অনলাইন ডেস্ক
কামিনসের সঙ্গে অন্য দুই পেসার মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড বারুদ বোলিং করলে ৫০.১ ওভারে মাত্র ১৪৭ রানেই অলআউট হয়ে গেছে ইংল্যান্ড। প্রায় ২৯ বছরের বেশি সময় পর অধিনায়ক হিসেবে অ্যাশেজ টেস্টে ফাইফার নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন কামিনস। ম্যাচটিতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথম বলেই বাঁহাতি ওপেনার ররি বার্নসকে সাজঘরের টিকিট ধরিয়ে দেন বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। ডেলিভারিটি ছিল লেগস্ট্যাম্পে অনেকটা হাফ ভলি ধরনের। কিন্তু বার্নস আগেই অফস্ট্যাম্পের দিকে সরে যাওয়ায় সেটি আর আয়ত্বে পাননি।
ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে, বল আঘাত হেনেছে লেগ স্ট্যাম্পে। প্রথম বলেই উইকেট হারিয়ে শুরু হয় ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ। ১৯৩৬ সালের পর এবারই প্রথম কোনো অ্যাশেজ টেস্টে ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন স্টার্ক। আর ইংলিশ ওপেনার বার্নস গড়েছেন একই বছরে সর্বোচ্চ ছয়বার শূন্য রানে আউট হওয়ার বিব্রতকর রেকর্ড।
ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট পতনের ঠিক পরের বলেই চার মেরে পাল্টা জবাব দেওয়ার বার্তা দিয়ে রাখেন ডেভিড মালান। কিন্তু তাকে বেশিক্ষণ থাকতে দেননি জশ হ্যাজলউড।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ঠিক কপিবুক স্টাইলে মালানকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন হ্যাজলউড। অভিষেকে নিজের প্রথম ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারে। হ্যাজলউড নিজের পরের ওভারে ইংল্যান্ডকে আরও বড় ধাক্কাটি দেন।
ফর্মের চূড়ায় থেকেই অ্যাশেজ শুরু করেছেন রুট। কিন্তু প্রথম ম্যাচে তাকে সেই ফর্মের ঝলক দেখাতে দেননি হ্যাজলউড। দারুণ সেট আপ করে রুটকে প্রথম স্লিপে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ বানান অসি পেসার। রানের খাতাই খুলতে পারেননি ইংলিশ অধিনায়ক। মাত্র ১১ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে তখন গভীর খাঁদে ইংল্যান্ড। তাদের বিপদ আরও বাড়ে ইনিংসের ১৩তম ওভারে বেন স্টোকসের বিদায়ে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে প্রথম উইকেট শিকার করেন প্যাট কামিনস। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে ৫ রান করা স্টোকসের ক্যাচটি ধরেন মার্নাস লাবুশেন।
পঞ্চম উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন ওপেনার হাসিব হামিদ ও ওলি পোপ। দুজনের ১৪ ওভারে করা ৩১ রানের জুটি ভাঙেন কামিনস। মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্রথম ওভারেই ২৫ রান করা হামিদকে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন অসি অধিনায়ক।
এরপর পাল্টা আক্রমণের দিকেই ঝুঁকেন ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক ব্যাটার জস বাটলার। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে চোখের পলকেই দলীয় একশ হয়ে যায় ইংলিশদের। পোপের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৫২ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন বাটলার। তার ব্যাট থেকে আসে ৫৮ বলে ৩৯ রানের ইনিংস।
বাটলারের বিদায়ের পর ভাঙে পোপের প্রতিরোধ। দলীয় ১১৮ রানে সপ্তম ব্যাটার হিসেবে ফেরার আগে ৩৫ রান করেন পোপ। এরপর ক্রিস ওকসের ২১ রানের সুবাদে দেড়শ ছুঁইছুঁই সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। ইনিংসের ৫১তম ওভারের প্রথম বলে ওকসকে ফিরিয়েই ইংল্যান্ডকে অলআউট করেন কামিনস।
যার সুবাদে পূরণ হয় তার ফাইফার। অধিনায়কত্বের প্রথম ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নিলেন কামিনস। অ্যাশেজ সিরিজেও এটি তার প্রথম ফাইফার। ১৯৮২ সালে বব উইলিসের পর অ্যাশেজে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ফাইফার নিলেন কামিনস। সবমিলিয়ে অধিনায়কত্বের প্রথম ম্যাচে ফাইফার নেওয়া ১৪তম বোলার কামিনস।
ইংল্যান্ডকে অলআউট করার পথে অধিনায়কের ফাইফার ছাড়াও বড় অবদান ছিল অন্য দুই পেসারের। স্টার্ক ও হ্যাজলউড নিয়েছেন দুই উইকেট। অন্য উইকেট নিয়েছেন ক্যামেরন গ্রিন।
fblsk
পরবর্তী মন্তব্যের জন্য আপনার নাম,ইমেইল,ওয়েবসাইট ব্রাউজারে সংরক্ষণ করুণ
সম্পাদকঃ
বিডিবিএল ভবন ( লেভেল - ৮) ১২ কারওয়ান বাজার সি/এ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৪ পাওয়ার্ড বাই লালসবুজের কথা