটায়, সেইখানে জনপ্রতিরােধ গড়ে ওঠে। এসব নীতিমালা এবং মানুষের সচেতন প্রতিরোধ সত্ত্বেও গণমাধ্যম সম্পূর্ণ জেন্ডার সংবেদী না-ও হতে পারে, যতক্ষণ না এসব প্রতিষ্ঠানের উপর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা হয়, যেটি সম্ভব কেবল একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশে। কাজেই গণমাধ্যমে জেন্ডার সংবেদী অংশগ্রহণ এবং জেন্ডার সংবেদী আধেয় উপস্থাপন আসলে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার লড়াই যেমন একদিকে, অন্যদিকে একটি দীর্ঘমেয়াদী সাংষ্কৃতিক লড়াইও বটে। তবে সবচেয়ে বড় লড়াই হলো তথা কথিত সর্বগ্রাসী বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা কেননা শেষ পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান কর্পোরেট পুঁজির মুনাফার কাছেই সমর্পিত। সর্ষের মধ্যে এই ভূতটির কথা বেইজিং ঘোষণাতেও অনুপস্থিত। তবুও, সাংবাদিক নারীদের অবিরত পথচলার ভেতর দিয়ে, কর্পোরেট পুঁজির দৌরাত্ম- পুরুষতান্ত্রিক জগদ্দল-হাজারো হেফাজতি পুরুষের তাড়া খেয়ে ফিনিক্স পাখির মতো যখন ঘুরে দাঁড়ান একেক জন নাদিয়া শারমিন, তখন এসব ‘উনসাংবাদিকের’ চকখড়িতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার নতুন ইতিহাস লেখা হতে থাকে।
তথ্যসূত্র : গায়েন কাবেরী। ২০০৯। ম্যাজিক্যাল শ্যাডোজ: বাংলাদেশি মিডিয়ায় নারী ইমেজের এক বিশ্বস্ত বর্ণনা, কালের খেয়া, দৈনিক সমকাল। ঢাকা।
রাজী, খ. আলী আর। ২০০৩। ”নারী সাংবাদিক : ৩০ বছরের চলচ্চিত্র”। নিরীক্ষা, ১১৭তম সংখ্যা। পিআইবি, ঢাকা।
শারমিন, আরিফা এস. ও ফেরদৌস, রোবায়েত। ২০০১। বাংলাদেশের সংবাদপত্রে জেন্ডার সংবেদনশীলতা। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ঢাকা।
হক, ফাহমিদুল। ২০০৬। মিডিয়া ও নারী : সিডও পিএফএ এবং বাংলাদেশ। স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, ঢাকা।
The Global Monitoring Project. 2000. উদ্ধৃত, খান, নাঈমুল ইসলাম। ২০০২। জেন্ডার, মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম। বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট জার্নালিজম, ঢাকা।
# লেখক, ড. কাবেরী গায়েন, চেয়ারম্যান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
(লেখাটি বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র’র তৃতীয় জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে স্মরণিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে লাল সবুজের কথা’য় প্রকাশ করা হলো।)
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা